দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তবে রাষ্ট্রপতি পদে দলটির প্রার্থী কে হবেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আজ রোববার জোট শরিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
শনিবার রাতে রাজধানীতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং জোটের শরিক এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম আলোচনায় রয়েছে। এর বাইরে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে থাকা কোনো ব্যক্তির নামও প্রস্তাব করা হতে পারে বলে আলোচনা আছে।
আজ বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে জোট শরিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতারা। ওই বৈঠকে শরিকদের মতামতের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি পদে জোটের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হতে পারে।
জামায়াত ও জোটের নেতারা মনে করছেন, সংসদ সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় বর্তমান সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে নির্বাচনের ফল অনেকটাই নির্ধারিত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ৩০০ আসনের মধ্যে ২১১টি আসন পাওয়ায় দলটি যে প্রার্থী দেবে, তারই নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এরপরও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়াকে গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে দেখছে জামায়াত।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ কালবেলাকে বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে দলের মনোনয়ন এখনো চূড়ান্ত হয়নি। শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করেই প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে।
দলটির নেতারা বলছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি একটি রাজনৈতিক নজির সৃষ্টি করতে চায় জামায়াত। সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে সর্বশেষ বিরোধী দল থেকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়ার নজির রয়েছে। সে সময় আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থেকে বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে প্রার্থী করেছিল। তিনি বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাসের কাছে ৮০ ভোটে পরাজিত হন।
এরপর অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনগুলোতে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আসছেন। ফলে এবারের নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।