ছবি: সংগৃহীত।
কোটা সংস্কারের দাবিতে চলছিল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। উত্তপ্ত সেই সময়ে রংপুরে আন্দোলনের সামনের সারিতে ছিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। সেদিন পুলিশের গুলিতে শহীদ হন তিনি। তার মৃত্যু মুহূর্তেই বদলে দেয় আন্দোলনের গতিপথ। একটি প্রাণহানি পরিণত হয় গণপ্রতিরোধের প্রতীকে। সে সময়ের সমন্বয়ক ও ছাত্রনেতাদের মতে, শহীদ আবু সাঈদের মৃত্যুতেই জুলাই আন্দোলন আরও গতি পায়।
সাধারণ একটি পরিবার থেকে উঠে আসা আবু সাঈদ ছোটবেলা থেকেই ছিলেন প্রতিবাদী কন্ঠস্বর। সহপাঠীদের স্মৃতিচারণ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে কখনো পিছিয়ে যাননি তিনি। জুলাই আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকেই নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। তার আত্মত্যাগ আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে।
সমন্বয়ক ও ছাত্রনেতাদের মতে, আবু সাঈদের মৃত্যু কোটা সংস্কার আন্দোলনকে বৃহত্তর গণআন্দোলনে রূপ দেয়। তার রক্ত মানুষের মধ্যে প্রতিবাদের নতুন শক্তি জাগিয়ে তোলে। নীরব দর্শক হয়ে থাকা অসংখ্য মানুষও নেমে আসেন রাজপথে।
ইতিহাসের পাতায় ১৬ জুলাই তাই শুধু একটি তারিখ নয়; এটি একটি মোড় বদলের দিন। আবু সাঈদকে জুলাইয়ের শহিদদের অগ্রগামী প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে সাবেক সমন্বয়করা বলেন, তার আত্মত্যাগ জাতি দীর্ঘদিন স্মরণ করবে।
এ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আবু সাঈদ মাঠ ছাড়ে নাই। সে কিন্তু কথা রাখছে। তো এইটা পরবর্তীতে সবাইকেই অনুপ্রাণিত করছে। একজন ছাত্র আবু সাঈদ যদি এভাবে মারা যেতে পারে, বুলেটের সামনে দাঁড়াতে পারে ন্যায়বিচারের জন্য... বিবেকের তাড়না সবাইকে তখন মাঠে নামতে বাধ্য করেছে।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আবু সাঈদ তো এই আন্দোলনের মনে করি শহীদদের ইমাম বা এ আন্দোলনের নেতৃত্ব... এক প্রকার স্পিরিচুয়াল নেতৃত্ব কিন্তু আবু সাঈদ হয়ে উঠেছিল এবং আবু সাঈদ রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক ছিল। ফলে আবু সাঈদের মৃত্যু আমাদের সবাইকে অনুপ্রাণিত করেছিল।’
এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘দুই হাত পেতে দিয়ে, প্রসারিত করে দিয়ে, আবু সাঈদ গুলি বুকে ধারণ করছে। এই দৃশ্য বাংলাদেশের আপামর জনতাকে বিশেষত তরুণদেরকে সেই আন্দোলনে জীবন দেয়ার জন্য আগ্রহী করে তুলেছিল, উদগ্রীব করে তুলেছিল এবং মানুষেরা সেই সাহস নিয়ে, সেই প্রেরণা নিয়ে শহীদ হয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘আবু সাঈদের শহীদ হওয়া এবং এই ১৬ তারিখে জুলাই শহীদ দিবস, সেটার মধ্য দিয়ে আবু সাঈদকে স্মরণে রাখা, সেটা বাংলাদেশের মানুষ
যতদিন বাংলাদেশ আছে ততদিন পর্যন্তই স্মরণে রাখবে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান বলেন, ‘বিচার নিশ্চিত যদি আমরা করতে না পারি তাহলে এই বাংলাদেশে ভয়ঙ্কর পরিণতি আমাদেরকে আজ হোক কাল হোক ভোগ করতেই হবে।’
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
