চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটে নতুন কূটনৈতিক মোড় দেখা গেছে। পাকিস্তানের অনুরোধে ইসরায়েল সাময়িকভাবে ইরানের দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে ‘টার্গেট তালিকা’ থেকে সরিয়েছে।
একটি সূত্রের বরাতে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফকে হত্যার পরিকল্পনা থেকে বিরত থাকতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করে ইসলামাবাদ। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে পিছু হটতে বলে।
পাকিস্তানি সূত্রটি জানিয়েছে, ইসরায়েলের কাছে তাদের অবস্থান (কো-অর্ডিনেট) ছিল এবং তারা হামলা চালাতে চেয়েছিল। আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে বলেছি, যদি তাদেরও হত্যা করা হয়, তাহলে আলোচনার জন্য আর কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে সরে দাঁড়াতে বলে।
রয়টার্স জানিয়েছে, এ বিষয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী বা পররাষ্ট্র দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার পথ খোলা রাখতে এই দুই ইরানি কর্মকর্তাকে কয়েক দিনের জন্য ‘হিট লিস্ট’ থেকে সরানো হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে পাকিস্তানের ভূমিকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।
বর্তমানে পাকিস্তান, মিশর এবং তুরস্ক ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। বেশিরভাগ দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও ইসলামাবাদ উভয় পক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রেখেছে এবং সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার স্থান হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১৫ দফা পরিকল্পনা ইরান পর্যালোচনা করছে। পরিকল্পনায় উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের অর্থায়ন বন্ধ করার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে ইরান জানিয়েছে, তারা প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করলেও যুদ্ধ বন্ধে সরাসরি আলোচনায় বসার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।