মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার ধাইসার গ্রামের আমেরিকা প্রবাসী সৈয়দ কাওছার আলী ২০২৫ সালে তাঁর প্রথম স্ত্রীকে আমেরিকায় ডির্ভোস দেন। এর পর চলতি বছরের ১ অক্টোবর দেশে আসেন। দেশে আসার দুই সাপ্তাহ পর ১৬ অক্টোবর পারিবারিক সিদ্ধান্তে দ্বিতীয় বিয়ের জন্য দিন তারিখ চুড়ান্ত হয়।বিয়ে ঠিক করা হয় মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নালিহুরী গ্রামের আব্দুল ওয়াহিদ এর মেয়ের সাথে।
তবে সবকিছু চুড়ান্ত হওয়ার পর কনে পক্ষ মিথ্যা অজুহাতে বিয়ের আগের রাতে সেই বিয়ে বাতিল করে দেন বলে অভিযোগ করেন বর আমেরিকা প্রবাসী সৈয়দ কাওছার আলীর বড় ভাই সৈয়দ শাহাদত আলী শামীম
রবিবার (২৫ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সৈয়দ শাহাদত আলী শামীম তাঁর ছোট ভাই এর বিয়ে বাতিলের এই ঘটনায় কনে পক্ষের বিরুদ্ধে আর্থিক ও সামাজিক মান ক্ষুন্নের অভিযোগে লিখিত প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমার ছোট ভাই আমেরিকা প্রবাসী সৈয়দ কাওছার আলী ২০১৩ সালে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার একাটুনা ইউনিয়নের বরমান গ্রামের মৃত মানিক মিয়ার মেয়ে আমেরিকা প্রবাসী আমিনা বেগমকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর আমার ছোট ভাই সৈয়দ কাওছার আলীকে আমেরিকায় নিয়ে যান আমিনা বেগম। তবে আমার ভাই সৈয়দ কাওছার আলী তাঁর প্রথম স্ত্রীকে ২০২৫ সালে ডির্ভোস দেন। ডির্ভোসের একবছর পর চলতি বছরের ১ অক্টোবর বৈধভাবে বিয়ে করতে দেশে আসেন।
১৬ অক্টোবর মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নালিহুরী গ্রামের আব্দুল ওয়াহিদ এর মেয়ের সাথে আমার ভাইয়ের বিবাহের দিন ধার্য্য ছিলো। এ জন্য বর-কনে পক্ষের মুরব্বীরা একত্রে বসে আগেই বিয়ে আয়োজনের সবকিছু ঠিক করেন। মেয়ে দেখার পর সবকিছু আলাপ-আলোচনা হয় এবং বর-কনে পক্ষের মুরব্বীদের উপস্থিতিতে বিবাহের তারিখ ধার্য্য হয়। বর পক্ষ থেকে ১০ লক্ষ টাকা কাবিন, শাড়ী সহ প্রয়োজনীয় কাপর-চোপর ও ৩ বড়ি স্বর্ণ দেয়ার সিদ্ধান্তে উভয় পক্ষ সম্মত হন।
এর পর বিয়ের আগেরদিন কাপর ও স্বর্ণ নিয়ে কনের বাসায় গিয়ে সেগুলোও আমরা লোকজন সাথে নিয়ে পৌঁছে দেই। কিন্তু বিয়ের আগের রাত ৩টার দিকে আব্দুল ওয়াহিদ ফোন করে জানান তাঁর মেয়েকে আমার ভাইয়ের কাছে বিয়ে দিবেন না।
তবে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার ঠিক আগমুহুর্তে কনে পক্ষ থেকে বিয়ে বাতিলে বর পক্ষকে জানালে ভেঙ্গে যায় আমার ভাই কাওছার আলীর সপ্ন। এর কারণ হিসেবে কনে পক্ষ থেকে জানানো হয় কাওছার আলী প্রথম বিয়ের তথ্য সম্পূর্ণ গোপন রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করতে যাচ্ছেন। কিন্তু কনে পক্ষকে আমেরিকার আদালতের আদেশে আমার ভাইয়ের প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্সের বিষয়টি আগেই জানানো হয়েছিল। এমন কী এ সংক্রান্ত কাগজপত্র ওয়ার্টসআ্যাপে আগেই পাঠানো হয়েছিল।
তিনি বলেন, প্রথম স্ত্রীকে অনেক আগে ডির্ভোস দেয়ার পর দেশে এসে বৈধভাবে বিয়ে করতে এসে কনে পক্ষ কর্তৃক বিয়ে বাতিল হওয়ায় আমাদের পরিবার আর্থিক ও সামাজিক ভাবে সম্মানহানীর স্বীকার হয়েছেন। এছাড়াও সামাজিক মাধ্যম সহ গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়। আমি আমার ভাই ও পরিবারের পক্ষ থেকে এর সুষ্টু বিচার চাচ্ছি। কনের পিতা আব্দুল ওয়াহিদ আমার ভাই ও আমাদের পরিবারের মানসম্মান নষ্ট করেছেন, আমার গ্রামের মানসম্মান ক্ষুন্ন হয়েছে।
সৈয়দ শাহাদত আলী শামীম বলেন,
অনলাইনে যাচাই করলেই এক বছর আগে যে ডির্ভোস দেয়া হয়েছে এর সত্যতা পেয়ে যাবেন, এমন কী সেখানে ডকেট নাম্বারও পেয়ে যাবেন। আমরা কোন মিথ্যার আশ্রয় নেইনি, আমরা সম্পূর্ণ সত্যর আশ্রয় নিয়ে তাদের সাথে সম্পর্ক করতে চেয়েছি। আমরা মেয়ের বাবা আব্দুল ওয়াহিদকে ওয়ার্টসঅ্যপে প্রথম স্ত্রীকে ডির্ভোস দেয়ার কাগজপত্র দিয়েছি। এছাড়াও ডির্ভোসের কাগজ যাচাই করতেও বলেছি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
