ছবি: সংগৃহীত।
একটি স্মার্টফোন, ভালো ইন্টারনেট সংযোগ আর ভিডিওর দর্শক টানার কৌশল— এই তিনের সমন্বয়ে বছরে লাখ লাখ পাউন্ড আয় করছেন যুক্তরাজ্যের তরুণ একনুর সিং। বয়স মাত্র ২২ বছর। তার কাজের জন্য প্রয়োজন হয় না কোনো অফিস, বড় ক্যামেরা কিংবা নিজস্ব ভিডিও স্টুডিও। অন্যের দীর্ঘ ভিডিও থেকে আকর্ষণীয় অংশ বেছে নিয়ে ছোট ভিডিও তৈরি করেন তিনি। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেই বাড়ে আয়।
লন্ডনের বাসিন্দা একনুরের এই পেশার নাম ‘ক্লিপিং’। বছরে ১ লাখ ২০ হাজার পাউন্ডের বেশি আয় করেন বলে জানিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অর্থাৎ মাসে তার আয় ১০ হাজার পাউন্ডেরও বেশি।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিওর জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে গড়ে উঠেছে আয়ের নতুন এক ক্ষেত্র। এখানে অন্যের তৈরি দীর্ঘ ভিডিওকে ছোট ছোট আকর্ষণীয় অংশে রূপান্তর করেন ক্লিপাররা। এরপর সেগুলো ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, টিকটকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করেন। ভিডিও যত বেশি দর্শকের কাছে পৌঁছায়, আয় করার সুযোগও তত বাড়ে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, একনুরের ক্লিপিংয়ের জগতে আসার গল্প শুরু গত বছর। ইনস্টাগ্রামে পপ তারকা দুয়া লিপার একটি ছোট ভিডিও প্রকাশ করে তিনি আয় করেন ৩০০ ডলার। সামান্য একটি ভিডিও পোস্ট করে এত অর্থ পাওয়ার অভিজ্ঞতাই তাকে এই কাজে আগ্রহী করে তোলে।
একনুর বলেন, আমি ভেবেছিলাম, শুধু একটি ভিডিও পোস্ট করেই এত টাকা আয় করা যায়! তখনই বুঝেছিলাম, কাজটি কতটা লাভজনক হতে পারে। সেই শুরু। এখন ক্লিপিং তার নিয়মিত পেশা। ভিডিও তৈরির সময় তিনি এমন মুহূর্ত খোঁজেন, যা মজার, দ্রুত দেখা যায় এবং দর্শকের মনোযোগ ধরে রাখতে পারে।
এর একটি উদাহরণ গত মে মাসে নিউইয়র্কের মেট গালায় পপ তারকা সাবরিনা কার্পেন্টারের একটি ঘটনা। নিজের পোশাকের পেছনের অংশে পা পড়ে যাওয়ার পর কার্পেন্টারের প্রতিক্রিয়া নিয়ে ছোট ভিডিও তৈরি করেছিলেন একনুর। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপকভাবে। তবে এ কাজের জন্য কোন গ্রাহক তাকে নিয়োগ দিয়েছিলেন, তা জানাননি তিনি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ক্লিপিংয়ের কাজটি দেখতে সহজ মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে ভিডিও বাছাইয়ের দক্ষতা। একজন ক্লিপার প্রথমে গ্রাহকের দীর্ঘ ভিডিও দেখেন। এরপর সেখান থেকে সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশটি বেছে নিয়ে সাধারণত ৩০ থেকে ৬০ সেকেন্ডের ভিডিও তৈরি করেন।
গ্রাহক হতে পারেন পোশাকের ব্র্যান্ড, সংগীত প্রতিষ্ঠান, চলচ্চিত্র নির্মাতা, পডকাস্টার কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয় কোনো ব্যক্তি। তাদের লক্ষ্য থাকে, দীর্ঘ ভিডিওর গুরুত্বপূর্ণ বা বিনোদনমূলক অংশগুলোকে ছোট আকারে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রতি এক হাজার ভিউয়ের জন্য সর্বোচ্চ ৩ ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারেন ক্লিপাররা। ফলে কোনো ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে তা থেকে ভালো অর্থ আসতে পারে। তবে আয় নির্ভর করে ভিডিওর দর্শকসংখ্যা ও সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের নিয়মের ওপর।
ক্লিপিংয়ে একনুরের মতো বড় আয় করা সম্ভব হলেও সবার অভিজ্ঞতা এক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যের ২৪ বছর বয়সী ইথান উইমসের কাছে এটি অন্য ভিডিও তৈরির কাজের পাশাপাশি বাড়তি আয়ের উৎস। ইউটিউবার ও পডকাস্টার ক্যালেব হ্যামারের জন্য ছোট ভিডিও তৈরি করে মাসে অন্তত এক হাজার ডলার আয় করেন তিনি।
ইথানের কাছে এ কাজের আরেকটি বড় সুবিধা হলো, বাড়িতে বসেই আয় করা যায়। এতে স্ত্রী ও এক বছর বয়সী ছেলের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ বাড়ে। প্রতিদিন অফিসে গিয়ে নির্দিষ্ট সময় ধরে কাজ করার প্রচলিত চাকরিতে আগ্রহী নন তিনি।
তবে ক্লিপিংয়ে সাফল্যের সম্ভাবনা নিয়ে সতর্ক করেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমবিষয়ক পরামর্শক লিয়া হ্যাবারম্যান। তার মতে, এ খাতে উল্লেখযোগ্য আয় করতে পারেন এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। অনলাইনভিত্তিক সৃজনশীল কাজের অন্যান্য ক্ষেত্রের মতো এখানেও অধিকাংশ মানুষ সামান্য আয় করেন, কেউ কেউ কোনো আয়ই করতে পারেন না।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
