× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

সাতকানিয়ায় টাকা ছাড়া নড়ে না জন্মনিবন্ধন সংশোধনের ফাইল? অভিযোগের কেন্দ্রে কম্পিউটার অপারেটর

প্রতি জন্ম নিবন্ধন সংশোধনে অতিরিক্ত ৫০ টাকা।বয়স বাড়ালে ২-৫ হাজার টাকা

জোবাইর বিন জিহাদী, সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম)

০১ নভেম্বর ২০২৬, ২০:০৮ পিএম । আপডেটঃ ০১ নভেম্বর ২০২৬, ২০:২০ পিএম

জোবাইর বিন জিহাদী,সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ জন্মনিবন্ধন সনদে একটি ভুল সংশোধন করতে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা—আর জন্মতারিখ বা বয়স সংশোধনের ক্ষেত্রে অঙ্কটি পৌঁছাচ্ছে দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকায়। টাকা না দিলে কাজ আটকে রাখা, হয়রানি এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে চাপ প্রয়োগের অভিযোগও উঠেছে। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা প্রশাসন-সংশ্লিষ্ট জন্মনিবন্ধন সংশোধন কার্যক্রম ঘিরে এমন অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সাতকানিয়া উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের কম্পিউটার অপারেটর মুসা।এসিল্যান্ড বদলির সুযোগে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন অনুমোদনের ক্ষমতা পেয়ে চলছে টাকার খেলা।

সাতকানিয়া বেশকিছু ইউনিয়ন থেকে উঠে এসেছে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের একই ধরনের অভিযোগ।এমন অভিযোগ প্রায় সব ইউনিয়নে। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণ সংশোধনের প্রতিটি আবেদনে অতিরিক্ত ৫০ টাকা নেওয়া হয়। আর জন্মতারিখ বা বয়স সংশোধনের ক্ষেত্রে বয়সভেদে দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, টাকা দেওয়া হলে বয়স সংশোধনের কাজ এগোয়; টাকা না দিলে তৈরি হয় দীর্ঘসূত্রতা ও ভোগান্তি।সাতকানিয়ার প্রায় ৭ থেকে ৮ টি ইউনিয়ন পরিষদ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সচেতন মানুষের কাছ থেকে এমন গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে।তবে নানা হয়রানি ও ভয়ের আশঙ্কায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তারা।অভিযোগগুলো সত্য হলে বিষয়টি কেবল অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; নাগরিক সেবা প্রদানের স্বচ্ছতা, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির ক্ষমতার সীমা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি—সবকিছুই প্রশ্নের মুখে পড়বে।


জন্মনিবন্ধন সংশোধন নাগরিকের গুরুত্বপূর্ণ একটি সেবা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি, পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ নানা কাজে জন্মনিবন্ধনের তথ্য প্রয়োজন হয়। ফলে জন্মতারিখ বা বয়সের ভুল সংশোধন অনেকের জন্য জরুরি। এই প্রয়োজনকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হলে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েন সাধারণ মানুষ।ঘুরেফিরে মাশুলও দিতে হয় সাধারণ মানুষকে।

সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের বক্তব্যে অভিযোগ উঠেছে, সংশোধন কার্যক্রমে মুসার অদৃশ্য প্রভাব সীমাহীন।জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের অনুমোদন হাতে পেয়ে তিনিই যেন ইউএনও।কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, অতিরিক্ত টাকা না দিলে কাজ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইউএনওর নাম উল্লেখ করে চাপ প্রয়োগের অভিযোগও রয়েছে।স্বাভাবিক জন্ম নিবন্ধন সংশোধনে প্রতি জন্ম নিবন্ধন অনুমোদনে অতিরিক্ত ৫০ টাকা এবং বয়স সংশোধনে দিতে হচ্ছে দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা কিংবা আরও বেশি।

