পাকিস্তান-শাসিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের (এজেকে) ১৭তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন দেশটির ক্ষমতাসীন পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন)- এর ব্যারিস্টার ইফতিখার গিলানি। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) তিনি শপথগ্রহণ করেন।
অন্যদিকে, তার প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) প্রার্থী সরদার মুখতার খান পেয়েছেন ১৪ ভোট।
মুজাফফরাবাদে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের জন্য আজাদ কাশ্মীর আইনসভার অধিবেশন বসে। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার চৌধুরী তারিক ফারুক। ভোটগ্রহণের সময় দুই প্রার্থীই আইনসভায় উপস্থিত ছিলেন।
ভোট শুরুর আগে ইফতিখার গিলানি ও সরদার মুখতার খান একে অপরের সঙ্গে করমর্দন করেন। এতে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ভোটের কার্যক্রম শুরু হয়।
পিএমএল-এন’র আজাদ কাশ্মীর শাখার সভাপতি শাহ গুলাম কাদির অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন না। তবে দলটির জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজা ফারুক হায়দার অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর গিলানি জানান, তার সরকার সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এমন একটি আজাদ কাশ্মীর গড়ে তুলতে কাজ করবে, যা বিশ্বের কাছে উদাহরণ হয়ে উঠবে।
তার ভাষ্য, ‘আমরা সবাই একসঙ্গে এগিয়ে যাব।’
গিলানি বলেন, আজাদ কাশ্মীরে বর্তমানে সুশাসনের নানা সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি হাসপাতালগুলোর মান উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। তার দাবি, আজাদ কাশ্মীরের উন্নয়নে তার সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ অন্যদের জন্যও দৃষ্টান্ত তৈরি করবে।
গিলানি বলেন, ‘এই সরকার হবে জনগণের সরকার।’ এখন থেকে ‘কাশ্মীরের জনগণের যুগ শুরু হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তার সরকারের সময়ে সাধারণ মানুষ ও সরকারি কর্মচারীরা পরিবর্তনের সুফল দেখতে পাবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ইফতিখার গিলানি আজাদ কাশ্মীরে পিএমএল-এন’র অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা। মুজাফফারাবাদের একটি পরিচিত রাজনৈতিক পরিবারে তার জন্ম। আইন, শিক্ষা ও সংসদীয় রাজনীতিতে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।
তিনি ইসলামাবাদে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে যান। সেখানে বার-অ্যাট-ল ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে পাকিস্তানে ফিরে ইসলামাবাদে আইন পেশায় যুক্ত হন।