× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

রামিসার বোনের সাক্ষ্য ‘ক্লোজড ডোর’ নেওয়ার আবেদন

ডেস্ক রিপোর্ট।

০২ জুন ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম

ছবি: সংগৃহীত।

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় নিহত শিশুর বাবা ও মায়ের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। তবে রামিসার বড় বোন রাইসা আক্তারের বয়স ও মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে তার সাক্ষ্য ‘ক্যামেরায়’ বা ‘ক্লোজড ডোর’ নেওয়ার আবেদন করা হয়।

এতে সায় দেন আদালত।

আজ মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ১০টা ৩৫ মিনিট থেকে বেলা ১১টা ২৬ মিনিট পর্যন্ত ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে এই সাক্ষ্য গ্রহণ চলে। সাক্ষ্যগ্রহণ উপলক্ষে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে হাজির করা হয়।

আদালতের কার্যক্রমের শুরুতে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু আসামি সোহেল রানা কাস্টডিতে থাকা অবস্থায় বাইরে কথা বলা নিয়ে আপত্তি জানান এবং মিডিয়ার সামনে যেন সে কথা বলতে না পারে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করলে আদালত পুলিশকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলেন।

এরপর প্রথম সাক্ষী হিসেবে মামলার বাদী ও রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা সাক্ষ্য দেন। অসুস্থ থাকায় আদালত তাকে চেয়ারে বসে সাক্ষ্য দেওয়ার অনুমতি দেন।

তিনি জানান, ঘটনার দিন সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে বনানী কাকলীতে নিজের অফিসে পৌঁছানো মাত্রই স্ত্রীর ফোন পেয়ে বাসে করে ২৫-৩০ মিনিটে বাসায় আসেন। এসে দেখেন বাসার সামনে লোকজন জড়ো হয়ে আছে।

স্ত্রী জানান রামিসা অপজিটের ফ্ল্যাটে আটকে আছে। তখন তিনি নিচে দৌড়ে গিয়ে হাতুড়ি এনে প্রায় ২০ মিনিট চেষ্টা করে দরজার লক ভাঙেন। ভেতরে ঢুকে কমন রুমে প্রচুর রক্ত এবং স্বপ্না খাতুনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। পরে স্টিলের খাটের নিচে রামিসার মরদেহ ও বালতির ভেতর খণ্ডিত মাথা দেখতে পান। আসামি সোহেল রানাকে তিনি আগে কখনো দেখেননি বলে জানান।

সকাল ১১টায় তার সাক্ষ্য শেষ হয়।

এরপর সকাল ১১টা ২ মিনিটে দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে রামিসার মা পারভীন আক্তার সাক্ষ্য দেন। তিনি জানান, গত ১৯ মে ঘটনার দিন তিনি রান্না করছিলেন। বড় মেয়ে রাইসা চাচার বাসায় যাওয়ার সময় ছোট মেয়ে রামিসাও যেতে চাইলে তিনি বারণ করেন। পরে বড় মেয়ে একা চলে যায়। এর কিছুক্ষণ পর পাশের ফ্ল্যাট থেকে বাচ্চার চিৎকার শুনতে পান। ৩-৪ মিনিট পর বড় মেয়ে একা ফিরে এসে জানায় রামিসা চাচার বাসায় যায়নি। তখন চারদিকে ও নিচে খুঁজেও রামিসাকে না পেয়ে তিন তলার ফ্ল্যাটে ধাক্কা দিলে তারা দরজা খোলেনি। দরজার বাইরে একটি জুতা দেখে সন্দেহ হলে প্রতিবেশীদের জড়ো করেন এবং স্বামীকে ফোন দেন। দরজা না খোলায় লক ভেঙে ভেতরে ঢুকে তারা খাটের নিচে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান। তিনি স্বপ্নাকে দরজা খুলতে বললেও সে খোলেনি এবং পরে শোনেন রুবেল নামে একজন গ্রিল কেটে পালিয়ে গেছে। বেলা ১১টা ২৬ মিনিটে তার সাক্ষ্য শেষ হয়।

মামলার ৩ নম্বর সাক্ষী ও রামিসার বড় বোন রাইসা আক্তারের অপ্রাপ্ত বয়স ও মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে তার সাক্ষ্যগ্রহণ ‘ক্যামেরায়’ (ক্লোজড ডোর) নেওয়ার আবেদন করেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। এতে সায় দেন আদালত।

উল্লেখ্য, গত ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। গত ১৯ মে দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের ‘বি’ ব্লকের একটি ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার দিনই রামিসার বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলায় মোট ১৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।


Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.