পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে তৃতীয় দফা পরোক্ষ আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে এ আলোচনার আগেই ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা জেনেভায় নির্ধারিত পারমাণবিক আলোচনার আগে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় শুরু করার অভিযোগ তোলেন।
তিনি দাবি করেন, ইরান এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে যা ‘শিগগিরই’ যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। এছাড়া তিনি ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার জন্য দায়ী করেন। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, কোনো সমঝোতা না হলে ইরানের জন্য তা ‘খুব খারাপ দিন’ বয়ে আনবে। পাল্টা হিসেবে তেহরান জানিয়েছে, হামলা হলে তারা অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু করবে।
অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস সফরে সাংবাদিকদের বলেন, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। তারা এখন সমৃদ্ধকরণ (ইউরেনিয়াম এনরিচমেন্ট) করছে না, কিন্তু সেই পর্যায়ে পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের হাতে বিপুল সংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা ইউরোপের অনেক অংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম।
রুবিও বলেন, জেনেভা আলোচনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে আলোচনা না করার বিষয়ে তেহরানের অবস্থান বড় সমস্যা। তবে তিনি এটিকে কেবল আরও একটি আলোচনার সুযোগ উল্লেখ করে অগ্রগতির আশা প্রকাশ করেন।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার জেনেভায় ইরানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ভ্যান্স বলেন, মূল নীতি খুবই সহজ। ইরান পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারবে না।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জেনেভায় পৌঁছে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, আলোচনায় পারমাণবিক ইস্যু ও যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
উল্লেখ্য, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের কাছেই সবচেয়ে বড় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার রয়েছে। ইরান পূর্বে জানিয়েছিল, তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ পাল্লা ২,০০০ কিলোমিটার, যা তাদের নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট।