× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

কোন ডালে সবচেয়ে বেশি প্রোটিন আছে?

ডেস্ক রিপোর্ট।

০৪ আগস্ট ২০২৬, ১৬:২৬ পিএম

ছবি: সংগৃহীত।

সাম্প্রতিক সময়ে খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অন্যতম বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মাইক্রোপ্লাস্টিক। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ফুড-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমাদের পানীয় জল, সামুদ্রিক খাবার, ফলমূল, শাকসবজি, লবণ, মধু, চা, চাল, এমনকি শ্বাস নেওয়ার বাতাসেও এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা খুঁজে পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীরা এমনকি মানুষের রক্ত, ফুসফুস, হৃদযন্ত্রের ধমনী এবং গর্ভফুলের মধ্যেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন। যদিও এই কণাগুলো আমাদের শরীরে ঠিক কতটা ক্ষতিকর তা নিয়ে গবেষণা চলছে, তবে প্রাথমিক ফলাফলগুলো যথেষ্ট চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক আসলে কী?

৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট আকারের প্লাস্টিকের কণাগুলোকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। বড় প্লাস্টিক পণ্য যেমন বোতল, প্যাকেট বা সিন্থেটিক কাপড় সময়ের সাথে সাথে ভেঙে এই ক্ষুদ্র কণা তৈরি করে। এর চেয়েও ক্ষুদ্র কণা হলো ন্যানোপ্লাস্টিক, যা খালি চোখে দেখা যায় না এবং এগুলো মানবদেহের গভীরে প্রবেশ করতে সক্ষম বলে ধারণা করা হয়।

কীভাবে এগুলো আমাদের খাদ্যে প্রবেশ করে?

খাদ্যশৃঙ্খলের প্রায় প্রতিটি স্তরেই মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশ করতে পারে:

দূষিত মাটি ও পানির মাধ্যমে উদ্ভিদ ও মাছের শরীরে।

প্লাস্টিক প্যাকেজিং ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সময়।

রান্না বা খাবার সংরক্ষণের সময় বাতাসের মাধ্যমে ধুলোবালি হিসেবে খাবারের ওপর জমে।

মানবদেহে এর ক্ষতিকর প্রভাব

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বড় মাইক্রোপ্লাস্টিক কণাগুলো সাধারণত পরিপাকতন্ত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়ে যায়, কিন্তু ক্ষুদ্রতম কণা বা ন্যানোপ্লাস্টিকগুলো রক্ত ও টিস্যুতে প্রবেশ করতে পারে। এর সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাবগুলো হলো:

প্রদাহ ও দীর্ঘমেয়াদী রোগ: মাইক্রোপ্লাস্টিক কোষকে উত্তেজিত করে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।

অক্সিডেটিভ স্ট্রেস: এটি শরীরের কোষ, প্রোটিন এবং ডিএনএ-র ক্ষতি করতে পারে।

পাকস্থলীর ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট: গবেষণা বলছে, এটি আমাদের অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে।

রাসায়নিক ঝুঁকি: প্লাস্টিকে থাকা বিভিন্ন ক্ষতিকর অ্যাডিটিভ বা পরিবেশ থেকে শোষিত ভারী ধাতু আমাদের শরীরে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

মাইক্রোপ্লাস্টিকের ঝুঁকি এড়ানোর উপায়

পরিবেশে মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন সবখানে বিদ্যমান থাকায় একে পুরোপুরি এড়িয়ে চলা অসম্ভব, তবে কিছু অভ্যাসের মাধ্যমে এর সংস্পর্শ কমিয়ে আনা সম্ভব:

১. প্লাস্টিকে গরম করা বন্ধ করুন: প্লাস্টিকের পাত্রে খাবার রেখে মাইক্রোওয়েভে গরম করবেন না; পরিবর্তে কাঁচ বা সিরামিকের পাত্র ব্যবহার করুন।

২. কাঁচ বা স্টিলের পাত্র ব্যবহার: পানির বোতল, টিফিন বক্স বা খাবার সংরক্ষণের জন্য প্লাস্টিকের বদলে কাঁচ বা স্টেইনলেস স্টিলের পাত্র ব্যবহার করা নিরাপদ।

৩. অতিরিক্ত গরম খাবার থেকে সাবধান: খুব গরম চা বা কফি প্লাস্টিকের কাপে পান করা থেকে বিরত থাকুন, কারণ তা প্লাস্টিক কণা নিঃসরণ বাড়ায়।

৪. ফল ও সবজি ভালো করে ধোয়া: খাওয়ার আগে ফল ও সবজি ভালোভাবে ধুয়ে নিলে উপরিভাগে জমে থাকা প্লাস্টিক কণা বা ধুলো পরিষ্কার হয়।

৫. ফিল্টার করা পানি পান: বোতলজাত পানির তুলনায় ফিল্টার করা কলের পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক কম থাকার সম্ভাবনা থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিকের সুদূরপ্রসারী প্রভাব সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সচেতন থাকা এবং প্লাস্টিকের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমিয়ে আনাই বুদ্ধিমানের কাজ।


Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.