× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

পাকিস্তান বনাম রাষ্ট্রভাষা বাংলা

রঞ্জন মল্লিক

১০ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৫:৪০ এএম । আপডেটঃ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৬:৫৪ এএম

পাকিস্তান রাষ্ট্র ধর্মের ভিত্তিতে জন্ম নেয় ১৯৪৭-এর ১৪ আগস্ট। বিংশ শতাব্দীতে ধর্মকে কেন্দ্র করে ব্রিটিশ ভারত থেকে ভারত ও পাকিস্তানের জন্ম অনেকটাই হাস্যকর। ইউরোপে চৌদ্দদশ শতকে যেখানে রেনেসাঁসের আবির্ভার ঘটে এবং ধর্মরাষ্ট্র থেকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের দিকে অগ্রসর হয় সেখানে বিংশ শতাব্দীতে এসে ধর্মকেন্দ্রিক রাষ্ট্র ছিল সত্যিকার অর্থে হাস্যকর। এই রাষ্ট্রে পাকিস্তান আবার দুটি অংশে বিভক্ত পূর্ব ও পশ্চিম ভৌগোলিকভাবে পূর্ব পাকিস্তানের দূরত্ব পশ্চিম পাকিস্তান থেকে বারোশ’ মাইল। দুই ভূখণ্ডের মধ্যে একমাত্র ইসলাম ধর্ম ছাড়া ৭০ শতাংশ  মুসলিম জনগণের মধ্যে আর কোনো মিল ছিল না। বাকি ৩০ শতাংশ ছিল হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও আদিবাসী সম্প্রদায়ভুক্ত জনগণ। পূর্ব পাকিস্তান তথা পূর্ববঙ্গের মানুষের ৯৯ শতাংশের মাতৃভাষা বাংলা। হাজারো বছর ধরে পূর্ববঙ্গের মানুষ এ ভাষায় কথা বলছে। ভাষার সাথে নদীনালা, খালবিল এবং দিগন্তবিস্তৃত ধানখেত বাঙালি সংস্কৃতির এক অবি”েছদ্য অংশ। পাকিস্তানের জনসংখ্যা ছিল তখন প্রায় সাড়ে ছয় কোটি, যার মধ্যে পূর্ববঙ্গের জনসংখ্যা ছিল প্রায় চার কোটি। ইউরোপ যখন রেনেসাঁসের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে অনেক দূর অগ্রসর হয়ে গেছে সে সময় বিংশ শতাব্দীতে এসে ভাষার ভিত্তিতে দেশ ভাগ না করে ধর্মের ভিত্তিতে দেশ ভাগ পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মদাতা জিন্নাহর রাজনৈতিক অবিবেচকের পরিচয় বহন করে।

এরপর সংখ্যাগুরু পূর্ববাংলার জনমতকে তোয়াক্কা না করে, রাষ্ট্রভাষা উর্দুর পক্ষে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের কার্জন হলে জিন্নাহর ভাষণ, সত্যিকার অর্থে ধৃষ্ঠতার পরিচয় বহন করে। যে উর্দু নিয়ে এতো মাতামাতি সেই উর্দুভাষায় পশ্চিম পাকিস্তানের মাত্র ৪ শতাংশ লোক কথা বলতো। সদ্য জন্ম নেওয়া পাকিস্তান রাষ্ট্রে, রাজভাষা ইংরেজী থেকে মুক্তি পেয়ে আবারও উর্দুর বেড়াজালে জড়িয়ে পড়ছে পূর্ববাংলা। পুনরায় বাংলা পরাধীনতার শৃঙ্খলে পড়ছে - এমতাবস্থায় পরিত্রাণের পথ দেখায় পূর্ব বাংলার ছাত্র সমাজ। এ সময় আন্দোলনের  দায়িত্বে ছিল ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র সমাজ। ছাত্র সমাজ বুঝতে পেরেছিল মুসলিম ব্রাদার হুড দিয়ে আর যাই হোক না কেন, নিজেকে বিকিয়ে দেওয়া যায় না, প্রাণপ্রিয় মাতৃভাষাকে মেরে ফেলা যায় না। ছাত্রদের দৃঢ় প্রতিজ্ঞা: এনাফ ইজ এনাফ- এবার আমাদের ভাগ্য আমাদেরকেই গড়তে দাও।

