ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা শহীদ আলি খামেনির জানাজায় বিপুল মানুষের অংশগ্রহণকে ‘ঐতিহাসিক’, ‘শত্রুর মনোবল ভেঙে দেওয়া’ এবং ‘অভূতপূর্ব’ বলে অভিহিত করেছেন তার ছেলে ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনি। একই সঙ্গে তিনি শহীদ নেতা ও সাম্প্রতিক যুদ্ধে নিহতদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
রোববার (১২ জুলাই) শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনির দাফন-পরবর্তী এক বার্তায় তিনি বলেন, ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত জানাজা ও শোকানুষ্ঠানে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ ইসলামের প্রতি আনুগত্য ও প্রতিরোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
তিনি বলেন, ‘ইরান ও ইরাকের শহর ও গ্রামে, বিশেষ করে তেহরান, কোম, নাজাফ, কারবালা ও মাশহাদে কোটি কোটি মানুষের উপস্থিতির জন্য আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এই উপস্থিতি ছিল বিস্ময়কর, শত্রুর মনোবল ভেঙে দেওয়া এবং ইতিহাসে স্মরণীয়।’
বার্তায় আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি বলেন, ‘আমরা শহীদ নেতা এবং মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনের যুদ্ধে শহীদ হওয়া সকলের পবিত্র রক্তের প্রতিশোধ সেই অপরাধী ও লাঞ্ছিত হত্যাকারীদের কাছ থেকে নেব। এটি আমাদের জাতির দাবি এবং অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে।’
তিনি বলেন, ‘অপরাধীরা কখনো শান্তিতে মৃত্যুবরণ করার স্বপ্নও পূরণ করতে পারবে না।’ এ প্রতিশ্রুতি কোনো ব্যক্তি বা রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তার উপস্থিতির ওপর নির্ভরশীল নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তার ভাষায়, ‘আমরা থাকি বা না থাকি, এই প্রতিশোধ বাস্তবায়িত হবেই। খুব শিগগিরই বিশ্বের স্বাধীনচেতা মানুষ এই ঐশী দায়িত্বের অংশীদার হবে।’
শহীদ খামেনির স্বরণে মোজতবা বলেন, ‘অশ্রুসজল নয়নে ও ভাঙা হৃদয়ে আপনার বিদায় জানিয়ে আমরা প্রতিজ্ঞা করছি, আপনার চিন্তা-চেতনা ও আদর্শ অটুট রাখব এবং আপনি যে সত্য ও ন্যায়ের পথ দেখিয়ে গেছেন, সে পথেই অবিচল থাকব। কোনো কষ্টকে ভয় করব না এবং আপনার মতোই মহান আল্লাহর প্রতিশ্রুতির ওপর ভরসা রাখব।’
বার্তায় খামেনির সঙ্গে নিহতদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা সৌভাগ্যবান। আপনারা আজ সেই মহান ব্যক্তিত্বের সান্নিধ্যে রয়েছেন, যার সেবায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।’
বার্তার শেষাংশে তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা, তাদের পরিবারের জন্য ধৈর্য এবং ইরানের জনগণের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দ্রুত ও চূড়ান্ত বিজয় প্রার্থনা করেন।