ছবি: সংগৃহীত।
ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির লাশবাহী কফিন বুধবার ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় জানাজা শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে নেওয়া হবে। শহর দুটিতে সবচেয়ে পবিত্র ধর্মীয় স্থাপনাগুলো অবস্থিত।
গত শনিবার থেকে খামেনিকে ঘিরে ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান শুরু করেছে ইরান। এর মধ্যে একটি দিন উৎসর্গ করা হয়েছে প্রতিবেশী ইরাককে। শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ এই দেশের সঙ্গে তেহরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
ইরাকের নাজাফ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের পর নিজেদের শক্তি ও ঐক্যের বার্তা তুলে ধরতেই দীর্ঘ এই শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় খামেনি এবং তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হন। ওই হামলার মধ্য দিয়েই যুদ্ধের সূচনা হয়।
ইরানের পবিত্র শহর কোমে বিশাল শোক শোভাযাত্রা শেষে মঙ্গলবার রাতে খামেনির লাশ নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়। সেখানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের উপস্থিতিতে ইরাকের কর্মকর্তা ও জ্যেষ্ঠ রাজনীতিকরা লাশ গ্রহণ করেন।
এ উপলক্ষে বুধবার ইরাকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় নাজাফে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
নাজাফ ও কারবালায় লাখো মানুষের সমাগম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শহরের বিভিন্ন সড়কে খামেনিকে স্বাগত জানিয়ে ব্যানার টাঙানো হয়েছে। ইরানের পতাকার পাশাপাশি নিহত এই নেতার বড় বড় প্রতিকৃতি এবং ইরানের 'অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স'-এর নিহত অন্য কমান্ডারদের ছবিও শোভা পাচ্ছে।
কারবালার একটি ব্যানারে লেখা হয়েছে, 'আমরা আপনাকে বিদায় জানাচ্ছি'। খামেনির আরেকটি ছবিতে সঙ্গে লেখা হয়েছে, 'যিনি আমেরিকাকে অপদস্থ করেছেন।’
বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্ব ইরানের নিজ শহর মাশহাদে খামেনিকে দাফন করা হবে।
নাজাফে শোকাহত মানুষ ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ শোভাযাত্রায় অংশ নেবেন। এটি শেষ হবে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জামাতা এবং প্রথম শিয়া ইমাম হজরত আলী (আ.)-এর পবিত্র মাজারে।
নাজাফ শিয়া ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্রগুলোর প্রধান কেন্দ্র। এখানেই বসবাস করেন ইরাকের সর্বোচ্চ শিয়া ধর্মীয় নেতা গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ আলী সিস্তানি।
খামেনির পূর্বসূরি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনিসহ বহু জ্যেষ্ঠ শিয়া আলেম নাজাফে পড়াশোনা করেছেন, শিক্ষকতা করেছেন অথবা বসবাস করেছেন।
বিশ্বের বহু শিয়া মুসলমানও নাজাফে সমাহিত হওয়ার আকাক্সক্ষা পোষণ করেন।
নাজাফের আনুষ্ঠানিকতা শেষে খামেনির লাশ প্রায় ৬০ কিলোমিটার উত্তরের কারবালায় নেওয়া হবে। সেখানে আরেকটি শোভাযাত্রা হবে। এটি শেষ হবে ইমাম হুসাইন (আ.) ও তার ভাই আব্বাসের পবিত্র মাজারে।
সপ্তম শতকে তৃতীয় শিয়া ইমাম হুসাইনের (আ.) শাহাদাত শিয়া ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। প্রতি
বছর এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মানুষ কারবালা ও নাজাফে সমবেত হন।
দুই শহরেই শোভাযাত্রার পথে স্বেচ্ছাসেবীদের পরিচালিত শত শত অস্থায়ী স্টলে শোকাহত মানুষের জন্য খাবার ও পানীয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বক্তব্যে দেশটির বিপ্লবী গার্ডের কুদস ফোর্সের প্রধান ইসমাইল কানি বলেন, ‘এই ঐতিহাসিক আয়োজন সফল করতে ইরাক সরকার ও জনগণের ব্যাপক প্রস্তুতি পুরো বিশ্বের সামনে ইরাক ও ইরানের দুই মহান জাতির আধ্যাত্মিক সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরেছে।’
তবে ইরাক ও ইরানের সম্পর্ক সব সময় এমন ছিল না।
আশির দশকে শিয়া জনগোষ্ঠীর ওপর দমন-পীড়ন চালানো ইরাকের প্রয়াত শাসক সাদ্দাম হোসেন ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন।
কিন্তু ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আগ্রাসনে সাদ্দামের পতনের পর এবং বাগদাদে শিয়া-প্রধান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশ ঘনিষ্ঠ মিত্রে পরিণত হয়।
বর্তমানে ইরান ইরাকের প্রভাবশালী রাজনীতিকদের পাশাপাশি বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকেও সমর্থন দেয়। এসব গোষ্ঠীর কয়েকটি খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের সমর্থনে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে যোগ দেয় এবং ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
