রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর সন্ত্রাসী ছাত্রদলের ন্যাক্কারজনক হামলা, শিক্ষার্থীদের রুম ভাংচুর এবং প্রশাসনের নির্লিপ্ততার প্রতিবাদ জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) প্রতিনিধিরা।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে রাকসুর ব্যানারে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এর প্রতিবাদ জানান তারা।
মানববন্ধনে রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, গতকাল ছাত্রদল ন্যাক্কারজনক হামলা চালিয়ে শিক্ষার্থীদের রুম ভাঙচুর করেছে। এ ঘটনা জুলাই-পরবর্তী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পেশিশক্তির রাজনীতির পুনর্জন্ম হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রাকসু ও হল সংসদ শেষ হওয়ার সময়ে এমন ঘটনা ঘটিয়ে ছাত্রদল প্রমাণ করেছে, তারা ছাত্রলীগের মতোই ক্যাম্পাসের প্রত্যেকটি হল, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিককে নিজেদের শত্রু হিসেবে পরিগণিত করেছে।
জাহিদ বলেন, প্রশাসন অবিলম্বে ছাত্রদলের জড়িতদের গ্রেপ্তার না করলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগের মতো ‘১৬ জুলাই’ নামিয়ে আনতে বাধ্য হবে। একই সঙ্গে প্রশাসনকে দ্রুত সব দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রাকসুর এজিএস সালমান সাব্বির বলেন, ছাত্রলীগ যেভাবে সাংবাদিকসহ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালাত, একইভাবে গতকাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মদদে ছাত্রদল সন্ত্রাসীরা সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তিনি নিজে একাধিকবার প্রশাসনকে ফোন করে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করলেও প্রশাসনের আচরণে মনে হয়েছে, শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের হামলায় তাদের কোনো উদ্বেগ নেই।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর তিন-চার ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও প্রশাসনকে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। এত বড় ঘটনা ঘটার পর এখন তদন্তের দোহাই দিয়ে বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্বিত করার চেষ্টা করছে প্রশাসন।
প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। এই প্রশাসনের চেয়ারে বসে থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এছাড়া সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত সব দাবি অবিলম্বে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চার সাংবাদিক গুরুতর আহতসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।