শুধু মিষ্টি খেলেই ডায়াবিটিস হয়—এ ধারণা পুরোপুরি ঠিক নয়। দীর্ঘদিনের অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের নানা কারণে শরীরে ধীরে ধীরে তৈরি হতে পারে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স। রক্তপরীক্ষায় বিষয়টি ধরা পড়ার আগেও শরীরে কিছু পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। পেটে মেদ বাড়া, ঘন ঘন খিদে পাওয়া, বারবার মিষ্টি খেতে ইচ্ছে করা এবং ত্বকে পরিবর্তন এর মধ্যে অন্যতম।
ইনসুলিন ঠিকমতো কাজ না করলে খাবার থেকে পাওয়া শর্করা শরীরে স্বাভাবিকভাবে ব্যবহৃত হতে বাধাগ্রস্ত হয়। এতে পর্যাপ্ত শক্তি না পাওয়ায় ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স থাকলে ওজন বৃদ্ধি, হৃদ্রোগের ঝুঁকি ও অন্যান্য বিপাকীয় সমস্যার সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকতে পারে।
তাই রক্তপরীক্ষায় বিষয়টি ধরা পড়ার আগেই শরীরে দেখা দেওয়া কিছু পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।
ওজন না বাড়লেও বাড়ছে ভুঁড়ি
স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পরও যদি ধীরে ধীরে পেটের মেদ বাড়তে থাকে, তাহলে বিষয়টি খেয়াল করা দরকার। ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় পেটে মেদ জমার প্রবণতা বাড়তে পারে।
নামাজের সময়সূচী
পেট ভরে খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই আবার খিদে লাগলে বিষয়টি নজরে রাখা উচিত। এর অনেক কারণ থাকতে পারে। তবে খাবারে প্রোটিন ও আঁশের তুলনায় অতিরিক্ত শর্করা থাকলে রক্তে শর্করার ওঠানামা ও ক্ষুধার অনুভূতিতে প্রভাব পড়তে পারে।
বারবার মিষ্টি খেতে ইচ্ছে করা
সারাদিন মিষ্টি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার খেতে ইচ্ছে করা এবং একই সঙ্গে ক্লান্তি বা ঝিমঝিম ভাব থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। এগুলো বিভিন্ন কারণেও হতে পারে, তবে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের সঙ্গেও সম্পর্ক থাকতে পারে।
ঘাড়ের চারপাশে কালচে ছোপ
ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের সঙ্গে ত্বকের কিছু পরিবর্তনের সম্পর্ক রয়েছে। ঘাড়ের চারপাশের ত্বক হঠাৎ খসখসে বা মোটা হয়ে কালচে ছোপ পড়লে তা অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে রক্তে শর্করার পরীক্ষা করানো যেতে পারে।
শরীরে এক-দুটি আঁচিল থাকা সাধারণ বিষয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা ক্ষতিকর নয়। তবে অল্প সময়ে শরীরে আঁচিলের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে গেলে বিষয়টি চিকিৎসকের নজরে আনা ভালো। কিছু ক্ষেত্রে এ ধরনের ত্বকের পরিবর্তনের সঙ্গে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের সম্পর্ক থাকতে পারে।
তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই যে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। একই ধরনের উপসর্গ অন্য কারণেও হতে পারে। তাই শরীরে এমন পরিবর্তন দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রক্তে শর্করার পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে নিরাপদ।