ছবি: সংগৃহীত।
আল্লাহর মনোনীত দীন ইসলামের পাঁচটি রুকনের মধ্যে জাকাত হচ্ছে তৃতীয় রুকন, মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে সম্পদ আয়-ব্যয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। কোথায় কতটুকু কিভাবে খরচ করবে এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে ব্যক্তির কী করণীয় তার সব সমাধান দেওয়া হয়েছে ইসলামে জাকাতের বিধানে। শরিয়তসম্মতভাবে জাকাত তার উপযুক্ত ক্ষেত্রে দেওয়া হলে সমাজে-দেশে ধনীদরিদ্রের বৈষম্য দূরীভূত হবে। দেশকে দরিদ্রসীমার রেখা থেকে বের করে উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তর করা সম্ভবপর হবে।
আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তায়ালা জাকাত প্রদানের মাধ্যমে ব্যক্তির সম্পদে বরকত ও নেকি বৃদ্ধি করে দেন। সম্মানিত শ্রোতা ভাইবোন এখন মাহে রমজান অতিবাহিত হচ্ছে। একটি ফরজ ইবাদত করলে ৭০টি ফরজ ইবাদতের সওয়াব পাওয়া যাবে, একটি নফল ইবাদত করলে একটি ফরজের সমপরিমাণ সওয়াব পাওয়া যাবে। তাই আমরা মাহে রমজানে জাকাত প্রদানের মাধ্যমে অনেক সওয়াবের অধিকারী হতে পারি।
আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তায়ালা সুরা সাবার ৩৯ নম্বর আয়াতে বলেছেন, তোমরা যা কিছু আল্লাহর রাস্তায় খরচ করছ, আল্লাহ সুবাহানাহুওয়া তায়ালা তার পরিবর্তে তোমাদের উত্তম বিনিময় দান করবেন। তিনি সর্বোত্তম রিজিকদাতা। আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তায়ালা সামর্থ্যবান ব্যক্তির সম্পদ নিসাব পরিমাণ থাকলে এক বছর অতিবাহিত হওয়ার পর শতকরা আড়াই টাকা হারে জাকাতের জন্য ফরজ করেছেন।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কুরআন মাজিদের সুরা বাকারার ৪৩নং আয়াতে বলেছেন, তোমরা যথাযথভাবে সালাত আদায় করো জাকাত প্রদান করো এবং রুকুকারীদের সঙ্গে রুকু করো।
জাকাত ইসলামের একটি অপরিহার্য ইবাদত, সুস্থ মস্তিষ্ক, আজাদ, বালেগ মুসলমান নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে জাকাত আদায় করা তার ওপর ফরজ হয়ে যায়।
অসুস্থ মস্তিষ্ক মুসলিম ও নাবালক শিশু-কিশোরের ওপরে জাকাত ফরজ হয় না। সব ধরনের সম্পদের ওপর জাকাত ফরজ হয় না শুধু সোনা রুপা, টাকাপয়সা, পালিত পশু এবং ব্যবসার পণ্য জাকাত ফরজ হয়। সোনা-রুপার অলংকার সর্বদা ব্যবহৃত হোক বা না হোক সর্বাবস্থায় জাকাত ফরজ হবে। সুনানে নাসাঈ হাদিস ২২৫৮।
জামাকাপড় কিংবা অন্য কোনো সামগ্রীতে সোনা-রুপার কারুকাজ করা থাকলে তা-ও জাকাতের অন্তর্ভুক্ত হবে। মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক হাদিস ৭০৬৬। সোনা-রুপা ছাড়া অন্য কোনো ধাতুর অলংকার যেমন হিরা, মণি, মুক্তা ইত্যাদি মূল্যবান পাথর, ব্যবসায়ী পণ্য না হলে সেগুলোতে জাকাত ফরজ হবে না। ব্যাংক ব্যালান্স, ফিক্সড ডিপোজিট, বন্ডের ওপর জাকাত ফরজ হয়। টাকাপয়সা ব্যবসায় না খাটিয়ে এমনি রেখে দিলেও জাকাত ফরজ হবে। হজের উদ্দেশে কিংবা ঘরবাড়ি নির্মাণ, ছেলেমেয়ের বিয়েশাদি ইত্যাদি প্রয়োজনের জন্য যে অর্থ সঞ্চয় করা হয়, এক বছর অতিবাহিত হলে জাকাত ফরজ হবে। মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক হাদিস ৭০৩২)।
দোকানে যা কিছু বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে রাখা হয় তার মূল্য নেসাব পরিমাণ হলে জাকাত ফরজ হবে। সুনানে আবু দাউদ হাদিস ২১৮)। ব্যবসার নিয়তে জমিজমা ফ্ল্যাট কিংবা স্থাবর মুদিসামগ্রী, কাপড়চোপড়, অলংকার নির্মাণসামগ্রী, গাড়ি, ফার্নিচার, ইলেকট্রনিকসসামগ্রী, হার্ডওয়্যারসামগ্রী, বইপুস্তক বাণিজ্য দ্রব্য বলে গণ্য হবে এবং মূল্য নেছাব পরিমাণ হলে জাকাত দেওয়া ফরজ হবে। মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক হাদিস ৭১০৩)। স্বর্ণ সাড়ে সাত ভরি, রুপা সাড়ে ৫২ তোলা এক বছর অতিবাহিত হলে তার জন্য জাকাত ফরজ হবে। কারও কাছে সোনা-রুপা টাকাপয়সা কিংবা বাণিজ্য দ্রব্য পৃথকভাবে বা সম্মিলিতভাবে, নিসাব পরিমাণ ছিল, বছরের মাঝে এই জাতীয় আরও কিছু সম্পদ কোনো সূত্রে পাওয়া গেলে এ ক্ষেত্রে নতুন প্রাপ্ত সম্পদ পুরোনো সম্পদের সঙ্গে যোগ করে জাকাত দিতে হবে।
লেখক: খতিব, বাইতুন নূর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, দক্ষিণ পীরেরবাগ ওলি মার্কেট, ঢাকা
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
