পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে রাজি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির অনুমোদনের মাধ্যমে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তেহরান এই চুক্তিকে ‘ইরানের বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে পরবর্তী আলোচনার জন্য ইসলামাবাদকে ভেন্যু হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে এই আলোচনার জন্য ইরান মাত্র দুই সপ্তাহ সময় বরাদ্দ করেছে এবং স্পষ্ট জানিয়েছে যে, আমেরিকানদের প্রতি চরম অবিশ্বাস নিয়েই তারা এই টেবিলে বসছে। এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে ইরান মূলত যুদ্ধক্ষেত্রের লড়াইয়েরই একটি ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছে।
কিন্তু এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি নাটকীয় ও উদ্বেগজনক মোড় নিয়েছে। একদিকে শান্তির আশা জাগলেও অন্যদিকে কুয়েত, বাহরাইন, সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে একযোগে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কুয়েত সেনাবাহিনী তাদের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে। বাহরাইনে জরুরি সাইরেন বাজিয়ে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কায় আগাম সতর্কতা জারি করেছে এবং কাতার তাদের নিরাপত্তা হুমকির মাত্রা ‘অত্যন্ত উচ্চ’ উল্লেখ করে নাগরিকদের ঘরের বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই ইরান তার জনগণকে জাতীয় ঐক্য অটুট রাখার এবং বিজয়ের আনন্দ উদযাপনের আহ্বান জানিয়েছে।