ইরানের খাতাম আল আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম যুলফাগারি এক নতুন বিবৃতি দিয়েছেন। হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেওয়া সময়সীমা ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পকে বিদ্রূপ করে এই নতুন বিবৃতি দিয়েছেন তিনি।
ইংরেজিতে দেওয়া একটি ভিডিও ক্লিপে যুলফাগারি বলেন, “ ‘ট্রাম্প, আপনাকে বরখাস্ত করা হলো!’ এই বাক্যটির সঙ্গে আপনি পরিচিত। এই বিষয়ে আপনার মনোযোগের জন্য ধন্যবাদ।
” হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকলে দেশটির জ্বালানি গ্রিডে আঘাত হানা হবে বলে আমেরিকা হুমকি দিয়েছিল। ইরানও পাল্টা হুমকি দিয়ে জানিয়েছে, ইরান কঠোর প্রতিশোধ নেবে।
এদিকে ইরানের পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের সংকট ব্যবস্থাপনার মহাপরিচালক মজিদ ফারশি বলেছেন, তাবরিজ শহরে দুটি প্রাণঘাতী হামলা হয়েছে।
তিনি ফারস নিউজ এজেন্সিকে জানান, মারজদারান এলাকার একটি আবাসিক ইউনিটে হামলায় চারজন নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন এবং রাবে রাশিদির একটি পার্কে আরো দুজন নিহত হয়েছেন।
এই দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি এবং যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে ইরানের বন্দর আব্বাস শহরের একটি রেডিও স্টেশনে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় একজনের নিহত হওয়ার খবর জানা যায়। তেহরান টাইমস পত্রিকা স্টেশনটির পরিচালকের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ১০০ কিলোওয়াট ক্ষমতার এএম ট্রান্সমিটারটি জাতীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি-এর পারস্য উপসাগরীয় কেন্দ্রের মালিকানাধীন।
স্টেশনটির পরিচালক আরো বলেন, এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুসারে, সাংবাদিক এবং গণমাধ্যমের সরঞ্জাম বেসামরিক বস্তু হিসেবে বিবেচিত হয় এবং সরাসরি হামলা থেকে সুরক্ষিত থাকে, এমনকি প্রচারণার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হলেও।
এদিকে ইরানের রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রীয় অংশে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার শব্দ শোনা গেছে। রাজধানীর পূর্ব ও পশ্চিম অংশেও ব্যাপক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলা অব্যাহত থাকায় আরো অনেক শহরে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
এ ছাড়াও খোররামাবাদ ও উরমিয়ায় দুটি আবাসিক এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয় এবং বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যু হয়েছে।
এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে এবং এই হামলাগুলোর পরিস্থিতি দেখে বোঝা যাচ্ছে নিহতদের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।
ইসফাহান, কারাজ এবং আহভাজেও ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। আহভাজে একটি হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, ৮০ হাজারের বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে।
সূত্র : আলজাজিরা।