ছবি: সংগৃহীত।
আধুনিক বিশ্বসভ্যতার প্রতিটি পদক্ষেপে এখন স্পন্দন জোগাচ্ছে একটি অতিক্ষুদ্র উপাদান—‘সেমিকন্ডাক্টর’ বা মাইক্রোচিপ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ফাইভজি/সিক্সজি নেটওয়ার্ক, স্মার্টফোন থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক গাড়ি—সবকিছুরই মূল প্রাণভোমরা এই চিপ।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির এই যুগে গোটা বিশ্বে চলছে চিপ তৈরির কাঁচামালের তীব্র হাহাকার। আর ঠিক এই সময়েই বাংলাদেশকে আশার আলো দেখাচ্ছে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর তলদেশে জমে থাকা কোটি কোটি টন বালু।
ভূতাত্ত্বিকদের মতে, প্রমত্তা পদ্মা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র আর তিস্তার বুখে জমে থাকা বালুরাশি শুধুই পলি নয়; এটি বাংলাদেশের আগামী দিনের অর্থনৈতিক রূপান্তরের সবচেয়ে বড় কাঁচামাল হতে পারে। সঠিক রোডম্যাপ, আধুনিক গবেষণা ও নীতি সহায়তার মেলবন্ধন ঘটলে তৈরি পোশাক শিল্পের পর সেমিকন্ডাক্টরই হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের অর্থনীতি বদলের মূল চালিকাশক্তি।
বিশ্ববাজার প্রায় ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার, বাংলাদেশের অবস্থান কোথায় : বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্প বর্তমানে প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলারের। কিন্তু ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরের মধ্যেই বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজারের আকার প্রায় এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। কিছু পূর্বাভাস তো বলছে, এ বছরই বাজারটি ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারেও পৌঁছাতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ৫জি-সিক্সজি যোগাযোগ এবং ইলেকট্রিক গাড়ির প্রবৃদ্ধির কারণে এই চাহিদা এখন তুঙ্গে।
যুক্তরাষ্ট্র, চীন, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো চিপ উৎপাদনে কোটি কোটি ডলারের ভর্তুকি ও কৌশলগত ছাড় দিচ্ছে।
কিন্তু বিপুল সম্ভাবনার এই বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ একেবারেই সামান্য। বর্তমানে সেমিকন্ডাক্টরশিল্প থেকে বাংলাদেশ বার্ষিক মাত্র ৫০ লাখ ডলার আয় করে, যার বেশির ভাগ আসে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (আইসি) ডিজাইন সেবার মাধ্যমে। অন্যদিকে তৈরি পোশাক খাত থেকে দেশের বার্ষিক আয় ৪০ বিলিয়ন ডলার।
তবে এই ব্যবধান ঘোচানোর সম্ভাবনা উজ্জ্বল।
উলকাসেমি বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও সিইও মোহাম্মদ এনায়েতুর রহমানের মতে, ‘সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেমে প্রবেশ করতে পারলে—যার মধ্যে রয়েছে সিলিকন ওয়েফার উৎপাদন, আইসি চিপ বানানো, প্যাকেজিং, সংযোজন ও পরীক্ষাকরণ—তাহলে এই খাত থেকে বাংলাদেশের রাজস্ব হবে তৈরি পোশাক শিল্পের বর্তমান আয়ের সমান।’
সরকারের লক্ষ্য আগামী ২০৩১ সালের মধ্যে সেমিকন্ডাক্টরশিল্পকে ১০ বিলিয়ন ডলারের শিল্পে পরিণত করা।
