রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় মহাকাশে নিজেদের অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহাকাশে নিজেদের সম্পদ রক্ষা করতে এবং প্রতিপক্ষকে নিবৃত্ত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সামরিক ও প্রযুক্তিগত দিক থেকে মহাকাশ এখন পরাশক্তিগুলোর নতুন যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, গত কয়েক বছরে রাশিয়া ও চীন মহাকাশে তাদের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে।
বিশেষ করে, স্যাটেলাইট ধ্বংসকারী অস্ত্র বা অ্যান্টি-স্যাটেলাইট মিসাইল এবং অন্যান্য লেজার প্রযুক্তির উন্নয়নের মাধ্যমে দেশ দুটি মার্কিন মহাকাশ ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলাতেই যুক্তরাষ্ট্র মহাকাশে তাদের অস্ত্র ও প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতার বিষয়টি প্রকাশ্যে আনল।
মার্কিন সামরিক সূত্র মতে, তাদের প্রধান লক্ষ্য হলো মহাকাশে থাকা নিজেদের যোগাযোগ, জিপিএস ও নজরদারি স্যাটেলাইটগুলোর পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি, যেকোনো সংঘাতের সময় প্রতিপক্ষের স্পেস নেটওয়ার্ক ও স্যাটেলাইট ব্যবস্থা অকার্যকর করার প্রয়োজনীয় সক্ষমতাও যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই স্বীকারোক্তির ফলে মহাকাশে পরাশক্তিগুলোর মধ্যে অস্ত্র প্রতিযোগিতার নতুন এক যুগের সূচনা হতে পারে।
মহাকাশকে অস্ত্রমুক্ত রাখার বিষয়ে ১৯৬৭ সালের আন্তর্জাতিক মহাকাশ চুক্তি (আউটার স্পেস ট্রিটি) থাকলেও, বর্তমান প্রেক্ষাপটে পরাশক্তিগুলোর এমন পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স