ছবি: সংগৃহীত।
মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের জন্মদিন আজ। ব্যক্তিগত কম্পিউটারের প্রসারে ভূমিকা রাখা এই উদ্যোক্তার কর্মজীবনের বড় অংশ এখন ঘিরে আছে বিশ্বস্বাস্থ্য, দারিদ্র্য হ্রাস ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির উদ্যোগ।
কৈশোরে কম্পিউটারের প্রতি কৌতূহল। সেই আগ্রহ থেকে প্রোগ্রামিং শেখা, বন্ধুর সঙ্গে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং একসময় বিশ্বজুড়ে সফটওয়্যার ব্যবসার অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠা। বিল গেটসের জীবনের এই অধ্যায় প্রযুক্তির ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। তবে তাঁর পরিচয় এখন ব্যবসার সীমানা ছাড়িয়ে জনস্বাস্থ্য ও জনকল্যাণমূলক কাজেও বিস্তৃত।
আজ বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, তাঁর ৭১তম জন্মদিন। ১৯৫৫ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের সিয়াটলে জন্মগ্রহণ করেন উইলিয়াম হেনরি গেটস তৃতীয়, যিনি বিশ্বজুড়ে বিল গেটস নামেই পরিচিত।
গেটসের প্রযুক্তিপ্রীতির সূত্রপাত স্কুলজীবনে। সিয়াটলের লেকসাইড স্কুলে পড়ার সময় কম্পিউটার টার্মিনাল ব্যবহারের সুযোগ পান তিনি। তখনকার দিনে এমন সুযোগ ছিল বিরল। নতুন এই যন্ত্র কীভাবে কাজ করে, কীভাবে নির্দেশ দিলে কাঙিক্ষত ফল পাওয়া যায় এসব জানার আগ্রহ তাঁকে প্রোগ্রামিংয়ের দিকে টেনে নেয়।
সেই সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ভবিষ্যতের ব্যবসায়িক অংশীদার পল অ্যালেন। দুজনের প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ পরবর্তী সময়ে যৌথ উদ্যোগের ভিত্তি তৈরি করে। ১৯৭৫ সালে গেটস ও অ্যালেন মিলে প্রতিষ্ঠা করেন মাইক্রোসফট।
মাইক্রোসফটের উত্থান বুঝতে হলে ব্যক্তিগত কম্পিউটারের বিকাশের দিকে তাকাতে হয়। ১৯৮১ সালে আইবিএমের ব্যক্তিগত কম্পিউটারে ব্যবহৃত হয় মাইক্রোসফটের এমএস-ডস অপারেটিং সিস্টেম। পরবর্তী সময়ে উইন্ডোজ ও অফিসের মতো সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
১৯৮৬ সালে মাইক্রোসফট শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ১৯৯৫ সালে আসে উইন্ডোজ ৯৫-প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য একটি পণ্য। কম্পিউটার ব্যবহার, দাপ্তরিক কাজ ও তথ্য ব্যবস্থাপনায় মাইক্রোসফটের সফটওয়্যার ব্যাপক পরিচিতি পায়। এই বিকাশের নেতৃত্বে থাকা গেটস হয়ে ওঠেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের অন্যতম পরিচিত মুখ।
তবে মাইক্রোসফটের পুরো ইতিহাসে তাঁর দায়িত্ব এক ছিল না। ২০০০ সালে প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব নেন স্টিভ বলমার। গেটস তখন চেয়ারম্যান ও প্রধান সফটওয়্যার স্থপতির ভূমিকায় কাজ চালিয়ে যান। ২০০৮ সালে তিনি প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন দায়িত্ব থেকে সরে এসে জনকল্যাণমূলক কাজে বেশি সময় দিতে শুরু করেন।
২০০০ সালে বিল গেটস ও মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস প্রতিষ্ঠা করেন বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন, যা বর্তমানে গেটস ফাউন্ডেশন নামে পরিচিত। এর কাজের কেন্দ্রে রয়েছে মানুষের সুস্থ ও উৎপাদনশীল জীবনযাপনের সুযোগ বাড়ানো।
সংক্রামক রোগ মোকাবিলা, মা ও শিশুর স্বাস্থ্য এবং দারিদ্র্য হ্রাসের মতো বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি অনুদান ও অংশীদারত্বের মাধ্যমে কাজ করে। মেলিন্ডা ২০২৪ সালে ফাউন্ডেশন ছেড়ে নিজের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে মনোযোগ দেন। বিল গেটস বর্তমানে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্য।
সম্পদ দানের সংস্কৃতি উৎসাহিত করতেও উদ্যোগ নিয়েছেন গেটস। ২০১০ সালে তিনি, মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস ও ওয়ারেন বাফেট যৌথভাবে গিভিং প্লেজ চালু করেন। এর উদ্দেশ্য বিশ্বের বিত্তশালী ব্যক্তি ও পরিবারগুলোকে জীবদ্দশায় অথবা উইলের মাধ্যমে নিজেদের সম্পদের অর্ধেকের বেশি জনকল্যাণে দেওয়ার প্রকাশ্য অঙ্গীকারে উদ্বুদ্ধ করা। পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনকে সহায়তা করতে গেটস প্রতিষ্ঠা করেছেন ব্রেকথ্রু এনার্জিও।
২০২৫ সালে গেটস ঘোষণা দেন, পরবর্তী দুই দশকে নিজের অবশিষ্ট সম্পদের প্রায় পুরোটাই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দান করবেন। ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৪৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম শেষ হবে।
সে সময় গেটস জানান, ২০২৫ থেকে ২০৪৫ সালের মধ্যে ফাউন্ডেশন ২০ হাজার কোটি ডলারের বেশি ব্যয় করবে বলে তিনি প্রত্যাশা করছেন। এই সম্ভাব্য অঙ্কের মধ্যে রয়েছে ফাউন্ডেশনের বিদ্যমান তহবিল ও তাঁর ভবিষ্যৎ অনুদান: এটি ইতিমধ্যে বিতরণ করা অর্থের হিসাব নয়। প্রকৃত ব্যয়ের পরিমাণ বাজার পরিস্থিতি ও মূল্যস্ফীতির ওপর নির্ভর করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
৭১তম জন্মদিনে বিল গেটসের জীবনকে তাই কয়েকটি ধারাবাহিক অধ্যায়ে দেখা যায়-কৌতূহলী শিক্ষার্থী, সফটওয়্যার উদ্যোক্তা এবং জনকল্যাণে অর্থ ও সময় বিনিয়োগকারী। প্রযুক্তি ব্যবসায় তাঁর প্রতিষ্ঠিত উত্তরাধিকারের পাশাপাশি এখন নজর থাকবে আরেকটি বিষয়ে: ঘোষিত দান ও উদ্যোগগুলো মানুষের জীবনে কতটা স্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