নদীর বালু থেকেই কি সরাসরি চিপ তৈরি সম্ভব : গবেষণা বলছে, প্রচলিত শোধন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের নদীর বালু থেকে ৯৯.৫ শতাংশ বিশুদ্ধ সিলিকা পাওয়া সম্ভব, যা গ্লাস, অপটিক্যাল ফাইবার ও সিরামিক শিল্পের জন্য চমৎকার। কিন্তু মাইক্রোচিপ বা সিলিকন ওয়েফার তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক গ্রেড পলিসিলিকনের বিশুদ্ধতা হতে হয় ৯৯.৯৯ শতাংশ বা ‘নাইন নাইন’ পিউরিটি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের নদীর বালুতে উচ্চমানের সিলিকার সম্ভাবনা প্রচুর, কিন্তু এটিকে এখনই সেমিকন্ডাক্টর গ্রেড হিসেবে নিশ্চিত করার আগে ক্রিস্টাল স্ট্রাকচার ও আলট্রা-ট্রেস উপাদানের বিশদ পরীক্ষা প্রয়োজন। লোহার মতো মৌলিক উপাদানের এমনকি অতি সামান্য পরিমাণ উপস্থিতিও চিপ তৈরিতে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
জিএসবির উপপরিচালক ড. মো. সোহেল রানা স্পষ্ট করে বলেছেন, গ্লাসশিল্পের সিলিকা আর সেমিকন্ডাক্টর-গ্রেড কোয়ার্টজের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। তাই চিপ তৈরির কারখানায় সরাসরি কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ না করে বাংলাদেশের উচিত পর্যায়ক্রমে একটি কৌশলগত রোডম্যাপ অনুসরণ করা
নদীর বালুতে ৩০০ কোটি টন কোয়ার্টজ : জিওলজিক্যাল সার্ভে অব বাংলাদেশের (জিএসবি) সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে এক চমকপ্রদ তথ্য। ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, পদ্মা ও তিস্তা নদী অববাহিকায় প্রায় ৩০০ বিলিয়ন (৩০০ কোটি) টনেরও বেশি বালুসম্পদ রয়েছে। এই বালুর গড়ে প্রায় ২৮.৭ শতাংশই হলো কোয়ার্টজ বা সিলিকা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রচলিত শোধন প্রক্রিয়ায় দেশের নদীর বালু থেকে ৯৯.৫ শতাংশ বিশুদ্ধ সিলিকা নিষ্কাশন করা সম্ভব। এই মানের সিলিকা দিয়ে বর্তমানে গ্লাস, অপটিক্যাল ফাইবার ও সিরামিক শিল্পের চাহিদা মেটানো সম্ভব। তবে মাইক্রোচিপ বা সিলিকন ওয়েফার তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ‘ইলেকট্রনিক গ্রেড পলিসিলিকন’-এর বিশুদ্ধতা হতে হয় ৯৯.৯৯৯ শতাংশ।
অ্যাপল, গুগল ও ফেসবুকের মতো বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মাইক্রোচিপ বা চিপের নকশা বা ডিজাইন তৈরিতে কাজ করছে। ২০০৭ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি দেশে ও আন্তর্জাতিকভাবে এই সেবা দিয়ে আসছে।
বাংলাদেশের কম পরিচালন ব্যয় এবং বিপুল তরুণ প্রকৌশলী সম্ভাবনা বড় সুবিধা হলেও ভারত, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নীতিগত সহায়তায় এখনো পিছিয়ে রয়েছে বলে মনে করেন মোহাম্মদ এনায়েতুর রহমান। তাঁর মতে, শিল্পটির বিকাশে অন্তত পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল, দীর্ঘমেয়াদি কর অবকাশ, রপ্তানি প্রণোদনা এবং শিল্প-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যৌথ প্রশিক্ষণ ও গবেষণা ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। সঠিক নীতি ও বিনিয়োগ পেলে সেমিকন্ডাক্টর খাত তৈরি পোশাকের পর বাংলাদেশের নতুন উচ্চমূল্যের রপ্তানি খাত হয়ে উঠতে পারে।
‘সিলিকন রিভার’—বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর স্বপ্ন : বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআইএ) নেতৃত্বে চলছে ‘সিলিকন রিভার’ উদ্যোগ—একটি দূরদর্শী পরিকল্পনা, যা বাংলাদেশকে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর মানচিত্রে প্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করছে।
বিএসআইএর সভাপতি ও নিউরাল সেমিকন্ডাক্টরের এমডি এম এ জব্বার জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় এক হাজার ২০০ সেমিকন্ডাক্টর পেশাজীবী, ২০টির বেশি চিপ ডিজাইন প্রতিষ্ঠান এবং আনুমানিক ১০ থেকে ১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বার্ষিক আয় রয়েছে। মাত্র গত এক বছরেই এ আয় প্রায় দুই মিলিয়ন ডলার বেড়েছে।