আনুপাতিকভাবে সাতকানিয়ার ১৭ টি ইউনিয়নে গড়ে প্রতি ইউনিয়নে দৈনিক ৫০টি করে জন্ম নিবন্ধন হিসাব করা হলেও ৫০ টাকায় ১৭ ইউনিয়নের মোট অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ৪০ হাজারের উর্ধ্বে।সংখ্যা আরও কমিয়ে প্রতি ইউনিয়নে গড়ে ২০টি করে জন্ম নিবন্ধন হিসাব করা হলেও ৫০ টাকায় ১৭ ইউনিয়নের মোট অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ১৭ হাজার।এই সংখ্যা নিম্ন হিসাবে।প্রশ্ন হিসাবের বাহিরে এই অতিরিক্ত টাকা কিসের ভিত্তিতে? এর বাহিরে বয়স সংশোধনে প্রতি জন্ম নিবন্ধনে দুই থেকে পাঁচ হাজারের হিসাব তো আছেই।

তবে এসব অভিযোগের সঠিক সুক্ষ্ম যাচাই, সংশ্লিষ্ট আবেদনগুলোর রেকর্ড পরীক্ষা করা জরুরি। একই সঙ্গে,সংবেদনশীল গুরুত্বপূর্ণ যে কার্যক্রমটি ইউএনওর নিয়ন্ত্রণাধীন থাকার কথা,সেটি প্রথম শ্রেণির কোন কর্মকর্তার অধীনে না থেকে কার নির্দেশে বা কোন লিখিত আদেশে সংশোধন কার্যক্রমে ভূমি অফিসের কম্পিউটার অপারেটর মুসার ভূমিকা রয়ে গিয়েছে, তা প্রকাশ্যে আসা প্রয়োজন।

ইউএনওর দায়িত্বের কাজ কীভাবে কম্পিউটার অপারেটরের হাতে? সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, আগে জন্মনিবন্ধন সংশোধন-সংক্রান্ত কিছু কাজ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত ছিল। সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজ্জামান চলে যাওয়ার পর সংশোধন কার্যক্রমে মুসার ভূমিকা বাড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে নতুন ইউএনও ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) যোগ দিলেও কার্যক্রমটি তাঁর নিয়ন্ত্রণে থেকে যায় বলে দাবি করা হয়েছে।কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই অপরাধ প্রমাণিত হয় না। কিন্তু সরকারি সেবা ঘিরে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে একই ধরনের অভিযোগ এলে তা উপেক্ষা করারও সুযোগ নেই। দায়িত্ব বণ্টনের লিখিত আদেশ, আবেদন নিষ্পত্তির রেকর্ড এবং অর্থ গ্রহণের প্রমাণ যাচাই করলেই অভিযোগগুলোর বাস্তব ভিত্তি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব।

এওচিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সচিব তিলক কান্তি দাশের কাছে উপজেলায় জন্ম নিবন্ধন সংশোধন বাবদ অতিরিক্ত কোন টাকা দিতে হয় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন এই বিষয়ে আমি কিছু মন্তব্য করতে পারছি না।

মাদার্শা ইউনিয়ন পরিষদ সচিব রাকিবুল ইসলামকে জন্ম নিবন্ধন সংশোধনে সাধারণ নাগরিক থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলায় খরচের কথা মুখ দিয়ে বলতেই থেমে যান।পরে এবিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রায় কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তারা অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়টি জানান।

এদিকে অভিযুক্ত মুসার নিকট অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগকারীর পরিচয় জানতে চান এবং অস্বীকার করে বলেন এসব ভুয়া।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব দাশ পুরকায়স্থ জানিয়েছেন, অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার জন্য তিনি কাউকে নির্দেশ দেননি।অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ তদন্ত করে পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

জন্মনিবন্ধন সংশোধন কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত অনুগ্রহ নয়—এটি নাগরিক সেবা। সেই সেবা পেতে সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে অর্থ দিতে হচ্ছে কি না, আর দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা আইন ও বিধির মধ্যে থেকে কাজ করছেন কি না—তার জবাব জনগণের জানার অধিকার রয়েছে। সাতকানিয়ার এই অভিযোগে এখন প্রয়োজন দৃশ্যমান ও নিরপেক্ষ তদন্ত, শুধু আশ্বাস নয়।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.