বাংলাদেশ নামীয় এমন কোনো সাম্রাজ্যের স্বপ্ন আমি দেখি না, যেখানে সূর্য অস্ত যায় না। এই স্বপ্ন অবশ্য দেখতেন আমাদের এককালের ঔপনিবেশিক প্রভুরা। স্বাদেশিকতা ও জাতীয়তাবাদের উদগ্র উন্মাদনায় বিশ^জয়ের দুরাচারী বাসনা আমার মনে জাগে না কস্মিনকালেও। যতদূর জানি, জাগেনি আমার কোনো পূর্বপুরুষের মনেও। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, এই গাঙ্গেয় অববাহিকায় সমুদ্রের দিগন্তবিস্তারী তরঙ্গকে মান্য করে বিস্তৃত হয়েছে যে পললভূমি, তাতে যুগ-যুগান্তের মিশ্রণজাত বিবর্তনের মাধ্যমে বিকশিত হয়েছে তামাটে মানুষ; তারা শ্রমী, দ্রোহী, প্রেমীকিন্তু কোনোক্রমেই আগ্রাসী নয়। তারা দুর্বিজিত অবশ্যই, কেননা মহাবীর আলেকজান্ডার থেকে শুরু করে আর কোনো আগ্রাসী বিশ্বজয়ী এই মাটি ও জনগোষ্ঠীকে চিরকাল পদানত রাখতে পারেনি। এ মাটি অবশ্যই দুর্জয় ঘাঁটি। পাশাপাশি সত্য এ কথাও যে, ভূমি ও সম্পদ সম্প্রসারণের লোভে আমরা আর কারো ভিটেবাড়ি দখল করার অশ্বমেধ যজ্ঞেও আগ্রহী হইনি। তবে আমরা নিরাপদ থাকতে চাই আমাদের ঘরে, আমাদের নিকোনো উঠোনে, রাতে চাঁদ দিনে সূর্য নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে চাই ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি-গোত্র-ধনিক-বণিক শ্রমিক জনতার মধ্যে ভারসাম্যময় সহাবস্থানকে অবশ্যমান্য জেনে। বিশ্বজয়ের স্বপ্ন নয়, আমার সীমিত সাধ, সাধ্য ও সাধনার সর্বোত্তম প্রয়োগ ঘটিয়ে আমি স্বপ্ন দেখি এমন এক মানবিক ও নান্দনিক বাংলাদেশের, মানব-ঐক্যের সংগ্রামে যার ভূমিকা হবে পৃথিবীতে শীর্ষ¯স্থানীয়। বাঙালির হাজার বছরের লৌকিক দর্শন ও মানসবিবর্তন আমাকে এই সহজ স্বপ্নটি দেখার প্রেরণা যুগিয়েছে। আর সাহস যুগিয়েছে আমার মুক্তিযুদ্ধ, চূড়ান্তপর্বে বাঙালির জাতিরাষ্ট্র গঠনে যার ভূমিকা সর্বাধিক তাৎপর্যপূর্ণ ও নির্ণায়ক।
ভাতে মাছে সন্তুষ্ট বাঙালিরও এককালে গোলাভরা ধান আর পুকুরভরা মাছ ছিল। এখনো যে নেই এমন নয়। তবে তা আমার জনগোষ্ঠীর তুলনায় অপ্রতুল। কিন্তু জ্ঞানবিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে আমি এও জেনেছি, আর শিখছি প্রতিদিন নতুন করে, আমার এই সীমিত ভূখণ্ডের আকাশে, বাতাসে, পাতালে, সমুদ্রে, জলে-স্থলে যে সম্পদ সঞ্চিত আছে, তা অফুরন্ত। তার উপর আমি আমার সার্বভৌম দখল প্রতিষ্ঠা করে আমি যদি আমার ও বিশ্বমানবের কল্যাণে তাকে পর্যায়ক্রমে কাজে লাগাতে পারি, আমি যদি অবাধ তথ্যপ্রবাহের সুযোগ নিয়ে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে যেতে পারি, বাংলাদেশ তার অতীতলীন কিংবদন্তী পুনরুদ্ধার করে একটি প্রাগ্রসর অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হতে পারে। আমি স্বপ্ন দেখি, বাংলাদেশ তার মানবমেধা ও প্রাকৃতিক সম্পদ সুপরিকল্পিতভাবে কাজে লাগিয়ে একবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধের মধ্যেই বিশ্বের একটি সচ্ছল অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে বিকশিত হোক। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বাংলাদেশ যেন বিশ^মানবের কল্যাণে তার সাহায্যে হাত সম্প্রসারিত করতে পারে। আধিপত্যবাদ নয়, সহযোগিতা, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানই হোক আমাদের বেড়ে-ওঠার সুশীল মন্ত্র।
