চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ১৭ বছর আগে দায়ের করা ঝন্টু হত্যা মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই দিনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় শফিউল্লাহ (৬০) নামের আরও এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
হত্যা মামলায় প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের কারাদণ্ড এবং মাদক মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) চুয়াডাঙ্গা জেলা ও দায়রা জজ এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোক্তাগীর আলম ঝন্টু হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। একই দিন দুপুরে চুয়াডাঙ্গার বিশেষ দায়রা জজ আদালত ও পারিবারিক আপিল আদালতের (জেলা ও দায়রা জজ) বিচারক শিমুল কুমার বিশ্বাস মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলার রায় দেন।
ঝন্টু হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আলমডাঙ্গার গাংনী ইউনিয়নের শালিকা গ্রামের সোলায়মান আলীর ছেলে ইসমাইল হোসেন এবং একই গ্রামের মৃত আবু ছদ্দিনের ছেলে আবুল কালাম আজাদ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত ঝন্টুর বাবা জাহা বক্স মণ্ডল ২০০৯ সালের ২০ এপ্রিল আলমডাঙ্গা থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ইসমাইল হোসেন এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে অভিযুক্ত করা হয়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বাদী ও অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেন পান ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০০৯ সালের ১৯ এপ্রিল রাত সাড়ে ৭টার দিকে মোবাইল ফোনে ইসমাইলের কল পেয়ে টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন ঝন্টু। পরদিন গ্রামের একটি ধানখেতে তার মরদেহ পাওয়ার খবর আসে। আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে এজাহারে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়।
মামলার তদন্তে ইসমাইল হোসেনের পাশাপাশি আবুল কালাম আজাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও উঠে আসে। তদন্ত কর্মকর্তা ২০০৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর তাদের দুজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন। পরবর্তী সময়ে তদন্ত কর্মকর্তা তাদের দুজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) দাখিল করেন।
দীর্ঘ ১৭ বছর বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। একইসঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রায়ের বিষয়ে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট আ. স. ম. আব্দুর রউফ বলেন, ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। পরিবারটি ন্যায়বিচার পেয়েছে।
আলমডাঙ্গায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় শফিউল্লাহ (৬০) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত শফিউল্লাহ আলমডাঙ্গা উপজেলার কালিদাসপুর দক্ষিণপাড়ার মৃত জালাল উদ্দীনের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১৯ অক্টোবর শফিউল্লাহর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে শোকেসের মধ্যে ২২ অ্যাম্পুল বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন উদ্ধার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। প্রতিটি অ্যাম্পুলে ২ মিলিলিটার করে মোট ৪৪ মিলিলিটার ইনজেকশনের আনুমানিক মূল্য ছিল ৬ হাজার ৬০০ টাকা। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় মামলা করা হয়। বিচারিক কার্যক্রম শেষে চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর সাঈদ মাহমুদ শামীম রেজা ডালিম বলেন, এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। মাদকের বিস্তার রোধে এ রায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা করছি। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান বাস্তবায়নেও এ ধরনের রায় ভূমিকা রাখবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
