ছবি: সংগৃহীত।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের প্রাণকেন্দ্র কাসর আল-হুকম এলাকায় দাঁড়িয়ে আছে সৌদির প্রাচীনতম ঐতিহাসিক ইমাম তুর্কি বিন আবদুল্লাহ মসজিদ। স্থানীয়ভাবে এটি রিয়াদের গ্র্যান্ড মসজিদ হিসেবেও পরিচিত। প্রায় দুই শতাব্দীর ইতিহাস বুকে ধারণ করে থাকা এই মসজিদ সৌদি আরবের ধর্মীয় ঐতিহ্য, ইসলামী জ্ঞানচর্চা এবং নজদি স্থাপত্যের গুরুত্বপূর্ণ স্মারক হিসেবে পরিচিত।
মসজিদটির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস দ্বিতীয় সৌদি রাষ্ট্রের শুরুর সময়ের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। ইমাম তুর্কি বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন সৌদ তাঁর শাসনামলে রিয়াদের ‘আল-নাকআ’ এলাকায় মসজিদটি নির্মাণের নির্দেশ দেন। পরে তাঁর নামেই মসজিদটির নামকরণ করা হয়। রাজপ্রাসাদের নিকটবর্তী গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নির্মিত এই মসজিদকে তিনি ইবাদতের স্থানের পাশাপাশি ইসলামী জ্ঞানচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। মসজিদের ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইমাম তুর্কি বিন আবদুল্লাহ শেখ আবদুর রহমান বিন হাসান আলে শাইখকে এর তত্ত্বাবধায়ক এবং আলেমদের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেন। একই সঙ্গে তত্কালীন প্রচলিত বিভিন্ন জ্ঞান ও বিদ্যা শিক্ষার জন্য পুরোনো শিক্ষাকেন্দ্র পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
প্রতিষ্ঠার পর বিভিন্ন সময়ে মসজিদটির সম্প্রসারণ ও সংস্কার করা হয়েছে। ইমাম তুর্কি বিন আবদুল্লাহর পুত্র ইমাম ফয়সাল বিন তুর্কির সময়ে মসজিদটির বড় ধরনের পুনর্নিমাণ করা হয়। ১২৫৯ হিজরিতে তিনি মসজিদটি পূর্ব ও পশ্চিম দিকে সম্প্রসারণ করেন। পাশাপাশি এর প্রাঙ্গণে ইসলামী অলঙ্করণ যুক্ত করা হয় এবং মসজিদ ও রাজপ্রাসাদের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করতে উঁচু পথ ও আচ্ছাদিত চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়। পরবর্তী সময়ে বাদশাহ আবদুল আজিজ বিন আবদুর রহমান আল সৌদ মসজিদটির উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ অব্যাহত রাখেন। রাজপ্রাসাদ থেকে মসজিদে যাতায়াত সহজ করতে একটি সেতু নির্মাণ করা হয় এবং মসজিদে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়। বাদশাহ সৌদের আমলেও মসজিদটির সম্প্রসারণ, আসবাবপত্রের উন্নয়ন এবং আলোকসজ্জার আধুনিকায়ন করা হয়। পরবর্তী সময়ে বাদশাহ ফয়সাল ও বাদশাহ খালিদের শাসনামলেও মসজিদটির সংস্কার ও সম্প্রসারণ অব্যাহত ছিল।
প্রাচীন সময়ে মসজিদটি তত্কালীন নজদি নির্মাণরীতি অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছিল। কাদামাটি ও শুকনো ইট ছিল নির্মাণের অন্যতম প্রধান উপকরণ। ছাদ নির্মাণে ব্যবহূত হতো খেজুরগাছের কাণ্ড ও পাথর।
সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে মসজিদটিও আধুনিক স্থাপত্যের রূপ পেতে থাকে। কাসর আল-হুকম উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে এর ব্যাপক পুনর্গঠন করা হয়। ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণের পাশাপাশি আধুনিক নির্মাণপ্রযুক্তি যুক্ত করা হয়।
মসজিদের নতুন কাঠামোতে প্রিকাস্ট কংক্রিট ব্যবহার করা হয়েছে। বাইরের দেয়াল ও ভেতরের দেয়ালের ওপরের অংশ রিয়াদ পাথরে আবৃত। দেয়াল ও স্তম্ভের নিচের অংশে রয়েছে সাদা মার্বেলের আবরণ। ছাদে কংক্রিটের স্ল্যাব ব্যবহার করা হলেও এর নকশায় পুরোনো মসজিদের কাঠের বিমের ঐতিহ্যবাহী আবহ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মসজিদে সরাসরি টেলিভিশন ও রেডিও সম্প্রচারের ব্যবস্থা এবং দূরনিয়ন্ত্রিত ক্যামেরাও স্থাপন করা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
