রেলওয়ে কর্মচারী কর্তৃক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীর উপর হামলার প্রতিবাদে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাংচুর ও রেললাইনে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় চারজন রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীকে (আরএনবি) সাময়িক বরখাস্ত করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
রোববার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে হামলার শিকার হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আইয়ুব আলী। আহত অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) ভর্তি করা হয়।
সেখানে আহত শিক্ষার্থীকে দেখতে হাসপাতালে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম এবং প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান।
উপাচার্য বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা আইয়ুবকে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখার কথা বলেছেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। বিষয়টি আমি ইতোমধ্যে রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার এবং পশ্চিম রেলের মহাব্যবস্থাপককে (জিএম) জানিয়েছি। এর আগে দুই-তিনবার রাবি শিক্ষার্থীদের মারধর করেছেন রেল কর্মচারীরা। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’
এদিকে শিক্ষার্থীর উপর হামলার প্রতিবাদে এক ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। তিনি এক ঘন্টার মধ্যে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি দাবি মানা না হলে প্রতিটি ট্রেন থেকে দুইজন কর্মচারী তুলে নেওয়ার হুশিয়ারি দেন।
পরে রাত সাড়ে ১০ টার দিকে রাবি রেলওয়ে স্টেশনে শিক্ষার্থীরা জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা রেললাইনে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
এসময় রাকসুর এজিএস সালমান সাব্বির বলেন, ‘রেললাইন ও স্টেশনকে কেন্দ্র করে রেলওয়ের কর্মচারী, কর্মকর্তা ও টিটিইদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বারবার হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এসব ঘটনার প্রতিবাদ এবং পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই আমরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি। রাতের মধ্যে যদি এইটার বিষয়ে কোনো সমাধান না আসে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি আমাদের সহযোগিতা না করে, আমরা এই আন্দোলনকে আরও কঠিনতর অবস্থায় নিয়ে যাব।’
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলাকালে চারজন রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীকে সাময়িক বরখাস্ত করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ রেলওয়ে রাজশাহী শাখার চীফ কমান্ড্যান্ট আশাবুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অদ্য সন্ধ্যায় রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরএনবির চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া সদস্যরা হলেন- মো. আরিফ হোসেন (স্টাফ নং-সি-৯৮৯), মো. রোকন উদ্দীন (স্টাফ নং-সি-৮৮৩), মো. শফিকুল ইসলাম (স্টাফ নং-সি-১৩২১) ও মো. শাহাদত হোসেন (স্টাফ নং-সি-৬০০)।
তবে এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট না হয়ে বিক্ষোভকারীরা রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের দিকে রওনা দেন। সেখানে প্রায় চার শতাধিক শিক্ষার্থী ছিলেন। তারা রাজশাহী স্টেশনে গিয়ে ভাংচুর চালায়। স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ, হেল্প ডেস্ক ও জানালার গ্লাস ভাংচুর করেন তারা। ঘটনার একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি সেখানে উপস্থিত হন। তবে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সদস্যরা ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীরা ভুয়া ভুয়া স্লোগান দেন।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় বিশ থেকে ত্রিশজন শিক্ষক স্টেশনে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণ করেন। এদিন দিবাগত রাত দেড়টার দিকে শিক্ষার্থীরা স্টেশন ত্যাগ করেন।
প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ’আমাদের প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে আসার পর শিক্ষার্থীরা আমাদের কথা শুনেছে। পরে আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। এখন আমাদের সবাইকে যার যার জায়গায় থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। যেন নতুন কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা না ঘটে।’
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
