ছবি: সংগৃহীত।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো খেলোয়াড়দের বেতনকাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে, এটি শুরু হলো গতকাল থেকেই, ক্রীড়াঙ্গনে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কণ্ঠেই ঘোষিত হলো সেই বার্তা। ক্রীড়াবিদরা এই দিনের স্বপ্নই সব সময় দেখেছেন, অপ্রাপ্তি নিয়ে অনেকে হারিয়েও গেছে। গতকাল সোমবার যারা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ছিলেন বা আরো যারা এই বেতনকাঠামোর আওতায় আসছেন, তারা ক্রীড়াঙ্গনের এক নতুন যুগের সাক্ষী হলেন।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছিলেন, জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মাসিক এই ভাতার পরিমাণ এমন হবে, যাতে তারা খুশি হন।
সেই অঙ্ক এক লাখ টাকা হওয়ায় গোটা ক্রীড়াঙ্গনেই উচ্ছ্বাস ছড়িয়েছে। গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে ২০টি খেলার ১২৯ জন খেলোয়াড়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সেই অর্থ পৌঁছে গেছে।
সর্বশেষ নারী সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশকে শিরোপা জেতানো সাবিনা খাতুন বলছিলেন, ‘আজকের এই আয়োজন ছিল আমাদের জন্য চমক। খেলোয়াড়রা এখন চোখ বন্ধ করে খেলাটাকে পেশা হিসেবে নিতে পারবে।
সেই মুহূর্ত চলে এসেছে।’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘এটি আমাদের নির্বাচনী অঙ্গীকারই ছিল, গোটা বিশ্বে খেলাটা এখন আর বিনোদন নেই। এটি এখন পেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশও সেখানে পিছিয়ে থাকতে পারে না।
বিভিন্ন সেক্টরে আমাদের যে নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল, সেখানে ক্রীড়াক্ষেত্রে খেলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার কথা আমরা বলেছিলাম। আজকের অনুষ্ঠানটি আমাদের সেই প্রতিশ্রুতি পূরণেরই অংশ।’
আগেই জানানো হয়েছে, বিভিন্ন খেলার মোট ৫০০ জনকে মাসিক এই ক্রীড়া ভাতা দেওয়া হবে। তাদের মধ্যে থেকেই গত এক বছরে আন্তর্জাতিক সাফল্য পাওয়া ১২৯ জনকে দিয়ে তা শুরু হলো। মাসিক ভাতার আওতায় আনার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সাফল্যের জন্য তাদের সংবর্ধনাও দেওয়া হয়েছে গতকালের অনুষ্ঠানে।
সে জন্য আলাদা আরো তিন লাখ টাকা করে পেয়েছেন সোনাজয়ী খেলোয়াড়রা। অর্থাৎ সব মিলিয়ে গতকাল চার লাখ টাকার আনুষ্ঠানিক চেক অনেকে বুঝে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে। এদিন ক্রীড়া কার্ডেরও উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রত্যেকে সেই কার্ডও পেয়েছেন।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব-উল-আলম সেই কার্ডের বিভিন্ন সুবিধা নিয়ে বলেছেন, ‘এটি শুধু একটি পরিচয়পত্র নয়, এটি ক্রীড়াবিদদের জন্য একটি মর্যাদার পরিচায়ক। এই কার্ডের আওতায় থাকবে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা, বিদেশি কোচের অধীনে প্রস্তুতি, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো খেলোয়াড়ি জীবন শেষে পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা।’
আক্ষরিক অর্থেই ক্রীড়াঙ্গনের জন্য তাই বড় একটি দিন ছিল গতকাল। মাসিক বেতনের আওতায় থাকতে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সটাও ধরে রাখতে হবে। কারণ চার মাস পর পর এটি পুনর্মূল্যায়নও হবে। ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে রুপা জেতা টেবিল টেনিস খেলোয়াড় খইখই মারমার মতে এতে বরং খেলার মান বাড়বে, ‘চার মাস পর পর এই মূল্যায়নের কারণে এখন খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়বে। নতুনরা উঠে আসার জন্য চাপ বাড়াবে সিনিয়রদের ওপর। এতে খেলার মান বাড়বে।’
এক লাখ টাকা মাসিক সম্মানি খইখইয়ের কাছে প্রত্যাশা ছাপানো প্রাপ্তি, ‘কখনোই ভাবিনি প্রতি মাসে এই পরিমাণ টাকা আমরা বেতন হিসেবে পাব।’
গত ইউনেক্স সানরাইজ আন্তর্জাতিক ব্যাডমিন্টন চ্যালেঞ্জে পদক জেতা জুমার আল আমিনের কাছে এটা অনেক বড় পাওয়া, ‘আমাদের ব্যাডমিন্টন মৌসুম শেষ। আমাদের এখন কিন্তু আয়ের আর কোনো জায়গা নেই। কিন্তু এই ভাতাটা পেলাম। এটা নিয়ে এখন আমরা সারা বছর নিশ্চিন্তে আমাদের চর্চাটা চালিয়ে যেতে পারব।’
কৃতী প্যারা ক্রীড়াবিদরাও এসেছেন এই বেতনের আওতায়। প্যারা সাঁতারু শহীদউল্লাহর কণ্ঠেও তাই কৃতজ্ঞতা, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের প্যারা অ্যাথলেটদের দুঃখ-কষ্টও বুঝেছেন। এই ভাতা আমাদের নতুন করে অনুপ্রাণিত করবে।’
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেছেন, ‘এটি ক্রীড়াঙ্গনের জন্য মাইলফলক। এই দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আজ ১২৯ জনকে দিয়ে শুরু হলো। আগামী সাত দিনের মধ্যে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে আমরা এই ভাতার আওতায় নিয়ে আসব।’
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