ফিরে দেখি: পাকিস্তান রাষ্ট্র- জন্মের ইতিহাসে গলদ কোথয়? প্রকৃতপক্ষে পাকিস্তান রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা কবি ইকবাল ১৯৩০ সালে উত্তর-পশ্চিম ভারতে মুসলমানদের জন্য একটি স্বায়েত্ব শাসিত অঞ্চলের স্বপ্ন দেখেছিলেন। উত্তর-পশ্চিম ভারত বলতে তিনি পাঞ্জাব, উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ, সিন্ধু ও বেলুচিস্তানকে বুঝিয়েছিলেন। মুসলিম প্রধান পূর্ব বাংলা বা বাংলাদেশ তার চিন্তায় ছিল না। ইকবাল ঠিক সাম্প্রদায়িকতার দৃষ্টিতে বিষয়টি চিন্তা করেননি, কারণ তিনি নিজে সাম্প্রদায়িক ছিলেন না, তাঁর জীবন দর্শন ছিল প্রাশ্চাত্যের চরম ব¯‘বাদ ও প্রাচ্যের চরম অদৃষ্টবাদের সন্মিলনে গড়া। ইকবাল একটি স্বাধীন দেশের কথা বলেছিলেন এমনও নয়। তিনি বলেছিলেন, এটা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের আওতায় হোক কিংবা আওয়তা বহিভূত হোক আপত্তি নেই। তবে স্বায়েত্ব শাসিত হবে একথা তিনি উল্লেখ করেছিলেন।

১৯৩৩ সালে লন্ডনে চৌধুরী রহমত আলীর নেতৃত্বে একদল মুসলিম ছাত্র  পাকিস্তান শব্দটি তৈরি করেন এভাবে: পি অর্থে পাঞ্জাব, কে অর্থে কাশ্মীর, এস অর্থে সিন্ধু এবং টেন অর্থে বেলুচিস্তান। এভাবে ৪টি মূল ভূখ- সংস্পর্শিত পাকিস্তান নামক নতুন রাষ্ট্রের কল্পনা করেছিলেন। চঅকওঝঞঅঘ শব্দটিতে এবার উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশও  বাদ যায়। আর পূর্ব বাংলা নামের গন্ধ তো পাকিস্তান শব্দটিতে পূর্ব থেকেই ছিল না।

১৯৪০ সালে লাহোর প্রস্তাবে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল নিয়ে সার্বভৌম দেশ গঠনের কথা বলা হয়। কিš‘ মুসলিম লীগের একদল নেতা পূর্বঞ্চলে অবস্থি’ত পূর্ববাংলাকে নিয়ে হাজার মাইল দূরে অবস্থিত পাঞ্জাব-সিন্ধুর সাথে জোড়া দিয়ে একটি কৃত্রিম রাষ্ট্র গড়ার জন্য গো ধরে বসে রইলেন। তারা এ জন্য যুক্তি-তর্কের খেই হারিয়ে চরম সাম্প্রদায়িক উসকানি তুলে শেষ পর্যন্ত হাজার মাইল দূরে অবস্থানে থাকা দুটো আলাদা ভূখণ্ড দিয়ে একটি নতুন দেশ গড়ে তবে ছাড়লেন। কিন্তু সর্বভারতীয় অসাম্প্রদায়িক মুসলিম নেতারা পাকিস্তান পরিকল্পনার সারবত্তা খুঁজে পাননি। তাঁরা এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। রাজনীতিবিদ মাওলানা আবুল কালাম আজাদের স্মৃতি কথায় তার ছোঁয়া পাওয়া যায়:
মুসলিম লীগ বর্ণিত পাকিস্তান পরিকল্পনাটি  সম্ভবপর সমস্ত দিক থেকে আমি বিচার করে দেখেছি। ভারতীয় হিসেবে আমি সমগ্র ভারতের ভবিষ্যতের পক্ষে এর কী অর্থ দাঁড়াবে তা খতিয়ে দেখেছি। ভারতের মুসলমানদের ভাগে এর কী ফলাফল ঘটতে পারে  একজন মুসলমান হিসেবে আমি তা যাচাই করে দেখেছি। পরিকল্পনাটির সমস্ত দিক বিচার করে আমি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে, এটি শুধু সারা ভারতের পক্ষেই নয়, বিশেষ করে মুসলমানদের পক্ষেও হানিকর। এবং বš‘তপক্ষে এতে সমস্যা যতনা মিটবে তার চেয়ে ঢের বেড়ে যাবে। একথা স্বীকার না করে পারছি না যে, ‘পাকিস্তান’ শব্দটিই আমার কাছে অরুচিকর। এ থেকে মনে হয় পৃথিবীর কতকাংশ শুদ্ধ বাকি সব অশুদ্ধ। শুদ্ধ আর অশুদ্ধ বলে এলাকা ভাগ করা ইসলাম বহিভূত; এর সঙ্গে বরং সেই গোড়া ব্রাম্মণের মিল বেশি, যা মানুষ আর দেশকে শুচি এর ম্লেচ্ছে ভাগ করে। অধিকš‘ এতে স্বীকার করেই নেওয়া হয়েছে যে, ভারতীয় মুসলমানেরা অখ- ভারতে সুবিধে করে ওঠতে  পারবে না, বিশেষভাবে সংরক্ষিত একটি কোণে নিজদের গুটিয়ে নিতে পারলেই তারা খুশি হবে।

