মৌলভীবাজারে আলোচিত বিএনপি নেত্রী ও জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য শ্যামলী সূত্র ধরকে দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে শ্যামলী সুত্রধরকে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে দলীয় প্যাডে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ুন ও সদস্য সচিব মো. আবদুর রহিম রিপন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর গঠনতন্ত্র, নীতি ও আদর্শপরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শ্যামলী সুত্রধরের বিরুদ্ধে দলের দায়িত্বশীল মহলের দৃষ্টিগোচর হয়েছে এবং জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
এ অবস্থায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য তাঁকে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চিঠিতে আরও বলা হয়, এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। চিঠির অনুলিপি বিএনপির কেন্দ্রীয় ও সিলেট বিভাগীয় নেতাদের পাশাপাশি মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সংশ্লিষ্ট নেতাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বুধবার রাত ১২ টার দিকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহবায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন বলেন, শ্যামলী সূত্র ধর এর বিরুদ্ধে আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এছড়াও তিনি সম্প্রতি নিজেকে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেয়া সংক্রান্ত বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এটি দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী। তিনি বলেন, সম্প্রতি দলের নেতাদের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগও আসছে।
এদিকে গত কয়েকদিন যাবত শ্যামলী সূত্রধর সামাজিক মাধ্যমে নিজেকে আগামীতে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন। এমন কী উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীতা করার জন্য উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও জানান দেন তিনি। এ সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়াও শারদীয় দুর্গাপুজা উপলক্ষে শহরের সৈয়ারপুর এলাকার ত্রিণয়নী পূজা মণ্ডপের সামনের সড়কে ও আশপাশের সড়কে নিজের স্বামীকেও আগামীতে পৌরসভার সম্ভাব্য কাউন্সিলর হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন এমন বিলবোর্ড প্রচার করতেও দেখা গেছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে দলের নিদ্ধান্তের বাহিরে গিয়ে নিজেকে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী ঘোষণা করা সহ এসব বিষয় দলের শীর্ষ নেতারা ভালভাবে নেননি। অনেকেই অসন্তুষ্ট শ্যামলী সূত্র ধরের সাম্প্রতিক এসব কর্মকাণ্ডে।