রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন দুই মাস পিছিয়ে গেলে তা আজীবনের জন্য অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার। তিনি বলেন, ‘যদি দুই মাস পেছায় রাকসু, আর আজীবন রাকসু হবে না, যদি না আরেকটা গণ-অভ্যুত্থান হয়।’
রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট চত্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় রাকসুর পরবর্তী নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রকাশ ও তফসিল ঘোষণা এবং নির্বাচিত সিনেট ছাত্র প্রতিনিধিদের শপথ গ্রহণ ও সিনেট অধিবেশন আহ্বানের দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আম্মার বলেন, রাকসু শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়, নেতৃত্ব বিকাশ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে তাঁদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তাই একটি কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পরবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া এবং নিয়মিত নির্বাচন আয়োজনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এজন্য রাকসুর পরবর্তী নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ প্রকাশ ও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি।
সিনেট অধিবেশন আহ্বানের দাবি জানিয়ে আম্মার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক কাঠামো, জবাবদিহি ও নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান সিনেট। নির্বাচিত সিনেট ছাত্র প্রতিনিধিদের অবিলম্বে শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা, সিনেট অধিবেশনের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা এবং নিয়মিত অধিবেশন আয়োজন করতে হবে।
এদিকে রাকসু আদায়ে শিক্ষার্থীদের দল, মত ও রাজনৈতিক আদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান সালাউদ্দিন আম্মার। তিনি বলেন, ‘নিজের জায়গা থেকে আমি রাকসু আদায়ের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব। তবে শিক্ষার্থীরা যদি নিজেদের অবস্থান থেকে ছাত্র সংসদ আদায়ের দাবিতে কাজ না করেন, তাহলে ভবিষ্যতে এর দায় তাঁদেরও নিতে হবে।’
রাজনীতিবিমুখতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেউ নিজেকে রাজনীতিবিমুখ দাবি করলেও সেটিও একটি রাজনৈতিক অবস্থান। পৃথিবীতে রাজনীতির বাইরে কেউ নেই। রাকসু আদায়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কণ্ঠস্বর গুরুত্বপূর্ণ। মাঠে এসে কথা বলার সাহস না থাকলেও অন্তত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে সমর্থন জানানো উচিত। এমনকি সরাসরি সমর্থন জানাতে না পারলেও শিক্ষার্থীদের এই দাবির বিরোধিতা না করার আহ্বান জানান তিনি।
ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হলে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কার্যক্রম, দখলদারত্ব ও আসন-বাণিজ্যসহ অতীতে প্রচলিত নানা অনিয়ম আবারও ফিরে আসতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন আম্মার। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের অধিকার ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন জরুরি।
রাকসু আদায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, সাবেক জিএস হিসেবে আরেকটি রাকসু আদায় করে দেওয়া তাঁদের দায়িত্ব ছিল। প্রশাসন চাইলে নির্বাচন আয়োজন করতে পারে। এ জন্য প্রথমে স্মারকলিপি, পরে মানববন্ধন এবং প্রয়োজন হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
