× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ইরান যুদ্ধ আঞ্চলিক নিরাপত্তার সমীকরণ বদলে দিয়েছে: আরাগচি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।

১৯ আগস্ট ২০২৬, ১৩:২২ পিএম

ছবি: সংগৃহীত।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ইরান যুদ্ধের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ভাবনায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এ যুদ্ধ আরব দেশগুলোকে বুঝিয়েছে, নিরাপত্তা বিদেশি সামরিক ঘাঁটির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে আঞ্চলিক ও সম্মিলিত ব্যবস্থার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।

ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে বাইরের শক্তি ও তাদের সামরিক ঘাঁটিগুলো শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থই হয়নি, বরং অনেক ক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতার উৎসে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, যেসব দেশে বিদেশি সামরিক ঘাঁটি ছিল না, তারা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ছিল এবং যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি ছিল, তাদের তুলনায় যুদ্ধের ক্ষতিও কম হয়েছে। তার দাবি, যেসব ঘাঁটি স্বাগতিক দেশগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার কথা ছিল, বাস্তবে সেগুলো ইসরাইলকে সুরক্ষা দিয়েছে; কিন্তু স্বাগতিক দেশগুলোকে রক্ষা করতে পারেনি।

আরাগচির মতে, এখন পুরো অঞ্চলে পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা সম্পর্কে আরও বাস্তবসম্মত ধারণা তৈরি হয়েছে। এ নিরাপত্তা হতে হবে সম্মিলিত এবং এর সঙ্গে অর্থনৈতিক নিরাপত্তার বিষয়টিও যুক্ত করতে হবে। এক দেশ অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তার দিক থেকে অন্য দেশের তুলনায় ভারসাম্যহীন অবস্থায় থাকলে টেকসই আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে দেশটির পররাষ্ট্রনীতি যুদ্ধের আগের সময়ের তুলনায় ‘সম্পূর্ণ ভিন্ন’ হবে।

তিনি দাবি করেন, ইরানকে দুর্বল হিসেবে দেখার ধারণা পুরোপুরি মুছে গেছে। আরাগচির ভাষ্য, যুদ্ধের আগে ইরানকে দুর্বল মনে করা হয়েছিল এবং সেই ভুল ধারণাই দেশটির ওপর হামলার সুযোগ তৈরি করেছিল। তবে ৪০ দিনের প্রতিরোধের পর ইরানের নতুন ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে—একটি কঠিন পরিস্থিতিতেও নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে থাকতে সক্ষম শক্তিশালী ও প্রতিরোধী দেশ হিসেবে।

যুদ্ধের সময় ইরানের জনকূটনীতিও অত্যন্ত শক্তিশালী ও প্রভাবশালী ছিল বলে দাবি করেন আরাগচি। তার মতে, এ ক্ষেত্রে ইরানের প্রভাব পশ্চিমা গণমাধ্যমের সম্মিলিত প্রভাবকেও ছাড়িয়ে গেছে। বিদেশে দায়িত্ব পালনকারী ইরানি কূটনীতিকদেরও প্রশংসা করেন তিনি। চাপের মধ্যেও কোনো কূটনীতিক দায়িত্ব ছেড়ে যাননি বলে জানান আরাগচি।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ভূমিকাও তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সম্পাদনে পেজেশকিয়ানের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।  

আরাগচির দাবি, ১২ দিনের যুদ্ধের পর পেজেশকিয়ান শুধু যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে চাননি; তিনি এমনভাবে যুদ্ধের অবসান চেয়েছিলেন, যাতে একই ধরনের যুদ্ধ আবার শুরু না হয়। যুক্তরাষ্ট্র শুরুতে ১৫ দফার যে খসড়া দিয়েছিল, সেটি কার্যত ‘আত্মসমর্পণের দলিল’ ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পরে ১৪ দফার চূড়ান্ত এমওইউতে পৌঁছানোয় আলোচনার অগ্রগতি স্পষ্ট হয়েছে বলে জানান আরাগচি।

পেজেশকিয়ান পদ্ধতির দিক থেকে সংস্কারপন্থি হলেও নীতির প্রশ্নে সম্পূর্ণ আদর্শনিষ্ঠ বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করা এবং দেশের সব মানুষের কল্যাণের প্রতি পেজেশকিয়ানের গভীর অঙ্গীকার রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন আরাগচি।

সবশেষে আরাগচি বলেন, এখন থেকে ইরানিরা এমন এক শক্তিশালী, দৃঢ় ও মর্যাদাপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির চিত্র দেখতে পাবেন, যা জাতীয় স্বার্থ, জনগণের অধিকার এবং ইরানের মর্যাদা ও গৌরবকে অগ্রাধিকার দেবে।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.