চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি কাভার্ডভ্যানের পেছনে মালবোঝাই ট্রাকের ধাক্কায় চালক ও তাঁর সহকারী (হেলপার) নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় ট্রাকটির সামনের কেবিন দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে চালক ও হেলপার কেবিনের ভেতরে আটকা পড়েন।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার পন্থিছিলা বড়ুয়া পাড়া এলাকায় মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন ট্রাকচালক মো. ছালেহ আহম্মেদ সেলিম (৪৬)। তিনি রংপুরের মাহিগঞ্জ থানার নাছনিয়া এলাকার মো. মোহসিন আলীর ছেলে। নিহত অপরজন হলেন ট্রাকের হেলপার মো. সোহরাব (৩৫)।
কুমিরা হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মেট্রো-ট-১২-৫৮৬৮ নম্বরের ট্রাকটি রংপুর থেকে মালামাল নিয়ে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। পথে পন্থিছিলা বড়ুয়া পাড়া এলাকায় পৌঁছালে একই দিক থেকে চলাচলকারী ঢাকা মেট্রো-উ-১২-৪০১৮ নম্বরের কাভার্ডভ্যানের পেছনে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে ধাক্কা দেয়।
পুলিশের প্রাথমিক বিবরণ অনুযায়ী, কাভার্ডভ্যানটির চালক কোনো ধরনের সংকেত না দিয়ে হঠাৎ ব্রেক করায়, এতে পেছনে থাকা ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কাভার্ডভ্যানের পেছনে সজোরে আঘাত করে। সংঘর্ষে ট্রাকের সামনের কেবিন মারাত্মকভাবে দুমড়েমুচড়ে যায়। এ সময় চালক ও হেলপার কেবিনের ভেতরে আটকা পড়েন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে কুমিরা হাইওয়ে পুলিশ ও সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় উদ্ধার অভিযান চালিয়ে কেবিনের ভেতর থেকে দুজনকে বের করা হয়। তাঁদের দ্রুত সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।
কুমিরা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই জিয়া উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়ি দুটি জব্দ করা হয়েছে। নিহতদের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান।
এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।