তবে সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা রয়েছে মানবসম্পদে। প্রতিবছর প্রায় ২০ হাজার ইইই ও সিএসই স্নাতক বের হচ্ছে। একজন প্রকৌশলীর বার্ষিক ব্যয় আনুমানিক ১০ হাজার মার্কিন ডলারের কাছাকাছি, যা আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় যথেষ্ট প্রতিযোগিতামূলক।
এম এ জব্বারের মতে, ২০৩০ সালের কাছাকাছি সময়ে বছরে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সেমিকন্ডাক্টর ও সংশ্লিষ্ট পণ্য-সেবা রপ্তানি উচ্চাভিলাষী, তবে অর্জনযোগ্য জাতীয় লক্ষ্য। তবে এই প্রবৃদ্ধি শুধু বর্তমান ডিজাইন সেবার স্বাভাবিক সম্প্রসারণ থেকে আসবে না, আয় আসতে হবে ডিজাইন সার্ভিস, আইপি, এমবেডেড ও এআইওটি পণ্য, টেস্টিং, অ্যাসেম্বলিং, প্যাকেজিং/ওএসএটি এবং ডিজিটাল টুইনভিত্তিক প্রকৌশল সেবা থেকে।
বিএসআইএ ছয়টি কৌশলগত ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে—এজেন্টিক এআই ফর সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন, ডিজিটাল টুইন, ওএসএটি, এমবেডেড সিস্টেম, এআইওটি এবং অ্যাডভান্সড মেমোরি। লক্ষ্য অন্য দেশকে অনুকরণ করা নয়; বরং বৈশ্বিক মূল্যশৃঙ্খলের এমন জায়গায় অবস্থান তৈরি করা, যেখানে বাংলাদেশের নিজস্ব প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা রয়েছে।
২০২৬ থেকে ২০৫০ পর্যন্ত পাঁচ ধাপের রোডম্যাপ : বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—শুরুতেই কোটি কোটি ডলার খরচ করে চিপ তৈরির কারখানায় না গিয়ে বাংলাদেশের উচিত পর্যায়ক্রমে কৌশলগত রোডম্যাপ অনুসরণ করা। অগ্রাধিকার হওয়া উচিত হাই পিউরিটি সিলিকা উৎপাদন, আইসি ডিজাইন এবং ওএসএটি বা চিপ অ্যাসেম্বলিং ও টেস্টিং—এই খাতগুলোতে মনোনিবেশ করা। মালয়েশিয়া ঠিক এই পথেই এগিয়েছে—অ্যাসেম্বলিং ও টেস্টিং থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে উচ্চমূল্যের কাজে পা রেখেছে।
দীর্ঘমেয়াদি এই যাত্রার জন্য ২০২৬ থেকে ২০৫০ সাল পর্যন্ত পাঁচ ধাপের একটি রোডম্যাপ প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে প্রথম ধাপে (২০২৬-৩০) দেশব্যাপী কোয়ার্টজ অনুসন্ধান ও স্যান্ড প্রসেসিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার (এসপিআরসি) প্রতিষ্ঠা। এই কেন্দ্রটি দেশের খনিজ সম্পদের সঠিক মূল্যায়ন করবে এবং পাইলট স্কেলে খনিজ উপকরণ, রাসায়নিক পরিশোধন ও অ্যাডভান্সড ম্যাটেরিয়াল ক্যারেক্টারাইজেশন সুবিধা প্রদান করবে।
দ্বিতীয় ধাপে বাণিজ্যিক হাই পিউরিটি সিলিকা উৎপাদন ও আইসি ডিজাইন সক্ষমতা জোরদার। তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপে পাইলট ওয়েফার ফ্যাব্রিকেশন ও নিজস্ব চিপ উৎপাদন সুবিধা প্রতিষ্ঠা এবং পঞ্চম ধাপে (২০৫০) উদ্ভাবনচালিত উচ্চ প্রযুক্তি অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বাংলাদেশের নেতৃত্ব।
এসপিআরসি তরুণ প্রকৌশলীদের হাই পিউরিটি মিনারেল অ্যানালিসিস, ভিএলএসআই ডিজাইন এবং মিনারেল প্রসেসিং প্রযুক্তিতে হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেবে। এই উদ্যোগগুলো দেশের মধ্যে উচ্চ প্রযুক্তির প্রকৌশল দক্ষতা তৈরি করতে, মেধাপাচার কমাতে এবং বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতায় অবদান রাখতে সহায়ক হবে।