আমি জানি, আমার এই আটপৌরে স্বপ্নটিও স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়োত্তর সামাজিক-রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। কেননা মুক্তিযুদ্ধোত্তর বাঙালির চার দশকের ইতিহাস মূলত গণবাঙালির সামষ্টিক স্বার্থের পরিপš’ী আকু-য়ন, গণতন্ত্রের সামরিকায়ন, ক্ষমতাদখল, দলীয়করণ ও ব্যক্তিস্বার্থের অসম বাস্তবায়নের ইতিহাস। আমরা জাতির জনককে হত্যা করেছি, মুক্তিযোদ্ধাসহ আমাদের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করেছি, আমরা আমাদের লোকশ্রুত সম্প্রীতি, অসাম্প্রদায়িকতা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার বিনাশ ঘটিয়েছি। গণতন্ত্রের বাতাবরণে আমরা ক্ষমতাতন্ত্রের চর্চা করেছি, অবৈধ পথে অমিত সম্পদ কুক্ষিগত করার জন্য আমরা সকল সুনীতিকে বিসর্জন দিয়ে সর্বাধিক দুর্নীতির চর্চা করেছি। আর পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দুর্নীতিবাজ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছি। তাই কখনো কখনো নিজেকেই প্রশ্ন করেছি, সহজতম কোনো ভালো স্বপ্ন দেখার অধিকারও আমাদের আছে কিনা। পটপরিবর্তনের প্রথমলগ্নে আমাদের ত্রাতা ও নেতাদের কণ্ঠে আপ্ত বুলি শুনে আশ্বস্ত হয়েছি : হ্যাঁ, আছে বৈকি। কিš‘ পরক্ষণেই তাদের বাস্তব কর্মকা- দেখে বিব্রত হয়েছি। নিজেকে গুটিয়ে নেবার কথা ভেবেছি। মনে মনে আউড়ে গেছি স্বরচিত পঙ্ক্তি, ‘গুটিয়ে যাও গুটিয়ে গেলেই সুখ, রোদ-দুপুরে পুড়বে না আর বুক’।
আমি জানি, আশাভঙ্গ আর হতাশাই সভ্যতার ইতিহাসের একমাত্র সত্য নয়। আমার সৃষ্টিকল্পনা আমাকে প্রতিটি হতাশাময় সূর্যাস্তের পর আরেকটি অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী হতে প্রলুব্ধ করে। আমি কবি, আমি তাই চরম স্বপ্নভঙ্গের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আরেকটি স্বপ্নোদয়ের প্রতীক্ষায় থাকি। বাংলাদেশের সামাজিক-রাজনৈতিক-গণতান্ত্রিক ইতিহাসের সাম্প্রতিককম পটপরিবর্তন আমাকে আবার সেই দুর্জয় স্বপ্নসাধনায় অগ্নিগর্ভ করেছে। হাজার বছরের বাঙালির মানস-বিবর্তনের যে শ্রেষ্ঠ অর্জন মুক্তিযুদ্ধবাহিত স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ, তারই সপক্ষ শক্তি আবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় সমাসীন। গণরায়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে বর্তমান সরকার। এবার কি স্বপ্ন দেখবো না আরেক মুক্তিযুদ্ধের, আরেক বিজয়ের? এই মুক্তিযুদ্ধ হোক আমাদের সকল বিভদে ও বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত হয়ে পরিপূর্ণ বাঙালি হওয়ার মুক্তিযুদ্ধ, এবারের বিজয় হোক বাংলা ও বাঙালির স্থিতিশীলতার বিজয়। এ শুধু স্বপ্ন