রাজধানী ঢাকার ‘কিচেন গার্ডেন’ হিসেবে পরিচিত মানিকগঞ্জের সিংগাইরে পেঁপের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে ফলন ভালো হলেও বাজারদরের পতনে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২ থেকে ৩ টাকায়। এ দামে উৎপাদন খরচের সামান্য অংশও তুলতে পারছেন না অনেকে। শ্রমিকের মজুরি ও পরিবহন খরচ না ওঠায় ক্ষেত থেকে পেঁপে তুলছেন না চাষিরা। গাছে পেকে ও মাটিতে পড়ে নষ্ট হচ্ছে বিপুল পরিমাণ ফল।লোকসানের বোঝা সইতে না পেরে কেউ কেউ কেটে ফেলছেন পেঁপেগাছ।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সিংগাইরে শাহীসহ বিভিন্ন উচ্চফলনশীল জাতের পেঁপে চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় ৯০০ হেক্টর জমিতে। অনুকূল আবহাওয়ায় ফলন ভালো হয়েছে। তবে একই সময়ে বাজারে পেঁপের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে বিপর্যয়। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি হওয়ায় দরপতনে লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষিরা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক বাগানে গাছে ঝুলছে পাকা পেঁপে। কোথাও কোথাও ফল পড়ে পচে যাচ্ছে। উৎপাদন খরচের তুলনায় বিক্রয়মূল্য এতটাই কম যে, ক্ষেত থেকে ফল সংগ্রহ করে বাজারে নেওয়াও কৃষকদের জন্য লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর্থিক সংকটে অনেকেই বাগানের পরিচর্যা কমিয়ে দিয়েছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি বাবদ উৎপাদন খরচ ক্রমাগত বাড়ছে। এর মধ্যে সরকারি নির্ধারিত দামে সার না পেয়ে অনেক সময় বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। ফলে একদিকে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় লোকসানের পরিমাণও বাড়ছে।
কৃষকদের মতে, পেঁপে সংরক্ষণের উপযুক্ত ব্যবস্থা, বিকল্প বাজার সৃষ্টি এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে এ পরিস্থিতি থেকে কিছুটা হলেও উত্তরণ সম্ভব। তা না হলে বাম্পার ফলন সত্ত্বেও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে পেঁপে চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন অনেক কৃষক।
এ বিষয়ে সিংগাইর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কিশোর আহমেদ বলেন, এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পেঁপে আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে। তবে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে বাজারে সাময়িকভাবে দাম কমেছে। পেঁপে সংরক্ষণের জন্য হিমাগার স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলেও জানান তিনি।