অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে আমেরিকায় পা রাখল ইরানের ফুটবল দল। রোববার দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি হওয়ার দিনে লস অ্যাঞ্জেলস বিমানবন্দরে অবতরণ করে তাদের বহনকারী বিমান।
দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের সবগুলো ম্যাচ হলেও তারা বেস ক্যাম্প গড়েছে মেক্সিকোর তিজুয়ানায়। আমেরিকার উদ্দেশ্যে উড়াল দেওয়ার আগে তাদেরকে বিদায় সংবর্ধনা দিয়েছে মেক্সিকোতে বসবাসরত ইরানিরা। আগামীকাল বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় লস অ্যাঞ্জেলস স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলবে ইরান।
নানা শর্ত আর বাধাবিপত্তি ভেদ করে বিশ্বকাপ খেলতে নামছে টিম মেলিরা। ইতোমধ্যে ইরানি দর্শকদের টিকিট বাতিল করে সমালোচনার মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মাঠের বাইরের সব ঘটনাকে ছাপিয়ে শুধু ম্যাচের দিকে মনোযোগ দলের।
স্টেডিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে দোভাষীর মাধ্যমে ইরান কোচ আমির ঘালেনোয়ি বলেন, ‘মহান, গর্বিত ও শক্তিশালী ইরানের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমি খুব খুশি। আমি আশা করি ফুটবল আনন্দ ও উপভোগ্য সময় বয়ে আনবে এবং বিভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতিকে কাছাকাছি আনবে।’
লস অ্যাঞ্জেলস শহরেই সবচেয়ে বড় ইরানি জনগোষ্ঠী বসবাস করে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে, টিম মেলির প্রথম ম্যাচ সামনে রেখে পাশের শহর ইঙ্গলউডের সোফাই স্টেডিয়ামের বাইরে হাজার হাজার ইরানি বিক্ষোভ করবে। এনিয়ে ইরানি কোচ বললেন, ‘আমি আপনাদের জানাতে চাই আমরা এখানে ফুটবল খেলতে এসেছি। এবং ইরানের সম্মানিত জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতেই এখানে আসা, সেটা হোক ইরানের অভ্যন্তরে থাকা ইরানি কিংবা প্রবাসী ইরানি। আমরা কেবল আমাদের দেশ সম্পর্কে ভাবি। আমরা রাজনীতির লোক নই। ইরানিয়ান জাতি হিসেবে আমরা প্রত্যেক ইরানিয়ানকে সম্মান করি।’
অধিনায়ক মেহদী তারেমিও একই সুরে কথা বলেছেন, ‘আমরা সব ইরানিয়ানকে সম্মান করি, সেটা হোক দেশের ভেতরের কিংবা দেশের বাইরের। আমরা এখানে ফুটবল খেলতে এসেছি এবং ফুটবল সবসময় সব পক্ষকে এক করতে পারে। আমাদের জনগণকে, ইরানের ভেতরের কিংবা বাইরের, সবাইকে আমরা ভালোবাসি। বহু বছর ধরে সভ্য দেশ ইরান ঐক্যবদ্ধ জাতি। আমরা সেই একতা দেখাতে চাই। আমরা বিশ্বকাপে এসেছি ইরানিয়ানদের আনন্দ দিতে, তারা যেখানকার হোক না কেন।’