ছবি: সংগৃহীত।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) দুই শিক্ষার্থীকে তল্লাশির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পুলিশ সদস্যকে নগরী থেকে ধরে ক্যাম্পাসে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে উপাচার্যের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ নুরুল করিম চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, গত ৫ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটের দিকে কুমিল্লা পুলিশ লাইন-সংলগ্ন এলাকায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও কোতোয়ালি থানার পুলিশ সদস্যদের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে সাত কর্মদিবসের মধ্যে উপাচার্যের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন ও ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. এমদাদুল হককে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট ড. মো. মহিউদ্দিন, সিএসই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো. ফয়সল বিন আবদুল আজিজ এবং সহকারী প্রক্টর মাহমুদুল হাসান। কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে আছেন কুবির নিরাপত্তা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ছাদেক হোসেন মজুমদার।
এদিকে ঘটনার রাতে কি ঘটেছিল সেই দৃশ্য ধরা পড়েছে দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায়। ঘটনার দুই দিন পর প্রকাশ্যে আসা ফুটেজে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ৭টা ৪৬ মিনিটের দিকে কুমিল্লা নগরীর পুলিশ লাইন এলাকার একটি দোকানের সামনে থেকে দুই পুলিশ সদস্যকে মারধর করে ধরে নিয়ে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী।
এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা শহরের পুলিশ লাইন এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে তল্লাশির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পুলিশ পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা তাঁদের তল্লাশি করলেও পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি। এতে তাঁদের সন্দেহ হলে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে ক্যাম্পাসে নিয়ে যান শিক্ষার্থীরা।
ক্যাম্পাসে নিয়ে যাওয়া তিনজনের মধ্যে ছিলেন কোতোয়ালি মডেল থানার এএসআই শ্যামল সাহা, কনস্টেবল হানিফ ও পুলিশের সোর্স জাহিদ।
এএসআই শ্যামল সাহার দাবি, তাঁরা দুই শিক্ষার্থীর পরিচয় জানতে চেয়েছিলেন। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দেওয়ার পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং দুঃখ প্রকাশ করা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা তাঁদের পরিচয় জানতে চাইলে ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ দেখানো হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাঁদের মারধর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে যান।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে প্রশাসন, পুলিশ কর্মকর্তা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার পর আটককৃতরা মুক্ত হন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসাইন শনিবার দুপুরে জানান, কুবি প্রশাসন থেকে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে পুরো ঘটনায় কার কি ভুল ছিল বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
