ছবি: সংগৃহীত।
পিরিয়ড বা ঋতুস্রাবের সময় তলপেট ও কোমরে ব্যথা, দুর্বলতা, পেট ফাঁপা, মাথাব্যথা কিংবা মেজাজের পরিবর্তন—এ ধরনের সমস্যায় ভোগেন অনেক নারী। কারও কারও ক্ষেত্রে ব্যথা এতটাই তীব্র হয় যে স্বাভাবিক কাজকর্মও ব্যাহত হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে ঋতুস্রাবের এই ব্যথাকে বলা হয় ‘ডিসমেনোরিয়া’।
ব্যথা কমাতে অনেকে হটব্যাগ বা ব্যথানাশক ওষুধের ওপর নির্ভর করেন। তবে ঋতুস্রাবের সময়ে খাবারের তালিকায় কিছু পরিবর্তন আনা এবং পর্যাপ্ত পানি পান শরীরকে স্বস্তি দিতে পারে। বিশেষ করে আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, ওমেগা-৩, ফাইবার ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার এ সময়ে উপকারী হতে পারে।
প্রথম দিন
ঋতুস্রাবের প্রথম দিকে রক্তপাতের কারণে শরীর দুর্বল ও ক্লান্ত লাগতে পারে। তাই এ সময় আয়রন ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
যা খাবেন: পালংশাকসহ বিভিন্ন সবুজ শাক, মসুর ডাল, বিট, খেজুর এবং ছোট মাছ রাখতে পারেন খাবারের তালিকায়। আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খেলে আয়রন শোষণে সহায়তা করতে পারে।
আদা দিয়ে গরম পানীয়ও অনেকের অস্বস্তি কমাতে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। ডাবের পানি ও পানিসমৃদ্ধ ফলও রাখা যেতে পারে খাদ্যতালিকায়।
দ্বিতীয় দিন
এ সময়ে শরীরে ক্লান্তি ও দুর্বলতা থাকলে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া জরুরি। অতিরিক্ত মিষ্টি, কোমল পানীয়, অতিরিক্ত লবণাক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়াই ভালো।
যা খাবেন: ওটস, ডালিয়া, রাগি, মিষ্টি আলু বা রাঙা আলুর মতো জটিল কার্বোহাইড্রেট খেতে পারেন। পাশাপাশি মাছ, মুরগি ও ডিমের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখুন। নিরামিষভোজীরা পনির, ছানা ও সয়াবিন খেতে পারেন।
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের জন্য তিসি ও চিয়াবীজ এবং আখরোটও খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
তৃতীয় দিন
ঋতুস্রাবের সময় শরীরকে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট দিতে শাকসবজি ও ফল খাওয়া উপকারী। ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার হজমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতেও সহায়তা করে।
যা খাবেন: বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি, মৌসুমি ফল, ডাল ও পূর্ণ শস্য খেতে পারেন। শরীরে পানির ঘাটতি এড়াতে তরমুজ, শসা ও ডাবের পানিও ভালো বিকল্প।
টক দইয়ের মতো প্রোবায়োটিক খাবারও খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
চতুর্থ দিন
ঋতুস্রাবের সময় হরমোনের পরিবর্তনের কারণে কারও কারও মেজাজের ওঠানামা, ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া, পেট ফাঁপা বা হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ সময় অতিরিক্ত তেল-মসলা ও খুব বেশি লবণযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা ভালো।
যা খাবেন: ম্যাগনেশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার হিসেবে কলা, সবুজ শাকসবজি, বাদাম ও বীজ খেতে পারেন। ডাল, ছোলা ও বিভিন্ন বাদামে থাকা ভিটামিন বি৬-ও খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
ফাইবারের জন্য ওটস, ডালিয়া, শাকসবজি, বাদাম ও মৌসুমি ফল খাওয়া ভালো।
যা এড়িয়ে চলবেন
ঋতুস্রাবের সময় অতিরিক্ত চা-কফি, কোমল পানীয়, অতিরিক্ত লবণ ও চিনি, ভাজাপোড়া এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়াই ভালো। পর্যাপ্ত ঘুম, হালকা ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত পানি পানও অস্বস্তি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
তবে ব্যথা যদি অত্যন্ত তীব্র হয়, প্রতি মাসে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করে, অতিরিক্ত রক্তপাত হয় বা ব্যথার ধরন হঠাৎ বদলে যায়, তাহলে শুধু খাবারের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সূত্র: আনন্দবাজার
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
