রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ৬৭ কৃতী শিক্ষার্থীকে একাডেমিক ফলাফলের স্বীকৃতি এবং গবেষণা ও প্রকাশনায় অবদানের জন্য ছয় শিক্ষককে ডিনস অ্যাওয়ার্ড দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিবিএ পর্যায়ের ২৮ জন এবং এমবিএ পর্যায়ের ৩৯ জন রয়েছেন।
অনুষদ সূত্রে জানা গেছে, বিবিএ পর্যায়ে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের চারজন, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের তিনজন, মার্কেটিং বিভাগের ২০২২ শিক্ষাবর্ষের চারজন, ২০২৩ শিক্ষাবর্ষের ছয়জন ও ২০২৪ শিক্ষাবর্ষের চারজন, ফাইন্যান্স বিভাগের একজন এবং ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ছয়জন শিক্ষার্থী এ পুরস্কার পেয়েছেন।
অন্যদিকে এমবিএ পর্যায়ে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের নয়জন, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ছয়জন, মার্কেটিং বিভাগের ১২ জন, ফাইন্যান্স বিভাগের একজন, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনসুরেন্স বিভাগের ছয়জন এবং ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পাঁচজন শিক্ষার্থী ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন।
এদিকে তিনটি ক্যাটাগরিতে অনুষদের ছয় শিক্ষককে পুরস্কৃত করা হয়েছে। প্রকাশিত বই ও বইয়ের অধ্যায় ক্যাটাগরিতে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মোহাম্মদ সোলাইমান চৌধুরী পুরস্কার পেয়েছেন। প্রকাশিত জার্নাল ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহানুদ্দীন, মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল আলিম, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহ আজম ও অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নূরুজ্জামান। শ্রেষ্ঠ গবেষক ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এইচ এম জিয়াউল হক।
অনুষ্ঠানে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনসুরেন্স বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও বর্তমান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এই অর্জনের পেছনে নানা টানাপোড়েন, হতাশা, ত্যাগ ও অনেক গল্প রয়েছে। অত্যন্ত প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এসেছি। এখনো শিক্ষা, বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোগত নানা দিক থেকে এলাকাটি পিছিয়ে। সেই জায়গা থেকে এখানে আসা এবং এতদূর পৌঁছানো আমার জন্য সত্যিই অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার বাবা-মা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত নন, কিন্তু শিক্ষার বিষয়ে তাঁদের উৎসাহ ছিল অসীম। আজকের এই আয়োজনে আমার বাবা-মা উপস্থিত আছেন। সন্তান হিসেবে তাঁদের সামনে এ সম্মাননা পাওয়া আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের ও সম্মানের।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুনুর রশীদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার পরিবেশ উন্নয়ন, সেশনজট কমানো এবং শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে প্রশাসন কাজ করছে। গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সঙ্গে আলোচনা ও প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আবাসন, চিকিৎসাসেবা ও অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ পুরস্কার শুধু একাডেমিক অর্জনের স্বীকৃতি নয়, বরং ভবিষ্যৎ জীবন ও কর্মজীবনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা।’
উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আব্দুল আলিম বলেন, ‘দীর্ঘ চার-পাঁচ বছরের অধ্যবসায় ও মেধার স্বীকৃতি হিসেবে শিক্ষার্থীরা আজ ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। এ পুরস্কার তাঁদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পরবর্তী কর্মজীবনে শিক্ষার্থীরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করবেন। তাঁদের কর্ম ও সাফল্যের ওপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নির্ভর করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সার্বিক সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশ এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যেতে চাই।’
উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, এ পুরস্কার শুধু সম্মাননা নয়, বরং তাঁদের জন্য একটি বড় দায়িত্ব। পরিবারের পাশাপাশি সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্বশীল থেকে ভালো মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে যেখানেই থাকুন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকদের জন্যও ডিনস অ্যাওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রতিবছর এ আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসির পরিচালক ড. মুরশিদা ফেরদৌস বিনতে হাবিব।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
