ছবি: সংগৃহীত।
পেহেলগাম হামলার প্রথম বার্ষিকীতে বুধবার ইসলামাবাদ অভিযোগ করেছে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে ‘বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ’ দিতে ব্যর্থ হয়েছে নয়াদিল্লি।
এক বিশেষ টেলিভিশন ভাষণে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, তথাকথিত ‘ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন’ নিয়ে স্বাধীন তদন্তের আহ্বানও ভারত এড়িয়ে গেছে।
দীর্ঘদিনের প্রতিবেশী দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ গত বছরের মে মাসে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, যখন ভারত পাকিস্তানের ওপর বিনা উসকানিতে হামলা চালায়। এর আগে ভারত-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের (আইআইওজেকে) পেহেলগামে পর্যটকদের ওপর হামলায় ২৬ জন নিহত হন।
কোনো প্রমাণ উপস্থাপন না করেই নয়াদিল্লি ওই হামলার জন্য ইসলামাবাদকে দায়ী করে। পাকিস্তান তা অস্বীকার করে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানায়।
অভিযোগের পর ভারত পাকিস্তানের অভ্যন্তরে বেআইনি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, এতে কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা সদস্য নিহত হন।
পালটা জবাবে পাকিস্তান সাতটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান—যার মধ্যে তিনটি রাফাল—ভূপাতিত করে, ডজনখানেক ড্রোন ধ্বংস করে এবং একটি এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ১০ মে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের এ সংঘাতের অবসান হয়।
আজকের বক্তব্যে তারার বলেন, পেহেলগাম ঘটনা ‘শূন্যতা, অযৌক্তিক চিন্তা, ভুয়া অহংকার, ঔদ্ধত্য ও লোভ’ দ্বারা চালিত মানসিকতার প্রতিফলন। তিনি যোগ করেন, এক বছর পেরিয়ে গেলেও এ ঘটনার বিষয়ে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেনি ভারত।
তিনি বলেন, ভারত তাদের অভ্যন্তরীণ সমস্যাকে আন্তর্জাতিক ইস্যু হিসেবে উপস্থাপন করে, আবার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিরোধগুলোকে অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে দেখাতে চায়।
তারারের ভাষ্য, সন্ত্রাসবাদ ভারতের অভ্যন্তরীণ সমস্যা হলেও তা বাইরে চাপিয়ে দেওয়া হয়, আর আইআইওজেকে একটি স্বীকৃত আন্তর্জাতিক ইস্যু হওয়া সত্ত্বেও ভারত সেটিকে অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, পেহেলগাম ইস্যুতে ভারতের আচরণ তাদের অতীতের ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ কৌশলের ধারাবাহিকতা এবং তারা ঘটনাটি মোকাবিলায় অপরিণত পদ্ধতি অবলম্বন করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যখন নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের প্রস্তাব দেন, তখন ভারত তা এড়িয়ে যায় এবং অর্থবহ কোনো সাড়া দেয়নি। এতে ঘটনার প্রকৃতি নিয়ে সন্দেহ আরও জোরদার হয়েছে।
তারার বলেন, ঘটনাটির মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে এফআইআর দায়ের করা হয়, যা ঘটনাস্থল ও থানার দূরত্ব বিবেচনায় অস্বাভাবিক এবং পূর্বপ্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়।
তিনি জানান, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, ভারতের নাগরিক সমাজ, রাজনীতিবিদ ও থিংক ট্যাংকগুলোও এ ঘটনায় গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
তারারের মতে, ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ ঘিরে নির্মিত বর্ণনা বিশ্বমঞ্চে টেকসই হয় না এবং ভারত এখনো তাদের দাবির পক্ষে গ্রহণযোগ্য কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেনি।
ভারতীয় গণমাধ্যমের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা যুদ্ধাবস্থা তৈরির চেষ্টা করেছে এবং ভুয়া ও ভিত্তিহীন খবর ছড়িয়েছে, যার বিশ্বাসযোগ্যতা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
বিস্তৃত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শের অধীনে ভারতে সংখ্যালঘুরা অধিকারবঞ্চিত হচ্ছে এবং মুসলমানরা সহিংসতার শিকার। তার দাবি, ভারত সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে ব্যবহার করে এবং বিশ্বজুড়েও এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত।
বিদেশে শিখ নেতাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনা এবং কুলভূষণ যাদবের গ্রেফতারের উদাহরণ টেনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
মন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানের ভেতরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ভারতের জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে এবং বিএলএ ও টিটিপির মতো গোষ্ঠীগুলোকে পাকিস্তানকে অস্থিতিশীল করতে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ সংক্রান্ত তথ্য আন্তর্জাতিক মহল ও বৈশ্বিক গণমাধ্যমের সঙ্গে ভাগ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জাফর এক্সপ্রেস হামলা ও খুজদার ঘটনার মতো উদাহরণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব ঘটনা পাকিস্তানে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিতে ভারতের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দেয়।
তারার বলেন, সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে পাকিস্তান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এ লক্ষ্যে পুরো জাতি ঐক্যবদ্ধ। সার্বভৌমত্ব, মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না এবং সন্ত্রাস মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ভারতীয় সামরিক নেতৃত্বের সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন কোনো অভিযান চালানোর হুমকি তাদের ব্যর্থতা ও পরাজয়ের প্রতিফলন; যেকোনো দুঃসাহসিক পদক্ষেপের জবাব তাৎক্ষণিক ও কঠোরভাবে দেওয়া হবে।
‘মারকা-এ-হক’ সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, এতে পাকিস্তান নির্ণায়ক বিজয় অর্জন করেছে এবং বিশ্বব্যাপী এর স্বীকৃতি পাচ্ছে, বিপরীতে ভারত ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নেতৃত্বে পাকিস্তান শান্তির জন্য কাজ করে যাচ্ছে এবং বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্ব জাতীয় প্রতিরক্ষায় সম্পূর্ণ সমন্বিত।
তারার বলেন, পাকিস্তান একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে এবং তিনি দেশের স্থায়ী শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
