ফরিদপুরের নগরকান্দায় ষষ্ঠ শ্রেণির ১৪ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে ধর্ষণের দায়ে তার সৎ ফুপা মো. শরিফুল ইসলামকে (৩৩) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শরিফুল ইসলামের বাড়ি পাবনা জেলার আতাইকুলা উপজেলার নন্দনপুর গ্রামে। তবে বিয়ের পর থেকে তিনি নগরকান্দায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন। ২০২১ সালের ৮ অক্টোবর কসমেটিকস কেনার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলে ঢাকার বাইপাইলে আপন ফুপুর বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ওই স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করেন শরিফুল। পরে তাকে ঢাকায় না নিয়ে মানিকগঞ্জের একটি বাসায় আটকে রেখে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত ছয় দিন ধরে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।
পরে ভুক্তভোগী মোবাইল ফোনে স্বজনদের বিষয়টি জানালে তারা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। এ ঘটনায় ওই বছরের ১৬ অক্টোবর স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে শরিফুলকে একমাত্র আসামি করে নগরকান্দা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
মামলাটি তদন্ত শেষে নগরকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ তোফাজ্জল হোসেন ২০২১ সালের ৩০ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষ রায়ে সন্তুষ্ট। তিনি আরও বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে নারী ও শিশু নির্যাতনের অপরাধে জড়িতদের কাছে কঠোর বার্তা পৌঁছাবে। অপরাধ করে কেউ আইনের শাস্তি থেকে রেহাই পাবে না।