সাবেক বিচারপতিদের সাধারণ পাসপোর্ট দিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত দুটি গোয়েন্দা ক্লিয়ারেন্সের বাধ্যবাধকতা অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। রায়ে বলা হয়েছে, বিচারক পদে দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্র তাদের মর্যাদা ও পরিচয় যাচাই করেই কূটনৈতিক পাসপোর্ট দিয়ে থাকে। অবসরের পর সাধারণ পাসপোর্ট পেতে তাদের পুনরায় গোয়েন্দা ভেরিফিকেশনের সম্মুখীন করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন।
বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ২ সেপ্টেম্বর এ রায় দেন। বুধবার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়। রায়ে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীসহ সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারক ও তাদের স্ত্রীদের কোনো প্রকার অতিরিক্ত গোয়েন্দা ভেরিফিকেশন ছাড়াই সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যু করে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে রিট আবেদনে বলা হয়, ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ও তাদের স্ত্রীগণ কূটনৈতিক পাসপোর্টের অধিকারী। বিচারকের পদ থেকে অবসর বা পদত্যাগের পর এই কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণ করে তাদের সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে হয়। পূর্বে এসব সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে কোনো গোয়েন্দা প্রতিবেদনের প্রয়োজন হতো না।
তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট এক স্মারকে কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণকারী ব্যক্তিবর্গের সাধারণ পাসপোর্ট পাওয়ার পূর্বে দুটি গোয়েন্দা সংস্থার সন্তোষজনক প্রতিবেদনের শর্ত দেয়।
এই সিদ্ধান্তের কারণে আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণ করে ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর সাধারণ পাসপোর্টের আবেদন করলেও গোয়েন্দা ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ার অজুহাতে তাকে পাসপোর্ট না দেওয়ায় তিনি বিদেশ ভ্রমণে বাধাগ্রস্ত হন। এ ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের অনুমতিক্রমে হাইকোর্ট বিভাগের প্রোটোকল অফিসার মো. রোমান ভূঁইয়া প্রশাসনিক এই বাধা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। পরে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। সেই রুল নিষ্পত্তি করে এই রায় দেওয়া হয়।