নয়, এ প্রতিজ্ঞাও বটে। আর এই স্বপ্নপ্রতিজ্ঞার বাস্তবায়নের জন্য চাই জাতীয় ঐকমত্য, আস্থা, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন। সর্বাগ্রে অবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে ক্ষমতাসীন সরকারকে। তবে বিরোধীদলের ভুমিকাও অবশ্যমান্য। যে অবিশ্বাস ও আস্থাহীনতা জাতিকে চরম বিভক্তি ও বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে, যে কোনো মূল্যে তার অবসান চাই। ব্যক্তির স্বপ্ন ও সামষ্টিক স্বপ্ন এক না হলে জাতি এগিয়ে যেতে পারে না। ব্যক্তিক ও দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সকল জাতীয় ইস্যুতে সংসদে ও সংসদের বাইরে সর্বস্তরের জনগণের মতামতের ভিত্তিতে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত না হলে আমাদের সব স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে। আমাদের ধারণা, এই ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে জনগণের সর্বস্তরে যে ধারণাটির বিকাশ ঘটাতে হবে সেটা হলো স্বেচ্ছাশৃঙ্খলা। এই স্বেচ্ছাশৃঙ্খলা একং ব্যক্তির বিবেকেরই ইতিবাচক সদিচ্ছা।
বাঙালি, বিশেষত লোকবাঙালি, অর্থাৎ শ্রমিক-কৃষক-মেহনতী জনতা জন্মগতভাবেই ইতিবাচক ও স্বেচ্ছাশৃঙ্খলাপরায়ণ। তাদের স্বপ্ন আমার মতোই আটপৌরে। তারা অন্যের বাড়াভাতে পা দিতে চায় না। তবে নিজের ঘরে শান্তিতে থাকতে চায়। তাই কখনো কখনো লোকবাঙালির পরিচয় ঘটেছে আপোসকামী হিসেবেও। আপোষ অবশ্যই এক ধরনের মধ্যপন্থা। এই আপোস বা মধ্যপন্থা আছে তার জাতীয় চরিত্রে আর সংস্কৃতিতেও। বৈপরীত্যের মধ্যে ঐক্য বা বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য যা-ই বলি না কেন এই ঐক্যের উৎস-সূত্র এক, অভিন্ন ও ন্যূনতম সমরূপতার সন্ধান। আমরা যখন মানব-ঐক্যের কথা বলি, তখনো আসলে এ ধরনের ন্যূনতম সমরূপতার কথাই বলি। এই পথে যারা পা বাড়াতে চায়, তারা কুশলী ও শান্তিপ্রিয়কিš‘ ভীরু নয় কোনো ব্যাখ্যাই। তাই বাঙালির প্রতি ভীরুতার অপবাদও একপেশে। মুক্তিযুদ্ধ প্রমাণ করেছে লোকবাঙালি, যেমন তারামন বিবি কিংবা বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান, স্বদেশের জন্য জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করতে জানে। আপন প্রাণের বিনিময়ে বাঙালির অর্জিত স্বাধীনতা বাঙালিকে বিশ্বের এক শ্রেষ্ঠ সাহসী জাতিতে উন্নীত করেছে। বাঙালির ত্যাগী চরিত্রই তাকে তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দেবে। ফলে লোকবাঙালি যেমন স্বেচ্ছাশৃঙ্খলাপরায়ণ, তেমনি মরণজয়ী মুক্তিযোদ্ধা। বাঙালি শাসকসম্প্রদায়ের মধ্যেও এই স্বেচ্ছাশৃঙ্খলা, ন্যায়বোধ ও গণকল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাতে হবে। তাহলে তারা নিজেরা দুর্নীতিমুক্ত ও সুনীতিযুক্ত হওয়ার দৃষ্টান্ত দেখাতে পারবে। আমি স্বপ্ন দেখি, তেমন এক বাংলাদেশের যেখানে শাসক আর শাসিতের মধ্যে সম্পদগত, জীবনাচরণগত ও অহমিকাগত দূরত্ব থাকবে ন্যূনতম। