যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে নতুন বার্তা দিয়েছে ইরান। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা শেষ হয়েছে। এরপরই আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান।
রোববার (১২ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তেহরান এ তথ্য জানিয়েছে।
সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পর এখন কারিগরি কমিটি বিষয়টি যাচাই করছে। এ পর্যায়ে উভয় পক্ষ লিখিত প্রস্তাব বিনিময় করছে। ইরান সরকার জানিয়েছে, কারগরি দল এখন বিস্তারিত প্রভাব ও ‘বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের খসড়া’ নিয়ে পর্যালোচনা করছে।
পোস্টে বলা হয়েছে, কিছু বিষয়ে এখনও মতপার্থক্য রয়েছে। তবে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। পাকিস্তান মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই যুদ্ধবিরতি এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে মধ্যস্থতা করছে। এ প্রক্রিয়ায় বর্তমানে কারিগরি, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রস্তাবগুলোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে ইরানের পরমাণু ইস্যুতে কঠোর বার্তা দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেন, ইরানের কাছ থেকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ‘স্পষ্ট ও ইতিবাচক অঙ্গীকার’ প্রয়োজন। রোববার (১২ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স নির্দিষ্টভাবে কোন শর্ত ইরান প্রত্যাখ্যান করেছে তা জানাতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল দাবি হলো ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা না করে এবং সে সক্ষমতা অর্জনের পথেও না এগোয়।
ভ্যান্স বলেন, আমাদের মূল প্রয়োজন হলো তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি এবং এমন কোনো সক্ষমতাও গড়ে না তোলার বিষয়ে স্পষ্টভাবে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। এর ফলে তাদের দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ থাকবে না।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে এই নিশ্চয়তা অর্জন করা। সে উদ্দেশ্যেই আলোচনায় অংশ নেওয়া হয়েছে। ভ্যান্স দাবি করেন, ইরানের পূর্ববর্তী ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। এখন মূল প্রশ্ন হলো ইরান দীর্ঘমেয়াদে পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির বিষয়ে সত্যিকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখাবে কি না।
তিনি বলেন, এটা শুধু এখন বা দুই বছর পরের বিষয় নয়; আমরা দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি চাই। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা সেই নিশ্চয়তা পাইনি। আমরা আশা করছি ভবিষ্যতে তা পাওয়া যাবে।