তিনি আরও লিখেন যে, এই পটভূমি দেখলে পাকিস্তানের দাবির কোন জোর থাকে না। গোটা ভারতই আমার অখন্ড এবং আমি এর রাজনৈতিক আর অর্থনৈতিক জীবন গড়ে তোলার অংশীদার - একজন মুসলমান হিসেবে আমার এই অধিকার আমি কিছুতেই বিসর্জন দিত রাজি নই। বাপ-দাদার কাছ থেকে যে সম্পদ আমি পেয়েছি, তা ছেড়ে দিয়েই শুধু তার একটা টুকরো নিয়ে খুশি হওয়া - আমার কাছে এটা  নিশ্চিতভাবে কাপুরুষতা বলে মনে হয়। মৌলানা আবুল কালাম আজাদ, ভারত স্বাধীন হল গ্রšে’ আরও উল্লেখ করেন যে, মুসলিম লীগের নেতারা কোনো যুক্তি আর শুনলেন না। মুসলিম প্রধান পূর্ববাংলার আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রস্তাবও তারা বাতিল করে দিলেন। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল হলেন। তাকে পাকিস্তানের জাতির পিতাও ঘোষণা করা হয়। খেতাব দেওয়া হয় কায়েদে আজম। করাচি তার নিজ বাসভূমি, তাই সেখানে করা হল পাকিস্তানের রাজধানী। ঢাকার কথা মগজে আসে নি। এখান থেকেই নতুন করে আরেক অসঙ্গতির যাত্রা শুরু হলো। কোনো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ থেকেই করাচি পাকিস্তানের রাজধানী হতে পারে না। রাজধানী হওয়া উচিত ছিল ঢাকায়, কারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের বাস ছিল এখানে।

পাকিস্তান রাষ্ট্রে একটি বড় অসংগতি ছিল এর ইসলামি খোলসের। পাকিস্তানের মূল নেতাদের ব্যক্তিগত জীবনচরিত্র ও বৈশিষ্ট্য ইসলামি ভাবধারার কোনো সাযুজ্য ছিল না। নেতারা একটি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের কথা মুখে বলতেন, কিন্তু নিজেদের জীবন ছিল অনৈসলামিক কর্মতৎপরতায় পরিপূর্ণ।  ফ্রিডম অ্যাট মিডনাইট গ্রন্থে’র লেখকরা লিখেছেন: মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ অত্যন্ত পানাসক্ত ছিলেন এবং শুক্রবারের জুমআ নামাজ কখনো তিনি পড়েছেন এমন ইতিহাস জানা নেই। পবিত্র গ্রন্থ কোরআন ও সৃষ্টিকর্তার কোন স্থান জিন্নাহর পৃথিবীতে ছিল না। জীবনের শেষ তিনটি বছর তিনি বেঁচেছিলেন ই”ছাশক্তি, হুইস্কি এবং সিগারেটের ওপর ভর করে। শূকরের মাংসও তিনি ভক্ষণ করতেন। এসব ঘটনা পাকিস্তানের একেবারে অজানিত ছিল এমন নয়। কিš‘ সাধারণ্যে এর বেশি প্রচার ছিল না। কারণ তাহলে পাকিস্তানের ফাঁপা বেলুনের ভিতে কাঁপন লেগে যেত অনেক আগেই।

