ছবি: সংগৃহীত।
শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পথে নানা ধরনের স্বাস্থ্যগত বাধা আসতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম একটি সাধারণ অথচ অস্বস্তিকর সমস্যা হলো পেটে কৃমি হওয়া। কৃমির কারণে শিশুর পুষ্টি বিঘ্নিত হয় এবং নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।
শিশুদের কৃমির সমস্যা, এর লক্ষণ, চিকিৎসাপদ্ধতি এবং এটি প্রতিরোধের কার্যকর উপায়গুলো নিয়ে সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজের চিকিৎসক ও সহায় হেলথের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ডা. তাসনিম জারা।
শিশুর পেটে কৃমি হয়েছে কিনা বুঝবেন যেভাবে
প্রধান লক্ষণসমূহ
শিশুর শরীরে কৃমি বাসা বাঁধলে কিছু প্রকাশ্য ও অভ্যন্তরীণ লক্ষণ দেখা দেয়। নিচে প্রধান লক্ষণগুলো তুলে ধরা হলো:
খাবারে অরুচি: শিশুর খাবারে অনীহা তৈরি হতে পারে। খাবার সামনে আনলে দূরে সরে যাওয়া কিংবা আগে যেসব খাবার পছন্দ করত, সেগুলোও খেতে না চাওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে।
পেটের সমস্যা: পেটে ব্যথা, বমি হওয়া কিংবা পাতলা পায়খানা হতে পারে। বিশেষ করে এই লক্ষণগুলো যদি দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলতে থাকে, তবে তা কৃমির লক্ষণ হিসেবে ধরে নিতে হবে। কিছু নির্দিষ্ট কৃমির কারণে আমাশয়ের সমস্যাও দেখা দেয়।
পায়খানার রাস্তায় চুলকানি: পায়খানার রাস্তার আশেপাশে প্রচুর চুলকানি হতে পারে। বিশেষ করে রাতে যখন কৃমি বাইরে বেরিয়ে আসে, তখন এই চুলকানির মাত্রা আরও বেড়ে যায়। এর ফলে শিশুর রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যেতে পারে।
ঘুমের মধ্যে বিছানায় প্রস্রাব: কৃমির সংক্রমণের কারণে অনেক সময় শিশুরা ঘুমের মধ্যে অজান্তেই বিছানায় প্রস্রাব করে দিতে পারে।
পুষ্টিহীনতা ও ওজন হ্রাস: কৃমি শিশুর শরীর থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান শুষে নেয়। এর ফলে শিশুর ওজন দ্রুত কমতে শুরু করে অথবা বয়স অনুপাতে ওজন বাড়ে না। শিশু রোগা ও দুর্বল হয়ে পড়ে।
রক্তশূন্যতা ও ক্লান্তি: কৃমি শরীর থেকে রক্ত শুষে নেওয়ার কারণে শিশুর শরীরে আয়রনের অভাব ও রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে। ফলে শিশুর চোখ-মুখ ফ্যাকাসে হয়ে যায়, সে আগের মতো খেলাধুলা করতে চায় না এবং সারাক্ষণ ক্লান্ত বোধ করায় বেশি সময় ধরে শুয়ে বা ঘুমিয়ে থাকে।
দৃশ্যমান কৃমি: অনেক সময় পায়খানার সাথে বা পায়খানাতে সরাসরি কৃমি দেখতে পাওয়া যায়, যা নিশ্চিতভাবে কৃমি সংক্রমণের প্রমাণ।
কৃমির চিকিৎসা
কৃমি হলে শিশুর শারীরিক কষ্ট অনেক বেড়ে যায়, তাই সময়মতো এর চিকিৎসা করানো অত্যন্ত জরুরি।
চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া: ওপরে উল্লেখিত লক্ষণগুলোর সঙ্গে যদি আপনার শিশুর কোনো লক্ষণ মিলে যায়, তবে দেরি না করে অবিলম্বে একজন নিবন্ধিত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে।
পরীক্ষা-নিরীক্ষা: চিকিৎসক শিশু ও আপনার সঙ্গে কথা বলে তার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন। প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা এবং পায়খানার পরীক্ষাও করাতে বলতে পারেন।
ঔষধ ও নিরাময়: পরীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতে চিকিৎসক কৃমির ওষুধ নির্ধারণ করবেন। বাজারে অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে কৃমির ওষুধ পাওয়া যায়। কিছু ওষুধ মাত্র একবার খেলেই কাজ হয়, আবার কিছু ওষুধ নিয়ম অনুযায়ী পরপর কয়েকবার খেতে হয়। সাধারণত অল্প কদিনের চিকিৎসাতেই কৃমি সম্পূর্ণ নিরাময় করা সম্ভব।
প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা
প্রতিরোধই প্রতিকারের চেয়ে শ্রেয়। কিছু সাধারণ সতর্কতা অবলম্বন করলেই শিশুদের কৃমি সংক্রমণ থেকে নিরাপদ রাখা সম্ভব:
জুতা পরিধান: শিশুকে কখনো খালি পায়ে মাটির ওপর হাঁটতে দেবেন না। বাইরে যাওয়ার সময় সবসময় জুতা বা স্যান্ডেল পরিয়ে রাখুন, কারণ মাটিতে থাকা ক্রিমির ডিম পায়ের চামড়া দিয়ে শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
হাত ধোয়া: মাটিতে খেলাধুলা করার পর বা হাতে ধুলাবালি লাগলে তা মুখে দিতে দেবেন না। শিশুকে ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া শেখাতে হবে, বিশেষ করে নখের নিচের অংশ যেন ভালোভাবে পরিষ্কার হয়। প্রতিবার টয়লেট ব্যবহারের পরে এবং খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া বাধ্যতামূলক করুন।
নখ ছোট রাখা: শিশুর হাতের নখ সবসময় ছোট ও পরিচ্ছন্ন রাখুন, যাতে সে অভ্যাসবশত মুখ দিয়ে নখ না খায়।
খাবার ও রান্নার পরিচ্ছন্নতা: না ধোয়া ফলমূল বা কাঁচা শাকসবজি শিশুকে খেতে দেবেন না। এ ছাড়া যিনি রান্না করবেন, তিনিও খাবার তৈরির আগে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নেবেন।
নিরাপদ পানি: শিশু যেন সবসময় বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানি পান করে, তা নিশ্চিত করতে হবে। অপরিষ্কার পানিতে ক্রিমির ডিম থাকতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
