বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় নির্বাচন সবসময়ই একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন একটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে, কারণ এই নির্বাচনে বড় একটি অংশ জুড়ে থাকবে তরুণ ভোটাররা—যারা প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যাচ্ছে, কিংবা যারা ইতোমধ্যেই সচেতন নাগরিক হিসেবে রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এই প্রজন্ম শুধু সংখ্যার দিক থেকে বড় নয়; চিন্তা, দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রত্যাশার দিক থেকেও তারা আলাদা ও শক্তিশালী।
বর্তমান তরুণ সমাজ তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর, সচেতন এবং বিশ্লেষণধর্মী। তারা কেবল প্রচারণা বা আবেগের বশবর্তী হয়ে সিদ্ধান্ত নেয় না; বরং প্রার্থীর অতীত কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক দলগুলোর নীতিমালা, রাষ্ট্র পরিচালনার দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিবেচনা করে মত গঠন করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম ও বিভিন্ন গবেষণাভিত্তিক তথ্যের সহজ প্রাপ্তি তাদের রাজনৈতিক বোধকে আরও পরিণত করেছে।
তরুণদের কাছে নির্বাচন মানে কেবল সরকার পরিবর্তনের প্রক্রিয়া নয়; এটি একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ। তারা এমন নেতৃত্ব প্রত্যাশা করে, যারা দুর্নীতি, সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করবে। তারা দেখতে চায় একটি স্বচ্ছ রাজনৈতিক সংস্কৃতি, যেখানে ক্ষমতা নয়—দায়িত্ববোধ হবে নেতৃত্বের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
এ প্রজন্ম উন্নয়নকে কেবল দৃশ্যমান অবকাঠামো দিয়ে মাপতে চায় না। রাস্তা, সেতু, ভবন নির্মাণের পাশাপাশি তারা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, সংস্কৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণের মতো মানবিক ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের দিকে নজর দেয়। তারা এমন একটি বাংলাদেশ চায়, যেখানে যোগ্যতার মূল্যায়ন হবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং মেধাবীরা সুযোগের অভাবে দেশ ছাড়তে বাধ্য হবে না।
তরুণদের আরেকটি বড় প্রত্যাশা হলো শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন। তারা এমন একটি নির্বাচনী পরিবেশ দেখতে চায়, যেখানে সহিংসতা, ভীতি প্রদর্শন বা অনিয়মের কোনো স্থান থাকবে না। তারা বিশ্বাস করে, একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনই পারে গণতন্ত্রকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে।
শুধু ভোটার হিসেবে নয়, তরুণরা এখন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সক্রিয় পর্যবেক্ষকও। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মত প্রকাশ করছে, সচেতনতা তৈরি করছে, ভুয়া তথ্য প্রতিরোধে ভূমিকা রাখছে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনা করছে। এই অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, তরুণ সমাজ আর রাজনীতির বাইরে নয়; বরং তারা রাজনীতিকে আরও দায়িত্বশীল ও জনমুখী করতে চায়।
সংস্কৃতি, সাহিত্য ও সৃজনশীল চর্চার প্রতিও তরুণদের আগ্রহ প্রবল। তারা মনে করে, একটি জাতির মনন ও মানবিকতা গড়ে ওঠে সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে। তাই উন্নয়নের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বিকাশেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। একটি সহনশীল, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে এই দিকগুলো সমানভাবে জরুরি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—তরুণরা এখন ভোটকে অধিকার হিসেবে নয়, দায়িত্ব হিসেবে দেখছে। তারা বুঝতে পারছে, একটি সঠিক সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। তাই তারা আবেগ নয়, বিবেচনাকে গুরুত্ব দিতে চায়।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন তাই কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়; এটি তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা, স্বপ্ন ও দায়িত্ববোধের প্রতিফলন। এই প্রজন্ম যদি সঠিকভাবে অংশগ্রহণ করে এবং তাদের মতামত গুরুত্ব পায়, তবে বাংলাদেশের গণতন্ত্র আরও প্রাণবন্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক হয়ে উঠবে—এমনটাই আশা করা যায়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
