ছবি: সংগৃহীত।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর অভিযোগের কড়া জবাব দিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ভোটের রাজনীতিতে বারবার ব্যর্থতার দায় নির্বাচনি প্রক্রিয়ার ওপর না চাপিয়ে কংগ্রেসের উচিত নিজেদের ভুলত্রুটি নিয়ে আত্মবিশ্লেষণ করা। খবর ইন্ডিয়া টুডের।
একই সঙ্গে তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেও কংগ্রেস চতুর্বারের মতো শোচনীয় পরাজয়ের মুখোমুখি হবে।
দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অমিত শাহ এই মন্তব্য করেন।
সম্প্রতি গুজরাটের গান্ধীনগর মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনসহ বেশ কয়েকটি স্থানীয় নির্বাচনে বিজেপির বিশাল জয়ের পরই মূলত এই রাজনৈতিক সংঘাত প্রকাশ্যে আসে।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বর্তমানে উত্তপ্ত ভারতের রাজনীতি। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ‘ইন্ডিয়া’ জোট প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছে।
বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনকে চাপ দিয়ে এবং তাদের সুরক্ষা দিয়ে এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করা হচ্ছে।
এর জবাবে অমিত শাহ দাবি করেন, এসআইআর প্রক্রিয়াটি ২০২৪ সালের পর কার্যকর হয়েছে। অথচ রাহুল গান্ধী দলের মূল নেতৃত্ব ও সভাপতির দায়িত্বে আসার পর থেকেই কংগ্রেস ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনে হেরে চলেছে।
অমিত শাহ প্রশ্ন তোলেন, ‘রাহুলজিকে আমি জিজ্ঞেস করতে চাই—বিজেপি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা কি এই এসআইআর-এর ফলেই তৈরি? আপনাদের আত্মবিশ্লেষণ করা দরকার।’
নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য ইভিএম বা ভোটার তালিকাকে দায়ী করার সংস্কৃতিকে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, শুধু গুজরাট বা দিল্লি নয় বরং ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম এবং তামিলনাড়ুর বিভিন্ন উপনির্বাচন বা স্থানীয় নির্বাচনেও কংগ্রেসের ভরাডুবি হয়েছে।
বিশেষ করে ত্রিপুরার স্থানীয় নির্বাচনে ব্যালট পেপারে ভোট হওয়া সত্ত্বেও বিজেপির জয় পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি জানান, বিজেপির জয় কোনো বিশেষ পদ্ধতি বা ইভিএমের ওপর নির্ভরশীল নয়। এছাড়া, রাহুল গান্ধীর ছাত্র কর্মসূচি ‘ছাত্রোঁ কি গূঞ্জ’ এবং দিল্লিভিত্তিক আন্দোলনকে ‘মিডিয়া ইভেন্ট’ ও ভিত্তিহীন প্রচারণা বলে আখ্যায়িত করেন তিনি।
এ ছাড়া ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চল ও গ্রামগঞ্জ থেকে কংগ্রেস সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলেও দাবি করেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তার ভাষায়, ‘দেশের প্রকৃত কণ্ঠস্বর লুকিয়ে রয়েছে খেতখামার, গ্রাম, পাহাড়ি অঞ্চল ও নদীতীরবর্তী জনপদে; কিন্তু সেখানে কংগ্রেসের কোনো পৌঁছানোর ক্ষমতা বা জনভিত্তি নেই।’
সবশেষে ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচন নিয়ে আত্মবিশ্বাসী সুরে অমিত শাহ বলেন, ইন্ডিয়া জোট আবারও বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করবে এবং কংগ্রেস হ্যাটট্রিকের পর চতুর্থ বারের মতো বড় পরাজয়ের স্বাদ পাবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
