× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ক্রিয়েটিভ অর্থনীতিতে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব: চূড়ান্ত হচ্ছে ‘পর্যটন মহাপরিকল্পনা’

ডেস্ক রিপোর্ট।

১১ জুন ২০২৬, ১৯:০৩ পিএম

ছবি: সংগৃহীত।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ক্রিয়েটিভ (সৃজনশীল) অর্থনীতি খাতের উন্নয়নে প্রাথমিকভাবে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর খাত থেকে আরও ৫০০ কোটি টাকার তহবিল সংগ্রহ করা হবে।

আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে এ তথ্য তুলে ধরেন।

অর্থমন্ত্রী বক্তৃতায় বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য দেশের ক্রিয়েটিভ শিল্পের বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে উন্মুক্ত করার মাধ্যমে অর্থনীতির মূলধারায় নিয়ে আসা এবং বাংলাদেশের জিডিপিতে এই খাতের অবদান ১ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করা। এ খাতের টেকসই উন্নয়নে সরকারি, বেসরকারি এবং এনজিও খাতের সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণে কর্মপরিকল্পনা ইতোমধ্যে হাতে নেয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ক্রিয়েটিভ অর্থনীতিভিক্তিক পণ্য চিহ্নিতকরণ ও ডিজাইন উন্নয়নে সরকার বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করছে। দেশজুড়ে আঞ্চলিক সৃজনশীল হাব গড়ে তুলতে ১০ বছরের বিনিয়োগ ও সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্লনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী সরকারের পরিকল্পনা  জানান। তিনি জানান, ঢাকার পূর্বাচলে ১৬০ একর জায়গার ওপর পিপিপি মডেলে বিশ্বমানের একটি সেন্ট্রাল ক্রিয়েটিভ হাব স্থাপনে সম্ভাব্যতা যাচাই করে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এবং শিল্প একাডেমি ও শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে ‘ক্রিয়েটিভ হাব’ স্থাপন করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও স্নাতক পর্যায়ের কলেজ সমূহে ইনোভেশন হাব চালুর বিষয়ে কর্মপরিকল্লনা প্রণয়নের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। সরকারের ‘১টি-গ্রাম-১টি-পণ্য’ উদ্যোগ বাস্তবাযনের অংশ হিসেবে ক্রিয়েটিভ

অর্থনীতিভিত্তিক পণ্য যেমন: তাঁতশিম্প, মৃৎশিল্প, বুনন শিল্প, শীতলপাটি, শতরঞ্জি, কাঠের খেলনা, হাতে তৈরি গয়না, টেরাকোটা, ইত্যাদিসহ আরও অনেক পণ্য চিহ্নিত করা হচ্ছে। ক্রিয়েটিভ পণ্যের উন্নয়ন ও নকশার মানোন্নয়নের জন্য দেশীয় ডিজাইনারদের সমন্বয়ে একটি ‘ন্যাশনাল পুল অব ডিজাইনারস’ গঠন করা হচ্ছে।  বিসিকের আওতাধীন নকশাকেন্দ্রকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক মানে উন্মীত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয এবং বিশিষ্ট ডিজাইনারদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, অঞ্চলভিত্তিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। হ্যারিটেজ স্থাপনা পুনরুদ্ধার করে আন্তর্জাতিক উৎসব আয়োজনের লক্ষ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে দুই-তিনটি থিমের ওপর ভিত্তি কওে দু’টি পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা পুনরুদ্ধার ও আন্তর্জাতিক উৎসব আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা চিহ্নিত করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় আরো বলেন, জাতীয় উৎসব, সাংস্কৃতিক উংসব, আঞ্চলিক উৎসব, ইত্যাদি বহুমুখী ও ঐতিহ্যমণ্ডিত কার্যক্রমকে অন্তর্ভুক্ত করে মাসভিত্তিক ও থিমভিত্তিক জাতীয় ও আঞ্চলিক ক্যালেন্ডার প্রস্তুতের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, পর্যটন খাতের উন্নয়নের মাধ্যমে ইকোট্যুরিজম উন্নয়নে বিশেষ নজর দিয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সরকার কার্যক্রম গ্রহণ করছে। পর্যটন খাতের পেশাজীবীদের বিশ্বমানের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি আন্তর্জাতিক মানের বিশেষায়িত ট্রেনিং ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হবে। রন্ধনশিল্পসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ট্রেডের প্রশিক্ষণকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করার লক্ষ্যে ইন্টারন্যাশনাল হসপিটালিটি বেঞ্চমার্ক নির্ধারণ করা হবে। পর্যটন খাতের প্রশিক্ষণার্থীদের ক্ষেত্রে বিশ্বখ্যাত সংস্থা কর্তৃক আন্তর্জাতিক মানদন্ডের ভিত্তিতে সার্টিফিকেশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, পর্যটন খাতের সামগ্রিক সম্ভাবনা, বৈচিত্র্য এবং আধুনিক ক্রিয়েটিভ থিমগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সময়োপযোগী ও সমন্বিত ‘পর্যটন মহাপরিকল্পনা’ দ্রুত চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক উৎসব ও বাজারে ক্রিয়েটিভ সম্ভাবনাকে তুলে ধরতে ‘ক্রিয়েটেড ইন বাংলাদেশ’ নামে জাতীয় ব্র্যান্ড চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। থিয়েটার ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ব্যাপকভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করা হবে। চলচ্চিত্রের উন্নয়ন এবং ওটিটি প্লাটফর্মে অংশগ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক মানের কারিগরি মানসম্পন্ন স্টুডিও গড়ে তোলা হবে।

অর্থমন্ত্রী আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি খাতের উন্নয়নে প্রাথমিকভাবে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেন। এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর খাত থেকে আরও ৫০০ কোটি টাকার তহবিল সংগ্রহ করা হবে বলে বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করেন।


Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.