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি জনগণের সেবক, জনগণের প্রভু নন। দুজনের মধ্যে যে সম্পর্ক তা শ্রদ্ধার, সম্মানের, ভালোবাসার ও অভিন্ন মানসিকতার। এই সম্পর্ক না-ভয়ের, না-প্রতিপত্তির, না-অধিপত্যের। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এই গুণগত বদল সম্পন্ন হওয়ার পূর্বপর্যন্ত যতই আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটুক, তার সুফল লোকবাঙালির ঘরে পৌঁছাবে না। কৃষক তার ধানের ন্যায্য দাম পাবে না। অন্যদিকে ক্ষমতাবান মধ্যস্বত্বলোভী দ্রুততম সময়ে হাজার কোটি টাকার মালিক বনে যাবে। ছেঁড়া বাক্সের মালিকের উত্তরসূরি দেশ-বিদেশের ব্যাংকে সম্পদের পাহাড় গড়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের বিস্ময়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। গত চার দশক ক্ষমতার পায়ে পায়ে ঘুরঘুর করে কতজন শূন্য থেকে কোটিপতি হয়েছেন তার হিসাব নেয়া যেতে পারে। ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-খুলনাসহ দেশের দ্রুত বর্ধনশীল নগরগুলোর গাড়ি-বাড়ি-জমির মালিকদের দিকে তাকালেই বিষয়টা স্পষ্ট হয়ে উঠবে। অন্যদিকে গণবাঙালির ভাগ্যের খুব বেশি পরিবর্তন হয়েছেন বলে মানা যাবে না। বাংলাদেশে প্রতিদিনই কোটিপতির সংখ্যা বাড়ছে অর্থাৎ সেই চিরাচরিত মীমাংসা : শ্রেয়োবাধহীন ও অসম বণ্টনপুষ্ট সমাজে ধনী আরো ধনী হবে, গরিব আরো গরিব হবে। আমার স্বপ্ন বাংলাদেশে সমবণ্টনে ও শ্রেয়বোধের তৃণমূলীয় চর্চা ও বাস্তবায়ন, যার ফলে বাংলাদেশ আর্থিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি প্রকৃত মঙ্গলরাষ্ট্রে রূপান্তরিত হতে পারে।
সবশেষে বলবো মানুষের কথা, মানুষ-বাঙালির কথা। ধর্ম-বর্ণ-গোত্র ও লিঙ্গভেদের ঊর্ধ্বে উঠে বাঙালি পুরোপুরি সংসারী হয়ে উঠুক। সংসারী মানুষই চিরকাল টিকে থাকে এই বিশ^সংসারে। একজন অনিকেত লালন অবশ্যই মানুষের সৃষ্টিশীলতার এক দূরাতিক্রমনীয় উদাহরণ। তেমন উদাহরণ আমাদের সমাজে আসবে ব্যতিক্রম হয়ে। তবে বারবার আসবে না। কেননা প্রতিভার এমন মহাজাগতিক সুঘটনা যখন তখন ঘটে না। কিন্তু প্রতিটি মানুষ তার আপন আপন সাধনায় কর্মযোগী ধ্যানযোগী অনন্য মানুষে পরিণত হতে পারে। স্মরণ করি তেমন একজন লোকবাঙালির কথা, যিনি তৃণমূলীয় শুরু থেকে উঠে এসে ব্যক্তির অসীম সম্ভাবনা ও তার বাস্তবায়নের কথা বলেছিলেন। বাঙালিকে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও জাতিগত স্বাধীনতার মন্ত্র শিখিয়েছেন। বাঙালির তৃণমূলীয় ভূমিসন্তান নজরুল যথার্থই বলেছিলেন, ‘আমার আমি যে কত অতল অসীম, আমি কি জানি, কে জানে কে আছে আমাতেই মহামহিম।’ সেইসঙ্গে বলেছিলেন, নর-নারীর সমঅধিকার ও ভারসাম্যময় জীবনযাপনের কথা। আমার স্বপ্ন, বাঙালি নজরুলের কল্পনাধৃত সেই অমিত সম্ভাবনাময় ব্যক্তিমানুষ ও জাতিমানুষে পরিণত হোক। তাহলেই কেবল জাতিরাষ্ট্র এই বাংলাদেশ আমার স্বপ্নের দিগন্ত ছুঁয়ে তাকে অতিক্রম করার স্পর্ধা দেখাতে সাহসী হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