যে পৃষ্ঠপোষকতা দরকার : সরকার এরই মধ্যে সেমিকন্ডাক্টরশিল্পকে জাতীয় মিশন হিসেবে ঘোষণা করেছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সেমিকন্ডাক্টরশিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর সব ধরনের কর ও শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সার্ভিসের রপ্তানি আয়ের ওপর নগদ প্রণোদনা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য প্রথমবারের মতো বছরে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ অনুদান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি কালিয়াকৈরে এক হাজার ৫০০ কোটি টাকার ডিজাইন ও টেস্টিং হাব স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। স্টার্টআপগুলো ২০৩৫ সাল পর্যন্ত শূন্য শতাংশ টার্নওভার ট্যাক্স এবং সম্পূর্ণ ভ্যাট অব্যাহতি পাচ্ছে—ঠিক সেই দীর্ঘমেয়াদি নীতি সহায়তা, যা একসময় তৈরি পোশাক শিল্পকে বড় করতে সহায়তা করেছিল।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু করছাড় ও প্রণোদনা যথেষ্ট নয়। বৌদ্ধিক সম্পত্তি (আইপি) সুরক্ষা আইন জোরদার, ইলেকট্রনিক ডিজাইন অটোমেশন (ইডিএ) টুলসে সহজ প্রবেশাধিকার এবং শিল্প-একাডেমিয়া সংযোগ বাড়ানো জরুরি।
সম্ভাবনা চ্যালেঞ্জে ঘেরা, কিন্তু আশার আলো উজ্জ্বল : সম্প্রতি ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘তৈরি পোশাক শিল্পের পর সেমিকন্ডাক্টরশিল্পই হতে পারে বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় খাত।’ তিনি বিশ্বাস করেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এই খাত থেকে নির্ধারিত রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।
তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। অত্যাধুনিক খনিজ প্রক্রিয়াকরণ অবকাঠামোর অভাব, আন্তর্জাতিক বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি হস্তান্তরে বাধা রয়েছে। তবু বাংলাদেশের রয়েছে উল্লেখযোগ্য সুবিধা—তরুণ প্রকৌশলীদের বিশাল জনসম্পদ এবং প্রতিযোগিতামূলক শ্রম খরচ।
বাংলাদেশ বর্তমানে সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেমের যে পর্যায়ে রয়েছে, সেখান থেকে কম মূলধন, মেধানির্ভর এবং দ্রুত আয়—এমন ক্ষেত্রগুলো দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে উচ্চতর ধাপে ওঠাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, পদ্মা-যমুনার তলদেশের এই বালুরাশি শুধু পলির সস্তূপ নয়—সঠিক নীতি ও আধুনিক গবেষণার ছোঁয়ায় এটি হতে পারে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের নতুন কাঁচামাল। রাতারাতি মাইক্রোচিপ কারখানা তৈরি করা অলৌকিক মনে হলেও হাই পিউরিটি সিলিকা উৎপাদন, আইসি ডিজাইন এবং চিপ অ্যাসেম্বলিংয়ের মাধ্যমে ধীরে ধীরে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেমে বাংলাদেশ হয়ে উঠতে পারে এক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।
বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের ড. মো. সোহেল রানা, উপপরিচালক (ভূতত্ত্ব) বলেন, ‘বাংলাদেশের একটি ধাপভিত্তিক কৌশল গ্রহণ করা উচিত। সরাসরি বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে চিপ কারখানা স্থাপন করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ। তার চেয়ে প্রথম পর্যায়ে আমাদের ফোকাস হওয়া উচিত উচ্চ শুদ্ধতার সিলিকা উৎপাদন, ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (আইসি) ডিজাইন এবং সেমিকন্ডাক্টর অ্যাসেম্বলি ও টেস্টিং খাতে। এতে বিনিয়োগের ঝুঁকি কমবে এবং বিপুলসংখ্যক প্রকৌশলী ও দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
