× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ইরান যুদ্ধ নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন জন কেরি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।

২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম

ছবি: সংগৃহীত।

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে হামলা শুরু করে। এই হামলার ফলে অচলাবস্থা মুখে মধ্যপ্রাচ্য। সেই সঙ্গে এর প্রভাব পড়েছে সারা বিশ্বে। ইরান যুদ্ধ নিয়ে এবার মুখ খুললেন সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। দিলেন চমকপ্রদ তথ্য। তিনি বলেন, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগের মার্কিন প্রেসিডেন্টদের কাছে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তারা সবাই যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আইসিসির গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত নেতানিয়াহুর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

‘দ্য লেট শো উইথ স্টিফেন কোলবার্ট’-এ অতিথি হিসেবে আলাপকালে জন কেরি বলেন, ‘ওবামা না বলেছিলেন। বুশ না বলেছিলেন। প্রেসিডেন্ট বাইডেনও না বলেছিলেন। আমি সেইসব আলোচনার অংশ ছিলাম।’

সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্টরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যেতে রাজি হননি। কারণ, তারা ‘শান্তিপূর্ণ উপায়ের সব পথ যাচাই করে দেখেননি।’

জন কেরি যুক্তি দেন, ভিয়েতনাম ও ইরাক যুদ্ধ—দুই যুদ্ধ থেকেই একটি সাধারণ শিক্ষা পাওয়া যায়। এক ভিয়েতনাম যোদ্ধা হিসেবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে জানেন, মার্কিন জনগণকে বিভ্রান্ত করা উচিত নয়।

সাবেক এই মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘ভিয়েতনামের এক যোদ্ধা হিসেবে বলছি, যেখানে এ ধরনের সিদ্ধান্তগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল—সেখানে আমাদের কাছে যুদ্ধের উদ্দেশ্য নিয়ে মিথ্যা বলা হয়েছিল। ভিয়েতনাম ও ইরাক যুদ্ধের শিক্ষা হলো, মার্কিন জনগণের কাছে মিথ্যা বলবেন না। তারপর তাদের ছেলেমেয়েদের যুদ্ধে পাঠাতে বলবেন না।’

জন কেরির এই বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপটি শেয়ার করে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’ লিখেছে, ‘সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলছেন, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু প্রেসিডেন্ট ওবামা, বুশ এবং বাইডেনকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তারা সবাই এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। ভবিষ্যদ্বাণী ছিল, সেখানে (ইরানে) শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটবে এবং মানুষ জেগে উঠবে। কিন্তু আমরা দেখেছি, তার কিছুই ঘটেনি।’

নেতানিয়াহুর ‘কঠিন অপপ্রচার’

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বিস্তারিত উঠে এসেছে—কীভাবে নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইসরাইলের সঙ্গে মিলে ইরানে হামলা চালাতে রাজি করিয়েছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘১১ ফেব্রুয়ারি সিচুয়েশন রুমে যুদ্ধবাজ নেতানিয়াহু জোরালোভাবে যুক্তি দিয়েছিলেন, ইরান এখন শাসন পরিবর্তনের জন্য উপযুক্ত সময়। তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ অভিযান শেষ পর্যন্ত ইসলামিক রিপাবলিকের পতন ঘটাতে পারে।’

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘এটি আমার কাছে ভালো মনে হচ্ছে।’ পরবর্তী সময়ে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে এই যৌথ আগ্রাসনের সবুজসংকেত দেন।

জন কেরি বলেন, নেতানিয়াহুর উপস্থাপনাটি ছিল কেবল একটি ‘ভবিষ্যদ্বাণী’। দেশটির দখল নেওয়া বা শাসন পরিবর্তনের যে দাবি তিনি করেছিলেন, তার কিছুই বাস্তবায়িত হয়নি।

নেতানিয়াহুর সঙ্গে ভ্যান্সের উত্তপ্ত ফোনালাপ

আরেক মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত মাসে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে ইসরাইলের যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ফোনে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছিল। ফোনে আলাপকালে ভ্যান্স ইরান যুদ্ধ নিয়ে নেতানিয়াহুর অতিরিক্ত আশাবাদী বক্তব্যের জন্য তাকে কড়া কথা শুনিয়েছিলেন।

সংবাদমাধ্যমটি জানায়, শাসন পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে নেতানিয়াহু কতটা নিশ্চিত—তা নিয়ে ভ্যান্স তাকে চেপে ধরেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন এক কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেছেন, যুদ্ধের আগে বিবি (নেতানিয়াহু) প্রেসিডেন্টের কাছে বিষয়টিকে খুব সহজ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। কিন্তু ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স সেসব বক্তব্যের ব্যাপারে অনেক বেশি বাস্তববাদী ও সতর্ক ছিলেন।


Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.