কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলা ও পাশ্ববর্তী হাওর জনপদ নিকলী। বহু বছর আগে থেকেই গ্রাম বাংলার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের রান্নার জ্বালানি হচ্ছে গোবরের চটা- বৈঠা৷ লাকড়ি ও গ্যাসের পরিবর্তে মানুষ এখনো এটিকে জ্বালানি হিসাবে ব্যাবহার করছেন।
পাটকাঠি কিংবা বাঁশের শলায় গোবর মুঠিয়ে লাঠির মত করে সাজিয়ে রোদে শুকিয়ে রান্নার কাজে ব্যবহার করা লাকড়ি।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার ধারে বাড়ির আঙ্গিনায় গৃহবধূরা পাটকাঠি কিংবা বাঁশের শলায় গোবর মুঠিয়ে লাঠির মতো করে সাজিয়ে রোদ রান্নার কাজে লাকড়ি হিসেবে ব্যবহার করেন।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার পাশে ও বাড়ির সামনে সারিবদ্ধভাবে রোদে দিচ্ছে এসব জ্বালানি উপকরণ। এ গুলো শুকিয়ে রান্নার কাজে ব্যাবহার হয়। গোবরের তৈরি এ লাকড়ি চুলায় দাউ দাউ করে জ্বলে বলে জানান গৃহবধূরা। কটিয়াদীর কারগাও, বনগ্রাম, চান্দপুর, মানিকখালী, ভুনা,মসূয়া, গচিহাটা,মুমুরদিয়া সহ কমবেশি সব এলাকাতে দরিদ্র মানুষেরা যুগ যুগ ধরে এটি ব্যাবহার করে আসছেন। নিকলী সদর, দামপাড়া সহ সবখানেই এর ব্যাবহার বেশি৷ এছাড়াও জেলার তাড়াইল, মিঠামইন, ইটনা, অষ্টগ্রাম, বাজিতপুর অঞ্চলে এর অধিক ব্যাবহার হয়।
কটিয়াদীর আচমিতা ইউনিয়নের ভিটাদিয়া এলাকায় সড়কের পাশে স্থানীয় ভাষায় মুইঠ্যা ( গোবর দিয়ে তৈরি লাঠি) এ লাকড়ি রোদে দিচ্ছেন গৃহবধূ আকলিমা৷ আকলিমা (৩৫) বলেন,' মাত্র চার থেকে আটটি কাঠি দিয়ে অনায়াসে ভাত তরকারি রান্না করা যায়। এ কাঠি দিয়ে রান্না করে গৃহিনীরা খুব স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। চুলায় দিলে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে জ্বলতে থাকে। এসময় গৃহিণীরা হাতের অন্যান্য কাজও সেরে নিতে পারেন।
একই এলাকার গৃহবধূ রাবিয়া বলেন, জ্বালানি সংকট ও গ্যাসের দর বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রস্তুতি হিসেবে ‘বর্ষা মৌসুমে গোবর সংগ্রহ করে গর্তে জমিয়ে রাখি। শীতকালে মুইঠ্যা (মুঠি) তৈরি করে মাঠে শুকাই। লাকড়ির অনেক দর থাকায় প্রায় সারাবছরই মুইঠ্যা (মুঠি) দিয়ে রান্না করতে হয়। আমরা শুকনো মৌসুমে মুঠি তৈরি করে শুকিয়ে ঘরে মজুদ করে রেখে দেই। বর্ষাকালে লাকড়ির খুব অভাব হয়। এ সময় কাঠের লাকড়ি ও সিলিন্ডার কেনার মত টাকা থাকেনা। শুকনো ঝরা পাতাও পাওয়া যায় না। এ দু:সময়ে মুইঠ্যা (মুঠি) অনেক উপকারে আসে।'
চান্দপুর ইউপির মানিকখালী ভুনা এলাকার বৃদ্ধা আমেনা বিবি বলেন, ‘গ্যাসের দাম বেশি। এখন আমরা সিলিন্ডার কিনতে পারি না। তাই গরুর গোবর দিয়ে ব্যানা দেই। এগুলো শুকিয়ে গেলে তা দিয়ে রান্না করি।’
যেসব উপকরণে তৈরি এই চটা-বৈঠা
গরুর গোবর, ধানের কুড়া ও খড়, বাঁশের চটি আর পাটখড়ি হলেই তৈরি করা যায় এসব জ্বালানি। প্রথমে ধানের খড় গোল করে বিছিয়ে দুপাশে গোবর লেপন দিয়ে তৈরি হয় চটা। পরে রোদে ভালো করে শুকিয়ে স্তূপ করে রাখা হয়। এরপর এগুলো কেটে টুকরা টুকরা করে চুলায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আরেকটিকে বলা হয় ‘গুমুট’। গোবরের সঙ্গে ধানের কুড়া মিশিয়ে একটি বাঁশের কাঠি বা পাট খড়ির সঙ্গে মুষ্টি লেপন দিয়ে তৈরি হয় ব্যানা। এরপর রোদে ভালো করে শুকিয়ে নিতে হয়। শুকিয়ে গেলেই ব্যবহার করা যায় জ্বালানি হিসেবে। এসব জ্বালানি দিয়ে আগুন ভালো জ্বলে। খাবারেও বাড়তি স্বাদ মেলে বলে ধারণা গ্রামবাসীর। জ্বালানি শেষে এ থেকে বের হওয়া ছাই ফসলের জমিতে ব্যবহার করা হয়। এটি একই সঙ্গে উৎকৃষ্ট সার ও পোকা দমনেও ভূমিকা রাখে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
