ছবি: সংগৃহীত।
বিয়ে মানুষকে শালীন, পবিত্র ও পরিপূর্ণ জীবনযাপনের পথে নিয়ে যায়। মানব ইতিহাসের শুরু থেকেই বিয়ের বিধান চলে আসছে। ইসলামে বিয়েকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও বরকতময় একটি ইবাদত হিসেবে বলা হয়েছে।
নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘হে যুবসমাজ, তোমাদের মধ্যে যার বিয়ের সামর্থ্য আছে, তার বিয়ে করা উচিত। কেননা বিয়ে চোখকে নিচু রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। আর যার সামর্থ্য নেই, সে যেন রোজা রাখে। কেননা রোজা যৌবনের খায়েশ কমিয়ে দেয়।’ (সহিহ বোখারি : ৫০৬৫, সহিহ মুসলিম : ১৪০০)
তবে মানবজাতির সভ্যতা ও আদর্শ রক্ষায় একজন পুরুষকে ১৪ নারীর যে কারোর সঙ্গে বিয়ে করতে নিষেধ করেছে ইসলাম। শরিয়তের দৃষ্টিতে এই ১৪ নারীর কারোর সঙ্গে একজন পুরুষের বিয়ে হারাম ও অবৈধ। পবিত্র কুরআনের সূরা নিসার ২২ ও ২৩ নম্বর আয়াতে তাদের তালিকা দেয়া হয়েছে। নিচে তাদের পরিচয় তুলে ধরা হলো—
১. সৎ মা। সৎ মা হলেন বাবার স্ত্রী। তবে দাদা, নানা এবং তাদের ঊর্ধ্বতনদের সৎ স্ত্রীরাও এই হুকুমের অন্তর্ভুক্ত হবেন।
২. মা। দাদী ও নানী যত ওপরেরই হোক, সবাই মায়ের হুকুমে শামিল হবেন।
৩. মেয়ে। এই হুকুমে পৌত্রী ও দৌহিত্রী এবং নীচ পর্যন্ত সকল কন্যা দাখিল হবে।
৪. বোন। বোনের হুকুমে সহোদর, বৈমাত্রেয় এবং বৈপিত্রেয় সবাই থাকবে।
৫. ফুফু। ফুফুর মধ্যে বাবা ও দাদা যত ঊর্ধ্বের হোক, তাদের তিন প্রকার বোনই শামিল হবে।
৬. খালা। খালার মধ্যে মা, নানী ও নানীর নানী, সবার তিন প্রকারের বোনই দাখিল।
৭. ভাতিজী। ভাতিজীর মধ্যে তিন প্রকারের ভাইয়েরই মেয়েরা এবং ভাইদের নাতনীরা অন্তর্ভুক্ত।
৮. ভাগিনী। ভাগিনীর মধ্যে তিন রকম বোনেরই মেয়েরা এবং বোনদের নাতনীরা শামিল রয়েছে।
৯. দুধ মা। তার দিকের ফুফু, খালা, নানী এবং দাদীও এই হুকুমের অন্তর্ভুক্ত।
১০. দুধ বোন। এই হুকুমে তার মেয়ে, ভাতিজী এবং ভাগিনীও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
১১. শাশুড়ি
১২. সেই স্ত্রীর (পূর্ব ঔরসজাত) কন্যা, যার সাথে সহবাস হয়েছে। আর যদি সহবাসের পূর্বেই স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেওয়া হয়, তবে তার কন্যার সঙ্গে বিয়ে হতে সমস্যা নেই।
১৩. পুত্রবধূ। নীচ পর্যন্ত পৌত্রবধু এবং দৌহিত্রবধূও এই হুকুমের পর্যায়ভুক্ত।
১৪. দুই বোনকে একত্রে বিয়ে করা। অর্থাৎ যতদিন পর্যন্ত কোনো নারী বিবাহে রয়েছে, ততদিন পর্যন্ত ওই নারীর আত্মীয় নারী তথা ফুফু, খালা, ভাতিজী ও ভাগিনীর সঙ্গে বিয়ে জায়েজ হবে না।
উল্লিখিত ১৪ নারী ছাড়াও আরও যাদের বিয়ে করা হারাম
উপরের ১৪ জন ছাড়াও একজন পুরুষের জন্য আরও কয়েক শ্রেণীর নারীর সঙ্গে বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ হওয়া হারাম। নিচে তাদের পরিচয় তুলে ধরা হলো।
১. একসঙ্গে চারজনের বেশি নারীকে বিয়ে করা হারাম।
২. ঘনিষ্ঠতম দুই নারীকে একসঙ্গে বিয়ে করা হারাম। অর্থাৎ, এমন দুইজন দুধ সম্পর্কীয় বা নসবী (নিজ বংশের) নারীকে একসঙ্গে বিয়ে করা, যাদের কোনও একজনকে পুরুষ ধরা হলে অন্যজনের সঙ্গে তার বিয়ে বৈধ হবে না। যেমন— ফুফু-ভাতিজি ও আপন দুই বোনকে একসঙ্গে বিয়ে করা হারাম।
কারণ, এদের মধ্যে ফুফুকে যদি চাচা মনে করা হয় তাহলে চাচার সঙ্গে ভাতিজির বিয়ে হারাম, আবার ভাতিজিকে যদি ভাতিজা মনে করা হয়, তাহলে ফুফুর সঙ্গে ভাতিজার বিয়ে বৈধ নয় অথবা দু্ই বোনের মধ্যে কোনও একজনকে ভাই মনে করা হলে ভাইয়ের জন্য বোনকে বিয়ে করা হারাম।
৩. স্বাধীন নারীকে বিয়ে করার পর কোনও ক্রীতদাসীকে বিয়ে করা বৈধ হবে না।
৪. অন্য পুরুষের তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী বা স্বামীর মৃত্যুর পর নারীর ইদ্দতের সময় পূর্ণ হওয়ার আগে তাকে বিয়ে করা বৈধ হবে না।
৫. মুসলিম পুরুষের জন্য অমুসলিম নারীকে বিয়ে করা হারাম।
৬. কোনও নারীর জন্য নিজের গোলাম বা দাসকে বিয়ে করা হারাম।
৭. স্বামীর জন্য নিজের তিন তালাক দেওয়া স্ত্রীকে বিয়ে করা হারাম। (অন্য কারও সঙ্গে তার (স্ত্রী) বিয়ে হয়ে সেই স্বামী তাকে তালাক দেওয়া বা সেই স্বামীর মৃত্যুর পর ইদ্দত পালনের পূর্বে প্রথম স্বামী তাকে বিয়ে করতে পারবে না।)
৮. যে নারীর সঙ্গে জেনা করা হয়েছে বা যৌন উত্তেজনার সঙ্গে যে নারীকে স্পর্শ বা চুমু দেওয়া হয়েছে— এমন নারীর মেয়ে, নাতনি বা মা, নানীকে বিয়ে করা হারাম।
৯. অন্যের বৈধ স্ত্রীকে বিবাহ করা হারাম।
(ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী : ১/২৭৩, তাবঈনুল হাকাইক : ২/১০১, ফাতাওয়ায়ে রাহমানিয়া : ২/ ৮৩)
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
