ইরানে নিজেদের দূতাবাস বন্ধ করে দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটিতে মার্কিন ঘাঁটি ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইরান একাধিকবার হামলার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রোববার দিবাগত রাতে এক বিবৃতিতে বলেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত তেহরানে তার দূতাবাস বন্ধ করার এবং রাষ্ট্রদূতসহ দূতাবাসের সকল কূটনৈতিক সদস্যকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিচ্ছে। আমরা আমাদের ভূখণ্ডে ইরানের ন্যাক্কারজনক মিসাইল হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমিরাতের ওপর ইরানের ‘সরাসরি ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ’ মিসাইল হামলার প্রতিক্রিয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইরানের হামলা আমাদের সার্বভৌমত্বের ওপর এক নগ্ন আগ্রাসন, যা আবাসিক এলাকা, বিমানবন্দর, বন্দর এবং জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে এবং নিরপরাধ সাধারণ মানুষের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
এদিকে ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর মেহরানে নতুন করে ভয়াবহ হামলা হয়েছে। সীমান্তবর্তী একটি রেজিমেন্টের সদর দপ্তরে এ হামলা হয়। এতে ৪৩ সেনা নিহত হয়েছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে আলজাজিরা জানিয়েছে, রোববার (১ মার্চ) ইরাকের সীমান্তবর্তী ওই শহরটিতে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। নিহতদের বেশিরভাগই সীমান্তরক্ষী। এছাড়াও হামলায় আশপাশের কিছু ভবনও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের বরাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী ইসরায়েলের এজেন্টরা এই বোমা হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা মেহের নিউজ।
চলমান মার্কিন-ইসরায়েল হামলায় ইরানের ৪৮ জন নেতা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাদের তালিকা প্রকাশ করেনি যুক্তরাষ্ট্র। ধারণা করা হচ্ছে, এ তালিকায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নামও রয়েছে।
এদিকে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদ নিহত হয়েছেন। তিনি ২০০৫-১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে, আহমেদিনেজাদ আরদাবিল প্রদেশের গভর্নর এবং তেহরানের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।