মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল সড়কের গোমড়া এলাকার কোলঘেঁষে বিস্তৃর্ণ হাওর তীরে বিশাল সামিয়ানার নিচে এবারে অনুষ্ঠিত হয়েছে ভারতের দিল্লি মারকাজের আমীর মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারী তাবলীগ জামাতের তিনদিন ব্যাপী জেলা ইজতেমা। দাওয়াতী এই মেহনতে যোগ দিতে গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) থেকে জড়ো হন জেলার ৭ টি উপজেলা থেকে আড়াই হাজার তাবলীগ সাথীরা। এছাড়াও জেলা সদরের বিভিন্ন এলাকা থেকে যোগ দেন আরও কয়েক হাজার মুসল্ল্।ী ৭টি খিত্তায় ভাগ হয়ে কয়েক হাজার তাবলীগ সাথীরা মনযোগ দিয়ে শুনেন শীর্ষ মুরব্বীদের গুরুত্বপূর্ণ হেদায়েতি বয়ান।
ইজতেমার দ্বিতীয় দিন গত শুক্রবারও ইজতেমা মাঠে অন্তত ৫হাজার মানুষের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। দেশের বাহিরে মালেশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকেও এসেছে একাধিক জামায়াত। আম বয়ানের মধ্যদিয়ে শুরু হওয়া জেলা ইজতেমার দ্বিতীয় দিনে বয়ান শুনতে ও জুমার নামাজে অংশ নিয়েছেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, জেলা পরিষদ প্রশাসক মিজানুর রহমান সহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারাও।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে কাকরাইলের মুরব্বি মুফতি জিয়া বিন কাশেম এর হৃদয়গ্রাহী দীর্ঘ আখেরী মোনাজাতের মধ্যদিয়ে শেষ হয় তিনদিনের দাওয়াত ও তাবলীগের বিশাল এই কর্মযজ্ঞ। মোনাজাতে দেশ ও জাতি ও বিশ^ মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামণা করা হয়। এসময় মুসল্লীরা আমীন আমীন ধ্বনিতে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এর আগে শেষ দিনের আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে মুসল্লীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে পুরো মাঠ কানায় কানায় ভরে উঠে।
তিনদিনের জেলা ইজতেমায় বিভিন্ন সেশনে দাওয়াত ও তাবলীগ, মেহনত ও হেদায়াত সহ নানা বিষয় ভিত্তিক দ্বীনি বয়ান করেন কারাইল মারকাযের শীর্ষ মুরব্বি মুফতি জিয়া বিন কাশেম, মৌলভীবাজার জেলা আমীর মোঃ আব্দুল হাই, কাকরাইল মারকাযের মুরব্বি আনোয়ারুল আজিম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস বাদল, উলামায়ে কেরামের উদ্দেশ্যে বিশেষ বয়ান করেন মাওলানা আব্দুল আজিজ, কাকরাইল মারকাযের মুরব্বি মাওলানা ইদ্রিস। এ ছাড়াও বধিরদের জন্য আলাদাভাবে ইশারা ভিথিত্তক সাংকেতিক ভাষায় বয়ানের ব্যবস্থাও করা হয়।
ইজতেমার দীর্ঘ বয়ানে তাবলীগ জামাতের কাকরাইল মারকাজের মুরব্বি মুফতি জিয়া বিন কাশেম মুসলমানদের মসজিদ মূখী হওয়ার উপর গুরুত্বারোপ করতে গিয়ে বলেন, বিলের মধ্যে, খালের মধ্যে, ঝিলের মধ্যে, নদীর মধ্যে, সাগরের মধ্যে মাছ যেমন শান্তি পায় তেমন মুমিন মসজিদে এসে এমনই শান্তি পায়। যে ব্যক্তি মসজিদকে নিজের ঘর বানাবে আল্লাহপাক তাঁর উপর রহমত নাজিল করবেন। তাঁর সমস্যা দূর করবেন। আল্লাহপাক তাঁকে মসজিদের মিম্বরে মিম্বরে কেয়ামদের দিন সন্ধান করবেন। ফুলসিরাত পার করে দিবেন। তাঁকে হালাল রিজিকের ব্যবস্থা করে দিবেন। মসজিদ হলো যাবতীয় সমস্যা সমাধানের জায়গা। যাবতীয় সমস্যা সমাধানের জায়গা হলো আল্লাহর ঘর মসজিদ।
হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, যে আল্লাহর কাছে চায় না, যে আল্লাহর কাছে দোয়া করে না, আল্লাহ তাঁর উপর নারাজ হন। পবিত্র কোরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, বান্দাকে আল্লাহ হুকুম দিচ্ছেন- আমি তোমার দোয়া কবুল করব আমার কাছে চাও। আবার আল্লাহ প্রতিশ্রতি দিচ্ছেন তুমি চাও আমি আল্লাহ তোমাকে দেবো। যে চায় না আল্লাহ তাঁর উপর নারাজ হয়ে যান। যারা আল্লাহর কাছে চাইবে না,তাকাব্বরি করবে,আল্লাহ বলেন, আমি তাদেরকে অপদস্ত করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করে দিবো। এ জন্য দোয়াআ‘লা জিন্দেগী বানাতে হবে।
দাওয়াতের মেহনতের উপর জোর দিয়ে বয়ানে মুফতি জিয়া বিন কাশেম বলেন, মানুষকে দিনের পথে ও দাওয়াতে তাবলীগের পথে আনতে হলে বেশি বেশি তাবলীগের দাওয়াত দিতে হবে। জান্নাতের দিকে দাওয়াত দিতে হবে। আল্লাহর গুরুত্বের দিকে দাওয়াত দিতে হবে। মসজিদের দিকে দাওয়াত দিতে হবে। নামাজের দাওয়াত দিতে হবে। সৎ কাজের আদেশ আর অসৎ কাজে নিষেধ করতে হবে। অন্যায়, অবিচার, ব্যবিচার, জুলুম, সুদ, ঘুস,মাদক এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। এসবের বিরুদ্ধে কথা না বললে একটা সময় আসবে দোয়া কবুল হবে না। এমন কী পীর-মাশায়েখ বুজুর্গদের দোয়াও কবুল হবে না।
দাওয়াতের মেহনত না করার ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি বলেন, সৎ কাজের আদেশ আর অসৎ কাজে নিষেধ না করার কারণে সমাজে জালিম শাসক চাপিয়ে দেয়া হবে যদি দাওয়াতের মেহনত না করা হয়। আজকে চর্তুদিকে শুধু হায় মুসলমান। মুসলমানের আহাজারি। মুসলমান লাঞ্চিত। পুরো দুনিয়াতে মুসলমানের রক্ত দিয়ে হুলিখেলা চলছে। মুসলমানদের উপরে স্টিমরোলার চলছে। চারদিকে শুধু মুসলমানদের পরাজয় আর পরাজয়। তাঁর একমাত্র কারণ যে দ্বায়িত্বের জন্য উম্মতকে বানানো হয়েছিল সেই কাজ উম্মত ছেড়ে দিয়েছে।
ওদিকে জেলা তাবলীগ মারকাযের দ্বায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে এবারের তাবলীগ জামাতের তিনদিন ব্যাপী জেলা ইজতেমা আয়োজন সফলে আগে থেকেই তারা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে রাখেন। মুসল্লীদের জন্য স্যানিটেশন ও অসুস্থ হলে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য সার্বক্ষণিক মেডিকেল ক্যাম্প রাখা হয়। এছাড়াও তাবলীগ জামাতের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবীরা শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার দ্বায়িত্ব পালন করেন। এর পাশাপাশি প্রশাসনের তরফেও নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইজতেমাস্থলে পুলিশ সদস্যদের দ্বায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। সব মিলিয়ে শান্তির আবহেই শেষ হয়েছে এবারের বিশাল এই ইজতেমা আয়োজন।
জেলা মারকাযের অন্যতম জিম্মাদার মো: ময়নুল ইসলাম জানান, এবারের তিনদিনের ইজতেমায় তাবলীগ সাথীদের উদ্দ্যেশে কাকরাইল মারকাযের ৯ জন শীর্ষ মুরব্বি বয়ান করেন। বয়ানে অংশ নেন জেলার জিম্মাদাররাও।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