পাকিস্তানের যে জাতীয় সঙ্গীত রচিত হয়েছিল,  ‘পাকসার জামিন সা’দ’ তা ছিল ফারসি ভাষায় রচিত। এ ভাষাতেই তা গীত হত। এখানে আশ্চর্যকর কৌতুকপূর্ণ দিকটি হল পাকিস্তানের কোনো অঞ্চলের ভাষাই ফারসি ছিল না। নিজের জাতির নিজস্ব গান পাকিস্তানের  কোন অঞ্চলেরই ভাষায় হতে পারেনি। এর চেয়ে আর কী দু:খ জনক ঘটনা হতে পারে। এমনকি উর্দুও পাকিস্তানের কোনো অঞ্চলের ভাষা ছিল না কিš‘ রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে উর্দু চালানোর চেষ্টা পাকিস্তানী নায়কেরা করেছেন, অথচ সেই উর্দুতেও পাকিস্তানের জাতীয় সঙ্গীত রচিত হয়নি।

পাকিস্তানের এর পরের ধাপের নেতাদের মধ্যেও নানা অসংগতি লক্ষণীয়। প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী (ব্রিটিশ সরকারের আমলা ছিলেন) নিহত হবার পর পাকিস্তানের পালের হাল ধরেন বগুড়ার মোহাম্মদ আলী। তিনি বিয়ে করেছেন একজন খ্রিষ্টান রমণি ভিকারুন্নেসাকে। আবার তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন ঘরের কাজের লোক, মেইড সার্ভেন্ট।

খাজা নাজিমুদ্দিন সারা জীবন দিল্লী- বোম্বে-করাচি করে বেড়িয়েছেন। ঢাকায় ছিল তাদের জমিদারি। তাই  বাংলার সাধারণ মানুষের সাথে কখনো মেল বন্ধন ছিল নি। কথা বলতেন ইংরেজি ও উর্দু ভাষায়। মুখে ইসলামের কথা বললেও কাজে ছিলেন উল্টো। ক্ষমতার কাছাকাছি থাকতে ভালোবাসকেন তিনি।  এইসব বক ধার্মিকরা ছিলেন পাকিস্তানের কর্ণধার। এ সব নেতাদের নিজ ভূমির প্রতি  বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা  ও  ভালোবাসা ছিল না।

বাংলার সাধারণ মানুষ, বাংলা ভাষার পক্ষে যাবেন বিষয়টি ছিল স্বাভাবিক। কারণ তাদের নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক গন্তব্য ছিল না। তারা  হঠাৎ করেই একটি বিরাট ভূখণ্ডের মালিক হয়ে যায়। এ ভূখণ্ড পাওয়ার ব্যাপারে তাদের  কোনো ত্যাগ-তীতিক্ষা ছিল না।  ছিল না কোনো জনসংযোগ।

তাই ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি ঢাকার পল্টন ময়দানে এক জনসভায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন তার পূর্বসূরিদের মতো ঘোষণা করেন যে, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। জনবিচ্ছিন্ন জমিদার শোষক শ্রেণির হাতে হঠাৎ করে অনেক বড় ক্ষমতা চলে এসেছিল বলেই তারা রাষ্ট্রভাষা উর্দু করেছিল। পাশাপাশি  বাংলাকে  অপাঙ্ক্তেয় ভাষা হিসেবে গণ্য করেছিল। কিš‘ কালের স্রোতে তা উল্টে যায়। বাংলার দামাল ছেলেরা ১৯৫২ সালের ২১ ফ্রেব্রুয়ারি নিজের বুকের তাজা রক্ত দিয়ে বাঙালির স্বাধীকার আন্দোলনের বীজ বপন করে। ঐক্যবদ্ধ ছাত্র আন্দোলন ও গণমানুষের সুষ্ঠু রাজনীতিচর্চার কোনো বিকল্প নেই - এই অবিসংবাদিত সত্য কথাটিকে সোনার হরফে লেখা হয়ে যায়।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক


Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.