রাকসু তহবিল থেকে অর্থ উত্তোলনের পরও বিল-ভাউচার জমা না দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, জিএস সালাহউদ্দীন আম্মারসহ সম্পাদকদের ব্যঙ্গ করে ‘ভাউচার মেলা’ আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অসাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে এ আয়োজন করে শাখা ছাত্রদল।
ব্যতিক্রমী এ আয়োজনে স্থান পেয়েছে ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন, কাল্পনিক নানা ধরনের ভাউচার এবং ‘চোর’ নিয়ে তৈরি গান।
আলোকসজ্জায় সাজানো প্রতিটি স্টলে রাকসুর বিভিন্ন কার্যক্রমের নামে তৈরি করা হয়েছে ব্যঙ্গাত্মক ভাউচার। এর মধ্যে ভিপি-জিএসের নাস্তার বিল, সেলাই মেশিন ও কর্মশালা, সভা-সেমিনার, বিতর্ক আয়োজন, ডেকোরেটর, সাউন্ড ও প্রজেক্টর ভাড়া, কাওয়ালি দল, বেলচা ক্রয়, নেপাল ট্যুর, রাকসু গেমস এবং ওয়েলফেয়ার ছাদ ভাড়ার মতো বিভিন্ন খাতের ভাউচার প্রদর্শন করা হয়েছে।
সদৃশ একটি প্রতিকৃতি রাখা হয়েছে। সেখানে লেখা রয়েছে ‘সবার হিসাব মেলে, আমার হিসাব মেলে না’। স্টলগুলোতেও বিভিন্ন ব্যঙ্গাত্মক লেখা ও কার্টুন প্রদর্শন করা হয়। এ সময় ‘চোর চোর রাকসু ভিপি টাকা চোর’সহ বাংলা সিনেমার ‘চোর’ শব্দসংবলিত বিভিন্ন গান বাজতে শোনা যায়।
এসময় হল শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গাজী ফেরদৌস হাসান বলেন, ‘আমরা গণমাধ্যমে দেখেছি, রাকসুর ভিপি, জিএস ও এজিএস ফান্ড থেকে টাকা উত্তোলন করেও ভাউচার জমা দেননি। এখন যেহেতু তাদের ভাউচার লাগবে, খরচগুলো দেখানোর জন্যই এই ভাউচার মেলার আয়োজন করা হয়েছে।’
আয়োজনের বিষয়ে রাবি শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম মাহমুদুল হাসান মিঠু বলেন, ‘রাকসুর তহবিল থেকে এক কোটি টাকার বেশি উত্তোলন করা হলেও ৬১ লাখ টাকার হিসাব দেওয়া হয়নি। এরপর আমরা জানতে পারি, রাকসুর প্রতিনিধিদের ভুয়া ভাউচার বানানোর হিড়িক পড়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গোপন খবর যেন বাইরে না যায়, সেজন্য “বিশ্ববিদ্যালয়ের অসাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ” এই আয়োজন করেছে। তাঁদের যদি কোনো ভুয়া ভাউচার লাগে, তাহলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ভাউচার সোসাইটি তার ব্যবস্থা করবে এটা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।’
রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘রাকসুর তহবিল শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয়ের জন্য। সেই অর্থ উত্তোলনের পরও যদি হিসাব ও ভাউচার জমা না দেওয়া হয়, তাহলে এটি আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন তৈরি করে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা চাই।’
এর আগে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাকসু তহবিলের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ সমাবেশ করে রাবি শাখা ছাত্রদল।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার রাকসুর কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ের ব্যয়-সংক্রান্ত নথি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। নথি অনুযায়ী, বর্তমান পরিষদ ৪২টি কর্মসূচির বিপরীতে রাকসু তহবিল থেকে ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা উত্তোলন করেছে। এর মধ্যে ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকার বিল-ভাউচার এখনো জমা পড়েনি। এতে সবচেয়ে বেশি বকেয়া ভাউচার-বিল রয়েছে জিএস সালাহউদ্দীন আম্মারের নামে। তিনি ২৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা উত্তোলন করে ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার বিল-ভাউচার জমা দেননি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
