বিশ্ববাজারে তেলের দামের অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছালেও, তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তারা আমেরিকার সাথে কোনো সরাসরি বৈঠকে বসছে না।
হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রভাবশালী জামাতা জারেড কুশনার শনিবার সকালে পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তাদের সাথে যোগ দিতে পারেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও। মূলত ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সাথে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোই এই সফরের মূল লক্ষ্য।
এদিকে, ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুক্রবারেই ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধিদের সাথে তাদের সরাসরি সাক্ষাতের কোনো পরিকল্পনা নেই। তেহরানের দাবি বা প্রস্তাবগুলো মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই দ্বন্দ্বের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার বর্তমানে টালমাটাল। ইরান গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ করে দেওয়ায় এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানিতে বাধা দেওয়ায় তেলের দাম কয়েক বছরের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। ৯ সপ্তাহ ধরে চলা এই অচলাবস্থার কারণে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সাংবাদিকদের বলেছেন, ইরানের সামনে এখনো একটি ভালো চুক্তির সুযোগ খোলা আছে। তবে তাদের অবশ্যই যাচাইযোগ্য উপায়ে পরমাণু অস্ত্র ত্যাগের ঘোষণা দিতে হবে।
অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে, ইরান হয়তো কোনো একটি প্রস্তাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের দাবি পূরণ করতে পারে। তবে সেই প্রস্তাবের বিষয়বস্তু এখনো স্পষ্ট নয়।
উল্লেখ্য, দুই সপ্তাহ আগেও ইসলামাবাদে এই পক্ষগুলোর মধ্যে একটি বৈঠক হয়েছিল যা কোনো ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়। এবারের এই কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ বিশ্ব অর্থনীতিতে কোনো স্বস্তি ফেরাতে পারে কি না, সেদিকেই এখন নজর বিশ্ববাসীর।